লকডাউনে কষ্টে আছেন গরিবরা নেই আগের মতো ত্রাণ সহায়তা

করোনা মহামারী শুরুর পর গত বছর মার্চ-এপ্রিলে ‘কঠোর লকডাউনের’ সময় সিলেটের গরিব মানুষ এমনকি নিম্ন-মধ্যবিত্তরাও খুব একটা খাদ্য সংকটে পড়েনি। ওই সময় সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি রাজনীতিক, ধনাঢ্য ব্যবসায়ী, প্রবাসী, বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন ত্রাণ সহায়তা নিয়ে এগিয়ে এসেছিল। মুখ ফুটে যারা কষ্টের কথা বলতে পারছিল না, তাদের ঘরে ঘরে অনেকটা চুপিসারে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে খাদ্য সহায়তা। বিভিন্ন ব্যক্তি ও সামাজিক সংগঠনের পক্ষ থেকে খাদ্য সহায়তা প্রদানে ‘কল সেন্টার’ও খোলা হয়েছিল। কিন্তু এখন সেই চিত্র আর নেই। বেসরকারি উদ্যোগে ত্রাণ তৎপরতা প্রায় বন্ধ। চলমান ‘কঠোর লকডাউনের’ সময় সরকারি কিছু ত্রাণ তৎপরতা ছাড়া বেসরকারি কোনো উদ্যোগ নেই।

গত বছর ত্রাণ সহায়তা প্রদানকারী একাধিক ব্যক্তি এবং বিভিন্ন সংগঠনের দায়িত্বশীলদের সঙ্গে কথা বললে তারাও বিষয়টি স্বীকার করেন। তারা বলেন, ‘করোনা সংকট দীর্ঘস্থায়ী হওয়ায় ধনী-গরিব সবার পকেটেই টান পড়েছে। গত বছর যে ব্যবসায়ী সহায়তা দিয়েছেন, এখন করোনার প্রভাবে তিনি নিজের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান টিকিয়ে রাখতেই হিমশিম খাচ্ছেন। তাই নিজের সমস্যা নিয়েই এখন অধিকাংশ মানুষ চিন্তিত। অন্যকে সহায়তা দেওয়ার মতো সামর্থ্য অনেকেই হারিয়ে ফেলেছেন। যার কারণে ব্যক্তি উদ্যোগের ত্রাণ সহায়তা এখন নেই বললেই চলে।’

সিলেট শহরতলির পীরের বাজারে রাজমিস্ত্রির সহকারী হিসেবে কাজ করেন তরুণ বদরুল মিয়া। কাজ থাকলে বদরুল দিনে ৫০০-৬০০ টাকা আয় করেন। এ টাকায় বৃদ্ধ মা-বাবা, দুই ভাইবোন নিয়ে তার সংসার কোনোমতে চলে যায়। কিন্তু এখন তাকে বেশিরভাগ দিন বেকার থাকতে হয়। বদরুল দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমার রোজগারে সংসার চলে। কাজ করে দিনশেষে চাল-ডাল নিয়ে বাড়িতে গেলে রান্না হয়। কিন্তু এখন বেশিরভাগ দিন খালি হাতে বাড়ি ফিরতে হয়। ফলে অর্ধাহারে থাকতে হয়। এই কষ্ট আর সহ্য হচ্ছে না’। বদরুল জানান, গত বছর অনেক ত্রাণ সহায়তা পেয়েছিলেন, কিন্তু বর্তমানে কোনো সহায়তা পাচ্ছেন না।

আম্বরখানা বড় বাজার এলাকার একটি বাসায় গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করতেন লাইলি আক্তার। করোনার কারণে কয়েক মাস ধরে ওই বাসার লোকজন তাকে কাজে যেতে নিষেধ করেছেন। এখন লাইলি বেকার। তিনি বলেন, ‘করোনা আমাগো শ্যাষ করে দিচ্ছে। পোলাপাইন নিয়ে দুবেলা দুমুঠো ভাত খাওয়ার ব্যবস্থা নেই।’ লাইলি জানান, ঈদের আগে সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে দেওয়া অল্প কিছু ত্রাণ সহায়তা পেয়েছিলেন। আর কেউ কোনো সাহায্য দেয়নি।

সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সিলেটের সভাপতি ফারুক মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘বেসরকারি ত্রাণ সহায়তা যৌক্তিক কারণেই প্রায় বন্ধ। তাই এখন যতদিন লকডাউন দেওয়া হবে, গরিবের ঘরে ততদিনের খাবার সরকারি উদ্যোগে দিতে হবে। এর কোনো বিকল্প নেই।’

সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ব্যক্তি ও বেসরকারি সংগঠনের উদ্যোগে এখন ত্রাণ তৎপরতা নেই বললেই চলে। এ বাস্তবতায় ঈদুল আজহার আগে সরকারি বরাদ্দ ও সিটি করপোরেশনের নিজস্ব তহবিল থেকে অভাবী মানুষকে ত্রাণ সহায়তা করার বড় একটি উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। চাল, ডাল, পেঁয়াজ, তেল, সাবানসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।