বাগেরহাটে টানা বৃষ্টিতে শত শত পরিবার পানিবন্দি

উপকূলীয় বাগেরহাটে টানা প্রবল বর্ষণে পৌরসভাসহ জেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। বৃষ্টির পানিতে শত শত পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। তলিয়ে গেছে অসংখ্য মাছের ঘের। বৃষ্টির পানি ঘরবাড়িতে উঠে যাওয়ায় ভোগান্তিতে পড়েছেন বাসিন্দারা।

রান্না ঘরে পানি উঠে যাওয়ায় রান্না খাওয়ায় দারুণ অসুবিধায় পড়তে হচ্ছে তাদের।

বাগেরহাট পৌরসভার ৮নং ওয়ার্ডের নাগেরবাজার ও পূর্ব বাসাবাটি এলাকার রেকর্ডীয় খাল দখল ও সরু হয়ে যাওয়ায় পানি নিষ্কাশনের সুব্যবস্থা না থাকায় এই দুর্ভোগ বেড়েছে বলে অভিযোগ বাসিন্দাদের।

প্রশাসনের কাছে এই খালটি দখলমুক্ত করে সংস্কারের দাবি তাদের। এছাড়াও টানা বৃষ্টিতে জেলার উপকূলীয় শরণখোলা, মোংলা, মোরেলগঞ্জ, রামপাল ও বাগেরহাট সদরের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে।

এদিকে, টানা বৃষ্টির পানিতে বাগেরহাটের চারটি উপকূলীয় উপজেলার কয়েকশ মাছের ঘেরে তলিয়ে গেছে। বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে এসব মাছের ঘের ভেসে যাওয়ার আশঙ্কা করছে মৎস্য বিভাগ।

গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ৮৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে। সবচেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে উপকূলীয় শরণখোলাতে। একদিনে সর্বোচ্চ ২৪০ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে।

বাগেরহাট পৌরসভার নাগেরবাজার ও পূর্ব বাসাবাটি এলাকার মাসুম হাওলাদার, সোহেল হাওলাদারসহ একাধিক বাসিন্দা অভিযোগ করেন, বৃষ্টি হলেই এই এলাকার ঘরবাড়িতে পানি জমে যায়। এই এলাকার একটি রেকর্ডীয় খাল দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় প্রভাবশালীরা দখল করে রেখেছে।

এই খাল দিয়ে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে যায়। এই পানি ঘরে উঠে যাওয়ায় দারুণ দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

চুলায় পানি উঠে যাওয়ায় রান্না খাওয়া করা যাচ্ছে না। অবিলম্বে খালটি দখলমুক্ত করে সংস্কারের দাবি জানান তারা।

বাগেরহাট কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপপরিচালক সফিকুল ইসলাম বলেন, চলতি মৌসুমে অনেক দেরিতে বৃষ্টিপাত শুরু হয়। বৃষ্টিপাত কম হওয়ায় এই জেলার প্রধান চারটি নদনদীর পানিতে মাত্রাতিরিক্ত লবণাক্ততা বৃদ্ধি পায়।

যার কারণে ফসলি জমিতে এই পানি ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়ে। টানা বৃষ্টিতে এসব নদনদীর পানিতে লবণাক্ততা অনেকটাই কমে যাওয়ায় তা ফসলের মাঠে ব্যবহার উপযোগী হবে বলে বলে মনে করছে কৃষি বিভাগ।

গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ৮৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে। সবচেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে উপকূলীয় শরণখোলাতে।

একদিনে সর্বোচ্চ ২৪০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। জেলায় বর্তমানে রোপা আমনের বীজতলা মাঠে রয়েছে। এসব বীজতলা বৃষ্টির পানিতে নিমজ্জিত হয়ে রয়েছে। বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে বীজতলা নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আজিজুর রহমান বলেন, উপকূলীয় জেলা বাগেরহাটে গত তিন দিনের টানা বর্ষণে নিম্নাঞ্চলের কয়েক হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। বৃষ্টির পানিতে মানুষের ভোগান্তিও বেড়েছে। টানা বৃষ্টির পানিতে প্রায় দুই সহস্রাধিক মাছের ঘের তলিয়ে গেছে।

এতে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন মাছ চাষিরা। পানি সরতে না পারায় এই অবস্থার সুষ্টি হয়েছে। টানা বৃষ্টিতে যেসব এলাকার মানুষ বেশি সমস্যায় পড়েছেন তাদের খাদ্য সহায়তা দেয়া হচ্ছে।

বাগেরহাট মৎস্য বিভাগের জেলা মৎস্য কর্মকর্তা এস এম রাসেল বলেন, টানা বৃষ্টির পানিতে জেলার উপকূলীয় মোংলা, মোরেলগঞ্জ, রামপাল, শরণখোলা ও সদর উপজেলার নিচু এলাকার প্রায় দুই সহস্রাধিক মাছের ঘের তলিয়ে গেছে। ঘের মালিকরা তাদের ঘেরে নেট জাল দিয়ে মাছ রক্ষার চেষ্টা করছেন।