ফরিদপুরে বীরঙ্গনার দুয়ারে ঈদ উপহার নিয়ে জেলা প্রশাসক

আষাঢ়ের ঘন বাদল দিনে স্নিগ্ধ ও বৃষ্টিভেজা সকালে বীরঙ্গনার নবনির্মিত দুয়ারে তার খোঁজ নিতে ছুটে গেছেন ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক অতুল সরকার।

বীর মুক্তিযোদ্ধাসহ নানা শ্রেণির মানুষের দুয়ারে প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহার-মানবিক সহায়তা প্রদান আর ত্রাণ তৎপরতার অব্যাহত অংশ হিসেবে জেলা প্রশাসকের এ আগমন।

ফরিদপুর সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকতা মো. মাসুম রেজা জানান, সকাল ১১টায় ফরিদপুর পৌরসভার শোভারামপুর এলাকার বাসিন্দা নিঃসন্তান মায়া রানীর দুয়ারে পৌঁছান জেলা প্রশাসক অতুল সরকার। তিনি বীরঙ্গনা মায়া রানীর সার্বিক খোঁজখবর নেন। এ সময় তিনি তাকে ফুল দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহার পৌঁছে দেন। এ সময় ফরিদপুর সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মো. আব্দুর রাজ্জাক মোল্যা উপস্থিত ছিলেন।

ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক অতুল সরকার বলেন, মুজিববর্ষ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী দেশব্যাপী ভূমিহীন-গৃহহীনদের জন্য ভূমি প্রদান ও গৃহ নির্মান কার্যক্রম গ্রহণ করেছেন, তারই অংশ হিসেবে উপজেলা পরিষদের রাজস্ব তহবিল থেকে একটি ঘর করে দিতে পেরেছি। তিনি জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান। তিনি আমাদের বীরঙ্গনা। আমরা এই ঘর দিয়ে শুরু করলাম। ভবিষ্যতে তার জন্য আরো কিছু করার চেষ্টা করব। তার যেন থাকা খাওয়া সমস্যা না হয় সেজন্য সবসময়ই আমাদের প্রশাসন যোগযোগ করবে।

জানা যায়, মহান মুক্তিযুদ্ধে নিজ বাড়িতে ১৬ বছর বয়সে হানাদার বাহিনী ও স্থানীয় দোসরদের দ্বারা নির্যাতিত হন মায়া রানী সাহা। ফরিদপুর বর্ধিত পৌরসভার শোভারামপুরের বাসিন্দা মায়া রানী সাহা দীর্ঘদিন ধরে অসহায়ভাবে জীবন-যাপন করছিলেন। তার ছিল না কোন স্বীকৃতি কিংবা ভরসার জায়গা। খবর পেয়ে গণশুনানীর সময় ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক অতুল সরকার এর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন মায়া রানী।

পরে জেলা প্রশাসক ফরিদপুর সদর উপজেলার নির্বাহী অফিসার মো. মাসুম রেজাকে নির্দেশনা প্রদান করেন মায়া রাণী সাহার বিষয়ে সরেজমিনে তদন্ত করে সুস্পষ্ট মতামতসহ জামুকায় প্রতিবেদন প্রেরণের।

সেই নির্দেশনার আলোকে গত বছরের ১৪ জানুয়ারি উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নেতৃত্বে উপজেলা বীরাঙ্গনা যাচাই-বাছাই সংক্রান্ত গঠিত বিশেষ কমিটি প্রতিবেদন প্রস্তুতকরে জামুকা বরাবর প্রেরণ করেন। তার প্রেক্ষিতে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে মায়া রাণী সাহাকে গেজেটে বীরাঙ্গনা হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।

এদিকে বীরাঙ্গনা হিসেবে স্বীকৃতি পেলেও তার ছিল না কোনো থাকার ঘর। মায়া রানী সাহার জন্য বসতঘর নির্মাণের উদ্যোগ নেন জেলা প্রশাসক অতুল সরকার। ফরিদপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার তত্ত্বাবধানে একটি সেমিপাকা ঘর নির্মানের কাজ শুরু করে মায়া রানী সাহার জরাজীর্ণ বসত ভিটায়। বর্তমানে নির্মাণ কাজ সমাপ্ত হয়েছে।