অন্ধ মাস্টারশেফ ক্রিস্টিন হা’র জয়যাত্রা

২০ বছর বয়সে নিউরোমাইলিটিস অপটিকা রোগে আক্রান্ত হয়ে দৃষ্টিশক্তি হারান ক্রিস্টিন হা। রান্নার প্রতি ভালোবাসা থেকে চেষ্টা করেন ঘ্রাণ, স্বাদ, শব্দের সাহায্যে রান্না করতে। সুযোগ পান ফক্স চ্যানেলের মাস্টারশেফ অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার। অর্জন করেন মাস্টারশেফের খেতাব। তাকে নিয়ে লিখেছেন আরফাতুন নাবিলা

ক্রিস্টিন হা

ফক্স চ্যানেলের রান্নার জনপ্রিয় প্রতিযোগিতামূলক অনুষ্ঠান মাস্টারশেফ। এই প্রতিযোগিতায় জয়লাভ করা শেফদের জন্য স্বপ্নের মতো একটি ব্যাপার। প্রতি সিজনে এই অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার জন্য ৩০ হাজার রাঁধুনি চেষ্টা করেন। উপস্থাপক গর্ডন রামসি’র নজর থেকে রাঁধুনিদের ছোট থেকে ছোট জিনিসও বাদ যায় না।

প্রতি পর্বে বাদ যেতে যেতে শেষ পর্যন্ত ফাইনাল রাউন্ডে একজন হন মাস্টারশেফ। ২০১২ সালে এই জায়গায় দাঁড়িয়েছিলেন ক্রিস্টিন হা। তিনি তার রান্নার জাদু দিয়ে বিচারকদের শুধু মুগ্ধ করেছেন তাই নয়, ভিয়েতনাম-আমেরিকান রেসিপির খুঁটিনাটি প্রয়োগ করেছেন নিজের রান্নায়। কঠিন সব চ্যালেঞ্জ পার করে জিতেছেন মাস্টারশেফের খেতাব, পেয়েছেন অর্থ, রান্নার বই প্রকাশের সুযোগ। এই প্রতিযোগিতায় অনেকের নামই আসে প্রতি বছর, তবে আলাদা করে ক্রিস্টিনের নাম কেন? কারণ এত বড় প্রতিযোগিতা পার করা ক্রিস্টিন হা চোখে দেখতে পান না। তিনি একজন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী। এই প্রতিযোগিতায় প্রতিটি কাজ তিনি করেছেন চোখে না দেখে। তাই সাধারণের গল্পের চেয়ে তার গল্প অবশ্যই আলাদা।

তাকে দেখে বেশিরভাগ মানুষের ধারণা তিনি হয়তো জন্ম থেকেই অন্ধ। প্রতিটি জিনিস ধরে-ছুঁয়ে তার অভিজ্ঞতা হয়েছে রান্নার। আসলে তা নয়। ক্রিস্টিন জন্ম থেকে অন্ধ ছিলেন না। ২০ বছর বয়সে নিউরোমাইলিটিস অপটিকা রোগের কারণে ধীরে ধীরে তার সেন্ট্রাল নার্ভাস সিস্টেমে অটোইমিউন ডিজঅর্ডার দেখা দেয়। ঠিক এই সময়েই রান্নার প্রতি সবেমাত্র তার ভালোবাসা জন্মেছিল।

অন্ধত্বের শুরু

১৯৯৯ সালে অস্টিনের টেক্সাস ইউনিভার্সিটিতে স্নাতকে পড়ছিলেন ক্রিস্টিন। চেষ্টা করছিলেন ক্যাম্পাসের অ্যাপার্টমেন্টে নিজেকে মানিয়ে নিতে। সে সময় থেকেই চোখের দৃষ্টি কমে আসতে থাকে তার।

তিনি ভেবেছিলেন এটি সম্ভবত চোখের কোনো সমস্যা। হয়তো লেন্সে ময়লা জমেছে, যার কারণে সমস্যা হচ্ছে। চশমা ব্যবহার করতে হতে পারে। সাতপাঁচ না ভেবে নিয়মিত কাজ করে যেতে লাগলেন। এক সময় চোখের অবস্থা খারাপ হতে থাকে। আর দেরি করলেন না। দেখা করলেন একজন নিউরো-অপথালমোলজিস্টের সঙ্গে। তিনি ধারণা করলেন ক্রিস্টিন মাল্টিপল স্কলেরোসিসে ভুগছেন। এমআরআই, ব্লাড টেস্ট এবং কশেরুকা পরীক্ষা দিলেন। চিকিৎসকের ধারণা ছিল রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিসের কারণে চোখে সমস্যা হচ্ছে।

পরীক্ষা-নিরীক্ষায় ধরা পড়ল ক্রিস্টিন ভুগছেন নিউরোমাইলিটিস অপটিকা রোগে। এতে স্নায়ুর চারদিকে চর্বির অস্তিত্ব পাওয়া যায়, যেগুলো স্নায়ুর কোষ থেকে কোষে সংকেত প্রচারে বাধা দেয়। এতে সরাসরি আক্রমণ হয় অপটিক স্নায়ুতে। এই স্নায়ু থাকে মেরুদণ্ডে। অসুস্থ ব্যক্তি একবারে অন্ধ হন না। ধীরে ধীরে দৃষ্টি হারাতে থাকেন। চোখের পেছনে ব্যথা হয়। পেটের চারপাশে ব্যথা হয়, ধীরে ধীরে শরীর দুর্বল হয়ে যায়। মস্তিষ্কে রক্ত চলাচলে ও মেরুদণ্ডে আক্রমণ হয় একসঙ্গে। এ রোগে আক্রান্ত হলে প্রধান লক্ষণ মাথা ঘোরানো ও বমি, হেঁচকি ওঠা, খাবার গিলতে সমস্যা হওয়া।   

প্রথম দিকে ক্রিস্টিন শুধু চোখের সমস্যাই ভেবেছিলেন। তার শরীরেও এ লক্ষণগুলো দেখা গিয়েছিল। তিনি অবশ্য বুঝতে পারেননি তাকে এত বড় রোগ আক্রমণ করেছে। চোখ দেখাতে গিয়েই জানলেন দৃষ্টিশক্তি হারাতে যাচ্ছেন তিনি।

প্যারালাইসিস

নিউরোমাইলিটিস অপটিকা রোগের লক্ষণের আড়াই বছর পর প্রথম আক্রান্ত হলেন অপটিক নিউরিটিসে। এক পায়ে ব্যথা হতো তখন। ধীরে ধীরে সমস্যা এত বাড়তে থাকল যে হাত-পা কিছুই নড়াতে পারতেন না। তিন দিনের মধ্যে ঘাড় পর্যন্ত অসাড় হয়ে যায়। দ্রুত তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে কিছুদিন থাকতে হয় ক্রিস্টিনকে। পরে তাকে রিহ্যাবে নেওয়া হয় শারীরিক ও অকুপেশনাল থেরাপির জন্য।

একজন শিক্ষার্থী যে সবেমাত্র কলেজ শেষ করে ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখছে, তাকে মুখোমুখি হতে হয়েছে এমন ভয়াবহ পরিস্থিতির। ক্রিস্টিন বলেন, ‘২০ বছর বয়সে আপনি নিজেকে অপরাজেয় ভাবেন। সবাই তাই ভাবে। সামনে উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ, স্বপ্নপূরণের হাতছানি। কিন্তু আমার ক্ষেত্রে এসবের কোনোটাই হয়নি। আমার বন্ধুরা যখন নিজেদের ক্যারিয়ার সামলাচ্ছে, তখন আমি দৃষ্টি হারিয়ে, চলাফেরাও করতে পারছিলাম না।’ – বলছিলেন ক্রিস্টিন। প্যারালাইজড হয়ে চিকিৎসা নেওয়ার পর দ্রুতই সেটি ভালো হয়ে যায়। তবে দৃষ্টিশক্তি হারাতে থাকেন ক্রিস্টিন। সেই দৃষ্টি আর ফিরে আসেনি।

নতুন সময় নিয়ে দুশ্চিন্তা

দৃষ্টি কমে আসায় ড্রাইভিং করা থেকে সরে আসতে হয়েছিল ক্রিস্টিনকে। গাড়ি, সাইকেল কিছুই চালাতে পারছিলেন না তিনি। ২০০৭ সাল নাগাদ নিরাপদে এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় পৌঁছানোর জন্য অন্যের সহায়তা প্রয়োজন হতো তার। দৃষ্টিশক্তি এতটাই কমে আসে যে চোখের সামনে সর্বোচ্চ ১০-১২ ইঞ্চি পর্যন্ত দূরত্বের জিনিস দেখতে পেতেন তিনি। তার কাছে সব সময় মনে হতো, গরম ভাপ নেওয়ার পর আয়নার দিকে তাকালে যেমন সব ঝাপসা লাগে তিনি সবকিছু তেমন দেখতে পাচ্ছেন। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে যারা অন্ধ হন, তারা জন্মান্ধদের মতো একদম দৃষ্টি না হারিয়ে এমন আবছাও দেখতে পান অনেক ক্ষেত্রে। একে বলা হয় মøান দৃষ্টি।

ক্রিস্টিন বলেন, ‘২০০৭ সালে আমার মনে হলো আমার পরবর্তী জীবন এভাবেই দৃষ্টিহীনভাবে কাটবে। সঙ্গে শারীরিক অসুস্থতাকেও মেনে নিতে হবে। আমার এখনো মনে আছে কথাটি ভাবার সময় আমি পিনাট বাটার স্যান্ডউইচ বানাচ্ছিলাম। ভালোভাবে দেখতে না পাওয়ায় পুরো খাবার নষ্ট হয়ে গেল। খুব মন খারাপ হয়েছিল তখন। মনে হলো, আমি নিজে থেকে একটি স্যান্ডউইচও বানাতে পারলাম না! এর মানে আমি আর কখনো রান্না করতে পারব না!’

রান্নাঘরে নিজেকে খুঁজে নেওয়া

যত দিন যেতে লাগল নিজের জন্য খারাপ লাগা শুরু হলো ক্রিস্টিনের। ভাবতে লাগলেন, কীভাবে তিনি একা থাকবেন, বিল পরিশোধ করবেন, এমনকি খাবার রান্না করবেন কীভাবে। নতুন জীবনের চিন্তায় তার বর্তমান একদম বিষিয়ে উঠছিল। পিনাট বাটার দিয়ে যখন একটি স্যান্ডউইচ পর্যন্ত তিনি বানাতে পারছিলেন না, তখন খাবারের জন্য আত্মীয়দের ওপর ভরসা করতে হয়। প্রায় এক বছর তিনি তাদের সঙ্গে খাওয়া-দাওয়া করেন। যদিও মোটেও আগ্রহ পাচ্ছিলেন না এতে। আত্মসম্মানেও বাধছিল ভীষণ। স্বাধীন হওয়া অনেক কঠিন একটি পদক্ষেপ। এর প্রথম শর্ত নিজে রান্না করে খেতে পারা। নিজেকে প্রবোধ দিয়ে আর থেমে থাকলেন না ক্রিস্টিন। শুরু করলেন রান্নার চেষ্টা। ছুরি দিয়ে কাটাকাটি শুরু করলেন সবার আগে। এজন্য ধারালো ছুরি না নিয়ে বাটার নাইফ ব্যবহার করলেন। শিখলেন কীভাবে পানি গরম করতে হয়। প্রতিটি কাজের জন্য ছোট ছোট পদক্ষেপ নিয়েছিলেন আগে। ক্রিস্টিন বলেন, ‘এক কদম করে এগোচ্ছিলাম। বাটার নাইফ যখন আয়ত্তে চলে এলো, তখন ভাবলাম কীভাবে বড় আর ধারালো ছুরি ব্যবহার করা যায়। এরপর এলো কড়াইতে রান্না নিয়ে প্রস্তুতি। এক কথায়, যে কাজটি যখন করেছি সেটি আগে ভালোভাবে বুঝে নিয়েছি।’

রান্নাঘরের বাইরে এসে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন নানা বিষয়ে, স্বাধীনভাবে বেঁচে থাকার জন্য যা প্রয়োজন সেগুলো জেনেছেন, ব্রেইলের মাধ্যমে পড়ালেখা করেছেন। কোনো সুযোগই হাতছাড়া করেননি।

ক্ষতির মুখে

ক্রিস্টিনের জীবনে ক্ষতি কোনো নতুন শব্দ নয়। মাত্র ১৪ বছর বয়সে ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে তার মা মারা যান। জীবনের সবচেয়ে কঠিন এই পরিস্থিতির পর, ক্রিস্টিন অনেক কষ্টে নিজেকে সামলে নিয়েছিলেন। সত্তর দশকের মধ্যভাগে ক্রিস্টিনের পরিবার ইমিগ্র্যান্ট হয়ে ভিয়েতনামে আসে। ১৯৭৯ সালে দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ায় জন্ম ক্রিস্টিনের। তার ছেলেবেলা কেটেছে হিউস্টনে। ক্রিস্টিন জানান, ‘স্থানীয় ভিয়েতনামের খাবার খেতে খেতে আমি বিরক্ত হয়ে যাচ্ছিলাম। রোজ একই খাবার। পর্ক বেলি, ক্যাটফিশ। মনে হতো, সসেজ বা চিজের মতো সাধারণ খাবার আমরা কেন খাই না?’

ক্রিস্টিনের মা একজন সামাজিক কর্মী ছিলেন। ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার পর নতুন জীবনযুদ্ধে নামতে হয়েছিল ক্রিস্টিনের মা ও তাদের পরিবারকে। তিনি তখন দেখেছিলেন, ক্যানসারকে ঠেকানোর জন্য মাকে একের পর এক কেমোথেরাপি দিতে হচ্ছে। ‘আমার মা ক্যানসারের সঙ্গে যুদ্ধ করছিলেন। ছোট বলে জানতাম না আমার কী করা উচিত। মায়ের জন্য আমি কিছুই করতে পারিনি। মায়ের অসুখে খরচ করার জন্য আমাদের খাবার খরচ কমাতে হয়েছিল। কিন্তু তখন আমি বুঝতে পারিনি। এখন বুঝি কেন আমাদের অভাবে দিন কাটাতে হয়েছে। আমি খুব অপরাধবোধে ভুগতাম এসব নিয়ে। সে সময় আমি যে কঠিন সময় পার করেছি সেই সময়ই আজ আমাকে এখানে নিয়ে এসেছে।’- বলছিলেন ক্রিস্টিন।

ক্রিস্টিনের মা মারা যাওয়ার পর সেসব স্থানীয় ভিয়েতনামি খাবারের রেসিপিও হারিয়ে যায়। দৃষ্টিশক্তি হারাতে থাকা ক্রিস্টিন তখন সিদ্ধান্ত নেন সেসব খাবার আবারও রান্না করবেন। ভিয়েতনামের রান্নার বই, মায়ের স্মৃতি, বাবার সঙ্গে গল্প ও স্বাদ পরখ করে সেসব খাবার তৈরির চেষ্টা শুরু করেন ক্রিস্টিন।

মাস্টারশেফের ঘরে 

দৃষ্টিশক্তি হারানোর আগে ক্রিস্টিন একজন সফটওয়্যার পরামর্শক ছিলেন। এরই সূত্র ধরে তিনি একটি ওয়েবসাইট চালু করেন theblindcook.com নামে। কণ্ঠ ও বইয়ের সাহায্যে নিজের রেসিপিগুলো শেয়ার করা শুরু করেন। দর্শকদের অনুরোধ করেন শুধু তার রেসিপিগুলো না দেখে তার জীবনী থেকেও শেখার চেষ্টা করতে। তার এই ব্লগ নজর কাড়ে মাস্টারশেফের প্রযোজকদের। তারা ক্রিস্টিনের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাকে আমন্ত্রণ জানান শো-তে অংশ নেওয়ার জন্য।

রান্নাঘরে ক্রিস্টিন যে শুধু স্পর্শ করে রান্না করতেন তা নয়, বরং স্বাদ, কানে শোনা ও ঘ্রাণ সবকিছু তিনি কাজে লাগাতেন। কোন উপাদান সতেজ, কোনটি দিয়ে রান্না করা যাবে, কোন খাবারে কতটুকু উপাদান দিতে হবে সবই তার নখদর্পণে ছিল। তিনি রান্নার সময় কথা বলে এমন একটি ফুড স্কেল ও থার্মোমিটার ব্যবহার করতেন। তরল অবস্থা পর্যবেক্ষণের জন্য এটি ব্যবহার করা হতো।

ফক্স চ্যানেলের মাস্টারশেফে ক্রিস্টিন কোনো ধরনের স্পেশাল জিনিস ব্যবহারের অনুমতি পাননি। তবে তার জন্য একজন সহকারী নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল, যিনি ক্রিস্টিনের কথা মতো সবকিছু কাটাকাটি আর রান্নায় সহায়তা করতেন। তাকে কঠিন নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল ক্রিস্টিনকে যেন বাড়তি কোনো সুবিধা না দেওয়া হয় সে ব্যাপারে।

মাস্টারশেফে অনেক কঠিন চ্যালেঞ্জ পার করতে হয়েছে ক্রিস্টিনকে। জয়লাভের পর দুই লাখ পঞ্চাশ হাজার ডলার পুরস্কার পান তিনি। চুক্তিস্বরূপ ২০১৩ সালে প্রকাশিত হয় তার রান্নার বই ‘Recipes from My Home Kitchen: Asian and American Comfort Food’। এই অর্জন শেষে ক্রিস্টিন হিউস্টন ইউনিভার্সিটি থেকে চারুকলার ওপর মাস্টার্স ডিগ্রিও নিয়েছেন। মাস্টারশেফ থেকে তাকে এত বড় একটি দায়িত্ব দেওয়ায় তাদের প্রতি আজীবন কৃতজ্ঞ ক্রিস্টিন।

দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের রান্নাঘরের কাজও শিখিয়েছেন ক্রিস্টিন। ২০১৪ সালে আমেরিকান ফাউন্ডেশন ফর দ্য ব্লাইন্ডস হেলেন কিলার পার্সোনাল অ্যাচিভমেন্ট পুরস্কার পান। দৃষ্টিহীন মানুষ, বিশেষ করে এশিয়ান-আমেরিকানদের জন্য নিজেকে সব সময় নিবেদিত রেখেছেন ক্রিস্টিন। তিনি বিশ্বাস করেন, দৃষ্টি হারালেই জীবন শেষ হয়ে যায় না। সবারই সমানভাবে বেঁচে থাকার অধিকার আছে। ক্রিস্টিন বলেন, ‘আমি মানুষকে ভালো কাজের জন্য লড়াই করতে, তারা যা চায় তা যেন করতে পারে সেজন্য সব সময় উৎসাহিত করতে চাই।’