ইতালির পদুয়া ইউনিভার্সিটি এবং যুক্তরাজ্যের ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডনের গবেষকরা সম্প্রতি ইতালির তিন হাজার বাসিন্দার ওপর একটি পরীক্ষা চালায়। যাদের ওপর ওই পরীক্ষা চালানো হয় তারা গত বছরের ফেব্রুয়ারি এবং মার্চের মধ্যে সার্স-কভ-২ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছিলেন। পরীক্ষায় দেখা যায়, করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের শরীরে কভিড অ্যান্টিবডি থাকে নয় মাস। গতকাল সোমবার এ সংক্রান্ত একটি গবেষণাপত্র ন্যাচার কমিউনিকেসন্সে প্রকাশিত হয়।
গবেষক দলটি ভো শহরের ওই তিন হাজার বাসিন্দার শরীরে ২০২০ সালের মে এবং নভেম্বর মাসে অ্যান্টিবডি পরীক্ষা চালায়। এতে দেখা যায়, ওই ব্যক্তিদের মধ্যে ৯৮ দশমিক ৮ শতাংশের শরীরেই অ্যান্টিবডি রয়েছে। গবেষণায় আরও দেখা যায়, যাদের শরীরে করোনার উপসর্গ প্রকাশ পেয়েছে এবং যারা উপসর্গহীন তাদের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। গবেষণাপত্রের শীর্ষ গবেষক লারিয়া দোরিগাতি বলেন, ‘লক্ষণযুক্ত ও উপসর্গহীনের শরীরে অ্যান্টিবডির পার্থক্য রয়েছে এমন কোনো প্রমাণ আমরা পাইনি। এর মানে ইমিউন সিস্টেমের শক্তিমত্তা উপসর্গ ও সংক্রমণের মাত্রার ওপর নির্ভর করে না। যদিও আমাদের গবেষকরা বলছেন, অ্যান্টিবডির লেভেলে পার্থক্য হয়। আর তা হয় পরীক্ষার সময়ের পার্থক্যের কারণে।’
মোট তিনটি পরীক্ষার মধ্য দিয়ে গবেষকরা অ্যান্টিবডি নয় মাসে থাকে এ ব্যাপারে সিদ্ধান্তে এসেছেন। পরীক্ষাগুলোতে তারা বিভিন্ন ধরনের অ্যান্টিবডি শনাক্ত করতে পেরেছেন যেগুলো ভাইরাসটির বিভিন্ন অংশের সঙ্গে প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে। মে ও নভেম্বরে যখন পরীক্ষা করা হয় ভো শহরের বাসিন্দাদের, তখনই ওই তারতম্য বোঝা যায়। তবে সবচেয়ে মজার বিষয় হলো, কোনো ব্যক্তি যদি দ্বিতীয়বার করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হন, তাহলে তার শরীরে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতাও বেড়ে যায়।
অধ্যাপক এনরিকো লাভেজ্জোর মতে, ‘মে মাসের পরীক্ষায় তিন হাজার বাসিন্দার মধ্যে সাড়ে তিন শতাংশকে আক্রান্ত পাওয়া যায়। এদের মধ্যে সবাই যে সচেতন ছিলেন তাদের সংক্রমণের ব্যাপারে এমন নয়। সংক্রমিতদের মধ্যে বড় সংখ্যকই উপসর্গহীন। অ্যান্টিবডি যেহেতু দীর্ঘসময় ধরে শরীরে থাকছে না তাই অ্যান্টিবডির অস্তিত্ব সম্পর্কে আরও গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে।’