দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর করোনাভাইরাস সংক্রমণ পরীক্ষায় পাবনায় আরটিপিসিআর ল্যাবের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। বুধবার দুপুরে পাবনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পিসিআর ল্যাবের উদ্বোধন করেছেন সদর আসনের সংসদ সদস্য গোলাম ফারুক প্রিন্স।
এখন থেকে পাবনাবাসী নিজ জেলায় করোনা পরীক্ষার সুযোগ পাবে। জেলায় কোনো পিসিআর ল্যাব না থাকায় এর আগে রাজশাহী ও সিরাজগঞ্জ থেকে নমুনা পরীক্ষা করতে হতো। এতে সময় বেশি লাগার পাশাপাশি সংগৃহীত নমুনা নষ্ট হয়ে পরীক্ষার সঠিক ফল পেতেও অসুবিধায় পড়তেন রোগীরা।
পাবনা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. বুলবুল হাসান জানান, সম্প্রতি পাবনাসহ দেশের ২০ মেডিকেল কলেজের জন্য অত্যাধুনিক পিসিআর মেশিন বরাদ্দ দেয় সরকার। কিন্তু আনুষঙ্গিক যন্ত্রপাতি ও লোকবল নিয়োগে বরাদ্দ না থাকায় এসব ল্যাব চালু করা সম্ভব হয়নি। তবে ডেভলপমেন্ট ফাউন্ডেশন ও সদর আসনের সংসদ সদস্য গোলাম ফারুক প্রিন্স এ সংকট দূর করতে এগিয়ে আসায় আমরা সরকারি বরাদ্দ প্রাপ্তির আগেই ল্যাব চালু করতে পেরেছি।
ডা. বুলবুল বলেন, সরকার অত্যাধুনিক আরটিপিসিআর মেশিন বরাদ্দ দিলেও, প্রয়োজনীয় অনেক যন্ত্রাংশ ক্রয়ে অর্থ বরাদ্দ ছিল না। এক্ষেত্রে পাবনা ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে সভাপতি সাবেক দুদক কমিশনার সাহাবুদ্দিন চুপ্পু ও সাধারণ সম্পাদক রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব সেলিম রেজা ল্যাবের জন্য প্রয়োজনীয় বায়োসেফটিক কেবিনেট প্রদান করায় সে সমস্যা সমাধান হয়। তবে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে জনবল বরাদ্দ না থাকায় তাদের বেতন-ভাতা জটিলতায় ল্যাবের কার্যক্রম শুরু করা যাচ্ছিল না। এ সংকট দূর করতে এগিয়ে এসেছেন সদর আসনের সংসদ সদস্য গোলাম ফারুক প্রিন্স। তিনি সরকারি বরাদ্দ না আসা পর্যন্ত ল্যাবের দশ টেকনিশিয়ানের বেতন-ভাতার দায়িত্ব নেয়ায় আমরা সরকারি বরাদ্দের অপেক্ষায় না থেকে ল্যাবে কার্যক্রম শুরু করতে পেরেছি।
তিনি আরো জানান, সংকট দূর হওয়ায়, পাবনায় পিসিআর ল্যাবের বুধবার উদ্বোধনের পর থেকেই পরীক্ষা শুরু হয়েছে। আপাতত প্রতি শিফটে এ ল্যাবে ৯৪ টি নমুনা পরীক্ষা করা যাবে।
পিসিআর ল্যাবের উদ্বোধন শেষে গোলাম ফারুক প্রিন্স এমপি বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশের মানুষ করোনা যুদ্ধ করে চলেছে। সরকার যথাসাধ্য চেষ্টা করছে এরপরও মহামারির তীব্রতায় অনেক ক্ষেত্রে সংকট থেকেই যাচ্ছে। বারবার চেষ্টা করেও আমরা নানা জটিলতায় পাবনায় করোনা পরীক্ষার ল্যাব স্থাপন করতে পারছিলাম না। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সহযোগীতায় অবশেষে তা শুরু হওয়ায় আমরা তার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। পাশাপাশি, পাবনা ডেভলপমেন্ট ফাউন্ডেশন এবং পাবনা মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষকে কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানাই।
এমপি প্রিন্স আরো বলেন, পিসিআর ল্যাব পরিচালনা অত্যন্ত ব্যয়বহুল। সরকারি বরাদ্দ না আসা পর্যন্ত আমি এখানে কর্মরত জনবলের বেতন-ভাতার দায়িত্ব নিয়েছি। আশা করছি ল্যাবটি পরিচালনায় পাবনাবাসী মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষকে সাহায্য করবে। আমরা সবাইকে সঙ্গে নিয়েই এ মহামারি মোকাবেলায় সফল হব ইনশাআল্লাহ।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সংরক্ষিত নারী আসনের সাংসদ নাদিরা ইয়াসমিন, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান রেজাউল রহিম লাল পাবনা জেলা প্রশাসক বিশ্বাস রাসেল রহমান, পুলিশ সুপার মহিবুল ইসলাম খান, সিভিল সার্জন ডা. মনিসর রহমানসহ স্থানীয় ব্যক্তিবর্গ।