পারিবারিক কলহ ও জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে জয়পুরহাটের আক্কেলপুরে স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মালেকাকে (৪২) জবাই করে হত্যার পর স্বামী আলী আকবর (৪৭) বিষপানে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। শুক্রবার সকালে আক্কেলপুর পৌরসভার সাঝিপাড়া মহল্লায় এ ঘটনা ঘটে। আকবরকে পুলিশ পাহারায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, প্রতিবেশীরা শুক্রবার সকালে বাড়ির জানালার পাশে রক্তমাখা ছুরি দেখতে পেয়ে ভেতরে গিয়ে দেখেন আলী আকবরের স্ত্রী মালেকার জবাই করা লাশ পড়ে আছে। পাশের ঘরে স্বামী আকবর বিষপান করে ছটপট করছে। প্রতিবেশীরা দ্রুত পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে ও আকবরকে আক্কেলপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করায়। অবস্থার অবনতি হলে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে তাকে পাঠানো হয়।
প্রতিবেশীরা জানান, আলী আকবর কোনো সময় বাজারে বাজারে শাক-সবজি, কোন সময় ট্রেনে বারোভাজা, সিদ্ধ ডিম বিক্রি করেন। তাদের সংসারে মাসে প্রায় ৮-১০ বার ঝগড়া-বিবাদ লেগেই থাকত। তাদের এক ছেলে ও দুই মেয়ে। বড় মেয়েকে বিয়ে দিয়েছেন। ছেলে ও এক মেয়ে দুদিন আগে রাজশাহীতে খালার বাড়িতে বেড়াতে যান। বাড়িতে শুধু আলী আকবর ও তার স্ত্রী আয়েশা মালেকা ছিলেন। এ সুযোগে আলী আকবর হত্যাকাণ্ড ঘটনায়।
আক্কেলপুর পৌরসভার ওই এলাকার চার নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আমিনুর রহমান পল্টু দেশ রূপান্তকে বলেন, আলী আকবর গত বছর তার কিছু জমি স্ত্রীকে লিখে দিয়েছিলেন। পরে স্ত্রীর আয়েশার কাছ থেকে আবার অর্ধেক জমি ফেরত নেন এবং দুই সন্তান ও স্ত্রীকে ধারালো চাকু দিয়ে মেরে গুরুতর আহত করেন। এ কারণে সে বাড়ি থেকে দুমাস পালিয়ে ছিল। পরে জামাইয়ের মধ্যস্থতায় আবার কিছু জমি স্ত্রী ও সন্তাদের লিখে দিয়ে মিমাংসা করেন। মিমাংসার সময় আমি উপস্থিত ছিলাম।
আক্কেলপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাইদুর রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, খবর পেয়ে আলী আকবরের স্ত্রী আয়েশার গলাকাটা লাশ উদ্ধার করে দুপুরে লাশটি ময়নাতদন্তের জন্য জয়পুরহাট আধুনিক জেলা হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। আর পুলিশ পাহারায় আকবরকে চিকিৎসার জন্য বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। আলী আকবরের বাড়ির জানালার পাশ থেকে রক্তমাখা ছুরিটি উদ্ধার করা হয়েছে। এ বিষয়ে তদন্ত চলছে, তদন্তের পর বিস্তারিত জানা যাবে।