চীনে যুক্তরাষ্ট্রের তহবিলে গবেষণা!

করোনাভাইরাসের উৎপত্তিস্থল নিয়ে এখনো ধোঁয়াশায় বিশ্বের বিজ্ঞানীরা। চীনের উহান থেকে সূত্রপাত হওয়ার কারণে ধরে নেওয়া হচ্ছে যে চীন থেকেই করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছে। কিন্তু এমন ধারণার পক্ষে নিরেট কোনো প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি। আর এই প্রমাণের জন্যই যুক্তরাষ্ট্র সরকার বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাকে বারবার চাপ দিচ্ছে করোনার উৎস সন্ধানে। এর আগে দুইবার বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিনিধিরা চীনে গিয়েছিলেন তদন্তের জন্য। দ্বিতীয়বার চীন সরকার ডব্লিউএইচওর প্রতিনিধিদলকে পর্যাপ্ত তথ্য দিয়ে সহায়তা করেনি।

এবারও চীন নতুন কোনো তথ্য দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। কিন্তু এসব ঘটনার মধ্যেও বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, গোপনে যুক্তরাষ্ট্রের তহবিলে চীনে ভাইরাস গবেষণা চালানো হয়েছিল।

বিবিসির এমন তথ্য প্রকাশের পর একদল ষড়যন্ত্রতত্ত্ববিদ বলছেন, উহানের যে ল্যাবরেটরি থেকে করোনাভাইরাস ছড়িয়েছে, ওই ল্যাবেই বিশাল অঙ্কের বিনিয়োগ আছে যুক্তরাষ্ট্রের। রিপাবলিকান সিনেটর র‌্যান্ড পল দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থায়নে কিছু ভাইরাস নিয়ে গবেষণা হয়েছে চীনে। তবে এই ভাইরাসগুলোর মধ্যে কভিড-১৯ রয়েছে কি না, সে বিষয়ে ওই সিনেটর কোনো তথ্য দেননি। তবে র‌্যান্ড পলের এমন দাবি প্রত্যাখ্যান করেছেন যুক্তরাষ্ট্রে শীর্ষ সংক্রামক বিশেষজ্ঞ অ্যান্থনি ফাউচি।

চীনের যে ভাইরাস গবেষণায় যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগ রয়েছে, ওই প্রকল্পটির নাম ‘গেইন অব ফাংশন’। এখানে পেইন অব ফাংশন বলতে বিবর্তনের মাধ্যমে জীবের নতুন সমর্থ অর্জনের বিষয়টি বোঝানো হয়েছে। এই বিবর্তন প্রাকৃতিকভাবেই হয় মূলত। তবে বিজ্ঞানীরা চাইলে ল্যাবেও ওই বিবর্তন ঘটাতে পারে। এ ক্ষেত্রে জেনেটিক কোড ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের সহায়তা নেওয়া হয়। প্রকল্পটির নামের কারণেই সন্দেহ আরও উসকে উঠেছে যে কৃত্রিমভাবে ভাইরাসের বিবর্তন ঘটাতে গিয়েই কভিড-১৯ ছড়িয়ে পড়েছে কি না। উদাহরণ হিসেবে বলা হচ্ছে, বিজ্ঞানীরা জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং করে এমন গাছ সৃষ্টির চেষ্টা করছেন, যা খরাপ্রবণ অঞ্চলেও টিকে থাকতে পারে বা এমন গাছ যা মশাকে প্রতিরোধ করতে পারে। অবশ্য বিজ্ঞানীরা শুরু থেকেই বলে আসছেন যে কৃত্রিমভাবে ভাইরাসের বিবর্তন ও পরিবর্তন করতে গেলে সংক্রমণের হার বেড়ে ভাইরাসটি বিপজ্জনক হয়ে উঠেতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব অ্যালার্জি অ্যান্ড ইনফেকসাস ডিজিসেস (এনআইএআইডি) এবং ন্যাশনাল ইনস্টিটিউটস অব হেলথ (এনআইএইচ) যৌথভাবে গবেষণার জন্য উহানের ল্যাবে বিনিয়োগ করেছে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ইকোহেলথ অ্যালায়েন্স ২০১৪ সালে বাদুর থেকে করোনাভাইরাস সংক্রমণ গবেষণায় অবদানের জন্য ছয় লাখ ডলার অনুদান পেয়েছিল, যা সরাসরি চলে যায় উহানের ইনস্টিটিউট অব ভাইরোলজিতে।