গত কয়েক দিনের টানা ভারী বৃষ্টিপাতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে পটুয়াখালীর জনজীবন। অতি বৃষ্টিতে নিচু এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে জলাবদ্ধতা। বহু পরিবার হয়ে পড়েছে পানিবন্দী। অসংখ্য মাছের ঘের ও পুকুর তলিয়ে গেছে।
বৃষ্টির এমন ধারা অব্যাহত থাকলে মৌসুমী সবজি চাষিরা ক্ষতির মুখে পড়বেন বলে জানিয়েছে জেলা কৃষি অফিস।
গতকাল মঙ্গলবার রাতে হালকা থেকে মাঝারি ঝড়ে জেলার বিভিন্ন উপজেলায় অসংখ্য গাছপালা ও বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙে পড়েছে।
প্রায় ১৪ ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে থাকে জেলার সর্বত্র। শহর এলাকাগুলোর সড়কেও জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। নিচু এলাকায় পানি জমে সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় অনেক বাসাবাড়ীতে পানি প্রবেশ করে তলিয়ে আছে।
টানা ভারী বর্ষণে সবচেয়ে বেশি দূর্ভোগে পড়েছে নিম্ন আয়ের খেটে খাওয়া মানুষ। বেড়িবাঁধ ভাঙন এলাকার মানুষজনও পার করছে দুর্বিষহ জীবন।
এদিকে উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় সৃষ্ট লঘুচাপের প্রভাবে সাগর বেশ উত্তাল রয়েছে। তাই পায়রা বন্দরকে স্থানীয় তিন নম্বর সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলেছে আবহাওয়া অফিস।
জোয়ারে সাগর ও নদীর পানির উচ্চতা ৩ থেকে ৪ ফুট বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে নদী তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে।
আজও (বুধবার) দফায় দফায় মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাত হচ্ছে। মঙ্গলবার সকাল ৬টা থেকে আজ (বুধবার) সকাল ছয়টা পর্যন্ত (২৪ ঘণ্টায়) ২৫১.০৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে স্থানীয় আবহাওয়া অফিস।
এ বৃষ্টিপাত ২০০৬ সাল থেকে এ পর্যন্ত সর্বোচ্চ বলে জানিয়েছে জেলা আবহাওয়া অফিস।
আলীপুর-কুয়াকাটা ট্রলার মালিক ও মৎস্য ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আনসার উদ্দিন মোল্লা বলেন, ২৩ জুলাই ৬৫ দিনের অবরোধ শেষ হলেও বৈরী আবহাওয়ার কারণে প্রস্তুতি নিয়ে সাগরে যেতে পারেনি প্রায় সহস্রাধিক জেলে। যারা গিয়েছিল তারাও সাগর উত্তাল তাকায় ফিরে এসেছে। শিববাড়িয়া নদে এসব ট্রলার নোঙর করে আছে।
কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার আবু হাসনাত মো. শহীদুল হক জানান, চম্পাপুর ইউনিয়নের দেবপুর এলাকার টানা বর্ষণে বিপদগ্রস্ত মানুষের জন্য ইতিমধ্যে প্রধানমন্ত্রীর খাদ্য সহায়তা পৌঁছে দেয়া হয়েছে।