বিশ্বরেকর্ডের সঙ্গে অলিম্পিক রেকর্ডও জুড়লেন কেলি

নারীদের ১০০ মিটার ব্যাকস্ট্রোকে লড়াইটা দারুণ জমে উঠেছিল। অস্ট্রেলিয়ান কেলি ম্যাককেওন, কানাডার কাইলি ম্যাসে ও যুক্তরাষ্ট্রের রেগান স্মিথ কেউ কাউকে ছাড়াতে পারছিলেন না। তিনজনই সম্ভাব্য স্বর্ণজয়ী হওয়ায় লড়াইটা হয় কঠিন। তবে শেষ ১০ মিটারে বাকিদের টেক্কা দিয়ে দেন ম্যাককেওন। নিজের প্রথম অলিম্পিক স্বর্ণ দিয়ে অস্ট্রেলিয়াকে এনে দেন এবারের সাঁতারে দ্বিতীয় স্বর্ণপদক। ব্যাকস্ট্রোকে কোনো অস্ট্রেলিয়ানের এটাই প্রথম অলিম্পিক স্বর্ণ। ৫৭.৪৭ সেকেন্ডে সাঁতার শেষ করে এই ইভেন্টে নতুন অলিম্পিক রেকর্ড গড়েছেন। অস্ট্রেলিয়ান সুইমিং ট্রায়ালে ৫৭.৪৫ সেকেন্ডে শেষ করে বিশ্বরেকর্ডটিও নিজের দখলে রেখেছেন ম্যাককেওন। কানাডার ম্যাসে ৫৭.৭২ সেকেন্ডে সাঁতার শেষ করে জেতেন রুপা আর যুক্তরাষ্ট্রের স্মিথ ৫৮.৪৩ সেকেন্ডে শেষ করে জিতেছেন ব্রোঞ্জ।

ম্যাককেওন স্বর্ণ জয়ের চ্যালেঞ্জটা পেয়েছেন তার বোনের কাছ থেকে। বোর টেলর ম্যাককেওন রিও অলিম্পিকে ৪ গুণিতক ১০০ মিটার মিডলেতে অস্ট্রেলিয়ার হয়ে স্বর্ণ জিতেছিলেন। এবার একক ইভেন্টে তা করে দেখালেন কেলি ম্যাককেওন। নিজের এই সাফল্য উৎসর্গ করেছেন প্রয়াত বাবাকে। গত বছর আগস্টে ৫৩ বছরে ব্রেইন ক্যানসারে মারা যান বাবা। তবে ম্যাককেওন বলেন, তার বিশ্বাস এই অলিম্পিকে বাবা তার সঙ্গেই ছিলেন, ‘এটা আমার জন্য বিশাল অঘটন। অলিম্পিক পদক দূরে থাক, ফাইনালে উঠব তাই ভাবিনি। কিন্তু সব যেন স্বয়ংক্রিয়ভাবে হয়ে গেল। আমার মনে হয় বাবা সঙ্গে ছিলেন বলেই হয়েছে। অমি জানি না এটা বলা উচিত কিনা কিন্তু গত কিছুদিনে আমার সঙ্গে এমন কিছু হচ্ছিল যা বাবা থাকলে আমাকে করতে বলতেন বা তিনি সেসব পছন্দ করতেন। আমার বিশ্বাস, বাবা আমার পাশে ছিলেন। আমি এই স্বর্ণ তাকে উৎসর্গ করছি।’

যুক্তরাষ্ট্রের দাপট থামালেন রাশিয়ার রায়লভ

১৯৯২ অলিম্পিকের পর টানা ৬ বার পুরুষদের ১০০ মিটার ব্যাকস্ট্রোকে স্বর্ণ জিতেছে যুক্তরাষ্ট্র। এবার সেই আধিপত্য থামালেন রাশিয়ান অলিম্পিক কমিটির (আরওসি) হয়ে অংশ নেওয়া ইভেগেনি রায়লভ। গতকাল ৫১.৯৮ সেকেন্ডে সাঁতার শেষ করেছেন তিনি। তার স্বদেশি ক্লিমেন্ত কোলেসনিকভ ৫২.০০ সেকেন্ডে সাঁতার শেষ করে জিতেছেন রুপা। আর যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন রায়ান মারফি ৫২.১৯ সেকেন্ড নিয়ে পেয়েছেন ব্রোঞ্জ।

লড়াইটা হওয়ার কথা ছিল বিশ্বচ্যাম্পিয়ন মারফি ও কোলেসনিকভের মধ্যে। ফেভারিট ছিলেন ৫২ সেকেন্ডের নিচে এই ইভেন্ট শেষ করা একমাত্র সাঁতারু মারফি। রিও অলিম্পিকে ৫১.৮৫ সেকেন্ডে সাঁতার শেষ করে অলিম্পিক ও বিশ্বরেকর্ড গড়ে স্বর্ণ জিতেছিলেন তিনি। কিন্তু দুজনকেই পেছনে ফেলে দিলেন হিটে পঞ্চম হয়ে ফাইনালে আসা রায়লভ।