টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল

অগ্নিকান্ডের ১৫ দিনেও আইসিইউ চালু হয়নি

অগ্নিকান্ডের দুই সপ্তাহ কেটে গেলেও এখনো চালু হয়নি টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের করোনা ইউনিটের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ)। ফলে আইসিইউ সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন জেলার ১২ উপজেলার করোনা আক্রান্ত মুমূর্ষু রোগীরা।

টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, গত ১৫ জুলাই হাসপাতালের করোনা ইউনিটের আইসিইউতে অগ্নিকা-ের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার পরপরই জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সোহানা নাসরিনকে প্রধান করে সাত সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি করা হয়। পরে তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়, আইসিইউতে হাই-ফ্লো ন্যাজাল ক্যানুলা মেশিনের মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহার ও নির্দেশনা অনুযায়ী মেশিন ব্যবহার না করার কারণে অগ্নিকান্ডের সূত্রপাত হয়েছিল। প্রতিবেদনে আটটি বিষয়ে সুপারিশ করা হয়েছে।

এই অগ্নিকান্ডের পর দুই সপ্তাহ পার হলেও আইসিইউ সেবা চালু করতে পারেনি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। ফলে করোনায় আক্রান্ত জেলার মুমূর্ষু রোগীরা এখন আইসিইউ সেবা থেকে বঞ্চিত। গতকাল শুক্রবার টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে ৫২ জন করোনা রোগী চিকিৎসাধীন ছিলেন। আইসিইউ চালু না থাকায় মুমূর্ষু রোগীদের ঢাকায় রেফার করা হচ্ছে। ঢাকায় আইসিইউর ব্যয় বহন করতে অনেক রোগীর পরিবারের হিমশিম অবস্থা। রোগীর স্বজনদের অভিযোগ, আইসিইউ সেবা বন্ধ থাকায় মুমূর্ষু রোগীদের অন্যত্র রেফার করা হচ্ছে। হাসপাতালে আইসিইউ সেবা না থাকায় অনেকেরই সুচিকিৎসা না পেয়ে মৃত্যু হচ্ছে।

এ বিষয়ে করোনা রোগীর স্বজন সোলাইমান মিয়া বলেন, টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে আইসিইউ চালু না থাকায় আমার বাবাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নিয়ে যেতে হচ্ছে। ঢাকার চিকিৎসা ব্যয় চালানো আমাদের জন্য কষ্টের। তবুও শেষ চেষ্টাটুকু চালিয়ে যাচ্ছি।

টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) শফিকুল ইসলাম সজিব বলেন, আইসিইউ এখনো চালু হয়নি। বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় কাজ দ্রুত করা হচ্ছে। আইসিইউ প্রস্তুতের কাজ অনেকটাই শেষের দিকে। খুব দ্রুতই আইসিইউ সেবা চালু হবে বলে তিনি জানান।

গত ১৫ জুলাই টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের আইসিইউ ইউনিটে অগ্নিকা-ের ঘটনা ঘটে। আগুনের সূত্রপাত হয় হাই-ফ্লো ন্যাজাল ক্যানুলা থেকে। ওইদিন ইউনিটের ১০টি শয্যায় থাকা রোগীদের তাড়াহুড়ো করে হাসপাতালের বাইরে নিরাপদ স্থানে রাখা হয়। অক্সিজেন সাপোর্ট না পেয়ে অনেক রোগীর অবস্থার অবনতি হয়। এ অবস্থায় একাধিক রোগীকে অন্যত্র রেফার করেন চিকিৎসকরা।