ক্রিকেটের পথপ্রদর্শক বাবাকে হারালেন বিপ্লব

স্বপ্ন পূরণ হয়েছিল আমিনুল ইসলাম বিপ্লবের বাবা আবদুল কুদ্দুসের। ছেলেকে দেশের জার্সিতে খেলতে দেখেছেন জাতীয় ক্রিকেট দলে। সিএনজি অটোচালক হয়েও ছেলেকে ক্রিকেটার বানানোর কঠিন চ্যালেঞ্জে হারেননি। কিন্তু স্বপ্নটা ধারাবাহিক হওয়ার আগেই ৬২ বছর বয়সে পৃথিবীর মায়া কাটালেন। গত বৃহস্পতিবার রাতে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান আবদুল কুদ্দুস। হারারেতে জাতীয় দলের সঙ্গে থাকা বিপ্লব খবর পেয়ে জিম্বাবুয়ে সফর বাকি রেখেই আজ সকালে দেশে ফিরছেন। গতকাল জুমার নামাজের পর খিলগাঁওয়ের সিপাহীবাগ বাজার জামে মসজিদের কবরস্থানে দাফন করা হয় বিপ্লবের বাবা আবদুল কুদ্দুসকে। ফলে বাবাকে শেষ দেখাটাও দেখতে পারেননি বিপ্লব। তার বাবার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।

বিপ্লবের ক্রিকেটার হওয়ার পথপ্রদর্শক তার বাবা। নিম্ন মধ্যবিত্তের বড় পরিবারটিকে টানতে সিএনজি অটোচালক বাবার কষ্ট হয়েছে খুব। শরীয়তপুর থেকে এসে খিলগাঁওয়ের সিপাহীবাগের আইসক্রিম গলির একটি ভাড়া বাসায় থেকেছেন পাঁচ ছেলেমেয়ের পরিবার নিয়ে। কিন্তু বিপ্লবকে কখনই ক্রিকেটে এগিয়ে যাওয়ার পথে বাধা পড়তে দেননি। ছোটবেলা থেকে বিপ্লবের ক্রিকেটের প্রতি ঝোঁক দেখে বিভিন্ন ক্রিকেট অ্যাকাডেমি হয়ে ধানম-িতে কোচ ওয়াহিদুল গণির অ্যাকাডেমিতে ভর্তি করান বিপ্লবকে। এখান থেকেই এ লেগ স্পিনারের শুরু। এরপর বিকেএসপিতে সুযোগ পেয়ে জাতীয় বয়সভিত্তিক দলগুলো হয়ে ২০১৯ সালে জাতীয় দলে। সে বছর জিম্বাবুয়ে ও আফগানিস্তানকে নিয়ে হওয়া ত্রিদেশীয় সিরিজে অভিষেক হয় তার। ছেলের অভিষেকের দিনেও ঢাকার পথে সিএনজি অটো চালাচ্ছিলেন বিপ্লবের বাবা। অসুস্থতার কারণে অবশ্য ধীরে ধীরে এই কষ্টের কাজ থেকে সরে আসতে হয়েছে তাকে। 

ত্রিদেশীয় সিরিজের সাফল্য বিপ্লবকে ভারত সফরের দলে জায়গা এনে দেয়। এরপর ইনজুরির কারণে দলের বাইরে ছিলেন। জিম্বাবুয়ে সফরে দলে ফিরে নিশ্চয়ই তার ইচ্ছা ছিল বাবাকে আবারও পারফরম্যান্স দিয়ে গর্বিত করবেন। কিন্তু তা আর হলো না।