সবজির দাম কমলেও মাছের বাজার চড়া

ঈদের পরে চলা ‘কঠোর লকডাউন’-এর মধ্যেও গতকাল শনিবার সবজির বাজারে এসেছে কিছুটা স্বস্তি। ঈদের ছুটির পর ‘লকডাউন’ শুরু হওয়ায় গত শুক্রবার দোকান খোলার সংখ্যা কম থাকলেও গতকাল শনিবার দোকান খুলেছে অনেক। তবে, সাধারণ ক্রেতাদের ভোগাচ্ছে মাছের দাম। এখনো বেশিরভাগ মাছের দোকান বন্ধ রয়েছে। যারা খুলেছেন সরবরাহ কম থাকার অজুহাতে তারা চড়া দামে বিক্রি করছেন।

গতকাল শনিবার রাজধানীর কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা যায়, বেশ কয়েকটি সবজি কেজিপ্রতি ২০ থেকে ৩০ টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে। শুক্রবারও এসব সবজি কিনতে ক্রেতাদের ৪০ টাকার ওপরে খরচ করতে হয়েছে। সবজির দাম কমার বিষয়ে ব্যবসায়ীরা জানান, এখনো মানুষের ঘরে ঘরে কোরবানির মাংস রয়েছে। ফলে সবজির চাহিদা কম। কিন্তু দুই দিন বন্ধ থাকার পর প্রায় সব দোকান খুলে গেছে এবং বাজারে সবজির সরবরাহ বেড়েছে। এ কারণে সবজির দাম কমেছে।

তবে, সালাদের আবশ্যক উপকরণ হিসেবে আগের মতো এখনো সবচেয়ে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে গাজর ও টমেটো। গতকাল এক দিনের ব্যবধানে এ সবজি দুটির দাম কেজিতে ৫০ টাকা পর্যন্ত কমেছে।

মানভেদে গাজরের কেজি বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১২০ টাকা, যা গতকাল ছিল ১৫০ থেকে ১৭০ টাকা। আর গতকাল ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা কেজি বিক্রি হওয়া পাকা টমেটো এখন ১০০ থেকে ১১০ টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে।

গাজর ও টমেটোর সঙ্গে বেগুন, ঝিঙে, ঢেঁড়স, করলা, শসা, কাঁচকলা, পেঁপের দামও কমেছে। গতকাল ৬০ থেকে ৭০ টাকা কেজি বিক্রি হওয়া বেগুনের দাম কমে ৩০ থেকে ৪০ টাকার মধ্যে চলে এসেছে।

ঝিঙের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ টাকা, যা গত শুক্রবার ছিল ৬০ থেকে ৭০ টাকা। করলার কেজি বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ টাকা, যা ছিল ৬০ থেকে ৭০ টাকা। চিচিঙ্গার কেজি বিক্রি হচ্ছে ৩০ থেকে ৪০ টাকা, যা শুক্রবার ছিল ৫০ থেকে ৬০ টাকা।

গত শুক্রবার ৩০ থেকে ৪০ টাকা কেজি বিক্রি হওয়া পটোলের দাম কমে গতকাল ২০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। কেজিপ্রতি ৪০ থেকে ৫০ টাকা বিক্রি হওয়া কাঁচা পেঁপে ২৫ থেকে ৩০ টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে। ৩৫ থেকে ৪০ টাকা বিক্রি হওয়া কাঁচকলার হালি ক্রেতারা ২০ থেকে ২৫ টাকায় কিনতে পারছেন।

এছাড়াও ঢেঁড়সের কেজি পাওয়া যাচ্ছে ২০ থেকে ৩০ টাকার মধ্যে, যা গত শুক্রবার ছিল ৪০ থেকে ৫০ টাকা। শুক্রবার ৩০ থেকে ৩৫ টাকা পোয়া (২৫০ গ্রাম) বিক্রি হওয়া কাঁচা মরিচ গতকাল ১৫ থেকে ২০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। বরবটির কেজি ছিল ৫০ থেকে ৬০ টাকায়, যা আগে ছিল ৭০ থেকে ৮০ টাকা।

সবজির দামের বিষয়ে গতকাল মেরুল বাড্ডার ব্যবসায়ী আব্দুল হাকিম বলেন, ‘গতকালও (শুক্রবার) আমরা কয়েকজন দোকান খুলেছিলাম। আড়তেও মাল কম ছিল। আজ সবাই চলে এসেছেন। আড়তেও সবজির সরবরাহ বেড়েছে। এ কারণে সব ধরনের সবজির দাম কমেছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘ঘরে ঘরে কোরবানির মাংস থাকায় এখন সবজির চাহিদা কম। তবে দুই দিন পর ঠিকই সবজির চাহিদা বাড়বে, তখন দামও বাড়বে। এখন যেসব সবজি মানুষ ২০-৩০ টাকায় কিনছেন, এ সবজিই দুই দিন পর ৫০-৬০ টাকা দিয়ে কিনে খাবেন।’

কাঁঠালবাগানের ব্যবসায়ী শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘ঈদের ছুটির কারণে গতকাল (শুক্রবার) আড়তে সবজি কম এসেছিল। আজ (গতকাল) আড়তে সবজির অভাব নেই। দামও তুলনায় কম। ফলে আমরা কিছুটা কম দামে সবজি বিক্রি করতে পারছি।’

এদিকে মাছ বাজারে গিয়ে বেশিরভাগ দোকান বন্ধ দেখা যায়। যারা খুলেছেন তাদের কাছে সব ধরনের মাছ পাওয়া যাচ্ছে না। বাড্ডার বাজারে গিয়ে দেখা যায়, মাছের মাত্র চারটি দোকান খোলা রয়েছে। এ দোকানগুলোতে চিংড়ি, রুই, মৃগেল মাছ বিক্রি করতে দেখা যায়।

ব্যবসায়ীরা চিংড়ি মাছের কেজি আকারভেদে চাচ্ছেন ৮০০ থেকে ৮৫০ টাকা কেজি, যা ঈদের আগে ছিল ৬০০ থেকে ৬৫০ টাকা। রুই মাছের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৩২০ থেকে ৩৫০ টাকা, যা ঈদের আগে ছিল ২৪০ থেকে ৩২০ টাকা। তবে মৃগেল মাছের কেজি আগের মতো ২২০ থেকে ২৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

বাজারের ব্যবসায়ী জসিম উদ্দিন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘সবাই এখনো কোরবানির মাংস খাচ্ছে। মাছের প্রতি চাহিদা নেই। এ কারণে এখনো মাছের বেশিরভাগ দোকান বন্ধ রয়েছে। আড়তেও মাছ কম আসছে। আগামী সপ্তাহ থেকে মাছের বাজার স্বাভাবিক হয়ে যেতে পারে।’

গতকাল কারওয়ান বাজারে মাছের দোকানগুলোর অধিকাংশই বন্ধ ছিল। যে কয়েকটা দোকান খোলা ছিল সেগুলোতেও আগের তুলনায় মাছের আধিক্য দেখা যায়নি। সাগর মিঞা নামে এক মাছ ব্যবসায়ী ইলিশ মাছের কেজি চাইলেন ১১০০ টাকা। বড় পাবদা মাছ ৬৫০ টাকা যা ঈদের আগে ৪০০ টাকায় বিক্রি করেছেন তিনি।

মাংসের বাজারে যাওয়ার পর গরু ও খাসির মাংসের দোকান বন্ধ দেখা গেছে। তবে কিছু মুরগির দোকান খোলা পাওয়া যায়। এসব দোকানে আগের মতো ব্রয়লার মুরগির কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৩০ থেকে ১৪০ টাকা। লেয়ার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ২৩০ থেকে ২৪০ টাকা। আর সোনালি মুরগির কেজি বিক্রি হচ্ছে ২০০ থেকে ২৩০ টাকা।