বঙ্গবন্ধু সেতুর ওপরে আড়াই ঘণ্টা যানজট

সিরাজগঞ্জের বঙ্গবন্ধু সেতুর ওপর গতকাল রবিবার বেলা সাড়ে ১১টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত প্রায় আড়াই ঘণ্টা তীব্র যানজট ছিল। ফলে সেতুর ওপর আটকে পড়া যানবাহনের যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। গতকাল সকাল থেকেই উত্তরাঞ্চলের ১৬ জেলার রপ্তানিমুখী শিল্পকারখানার হাজার হাজার কর্মজীবী মানুষ ঢাকা অভিমুখে বাস, ট্রাক, পিকআপ, কাভার্ড ভ্যান, প্রাইভেট

কার, মাইক্রোবাসসহ বিভিন্ন যানবাহনে ঢাকাসহ বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে ছুটতে থাকায় বঙ্গবন্ধু সেতুর ওপর অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ বেড়ে এ অবস্থার সৃষ্টি হয় বলে যাত্রীরা জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে বঙ্গবন্ধু সেতুর ওপর প্রাইভেট কারে আটকে পড়া ঢাকাগামী যাত্রী এস এম শফিউল হক সিলিং জানান, সকাল ১০টার দিকে শাহজাদপুর থেকে জরুরি কাজে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হই। বেলা ১১টার দিকে কড্ডার মোড়ে পৌঁছাই। এরপর থেকে শুরু হয় যানজট। ধীরগতিতে সেতু পর্যন্ত যেতে পারলেও সেতুর ওপর ওঠার পর তীব্র যানজটে আটকা পড়ি। মাঝে মাঝে ধীরগতিতে গাড়ি চললেও ১৫ মিনিটের সেতু পার হতে আড়াই ঘণ্টা সময় লাগে। এরপর দীর্ঘ জ্যাম ঠেলে সাড়ে ৭ ঘণ্টা পর বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে ঢাকা পৌঁছাই।

এ বিষয়ে বঙ্গবন্ধু সেতু পশ্চিম থানার ওসি মোসাদ্দেক হোসেন বলেন, বঙ্গবন্ধু সেতুপূর্ব লেনে গাড়ি টানতে না পাড়ায় স্বল্প সময়ের জন্য মাঝে মাঝে সেতুর ওপর যানজটের সৃষ্টি হয়। তবে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ায় তা আবার স্বাভাবিক হয়।

এ বিষয়ে বঙ্গবন্ধু সেতু কর্তৃপক্ষ জানায়, অতিরিক্ত যানবাহনের চাপের কারণে সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত ৪ দফায় ১ ঘণ্টা সেতুর পূর্ব লেন ও বেলা ১১টা থেকে দুপুর দেড়টা পর্যন্ত ৩ দফায় পৌনে ১ ঘণ্টা সেতুর পশ্চিম লেন বন্ধ থাকে। এ সময় কিছুটা যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে তা আবার স্বাভাবিক হয়।

এদিকে যানবাহনের চাপ বৃদ্ধি পাওয়ায় বঙ্গবন্ধু সেতু পশ্চিম মহাসড়কের সয়দাবাদ থেকে হাটিকুমরুল পর্যন্ত ২০ কিলোমিটার মহাসড়কে দিনভর ধীরগতিতে চলে সব ধরনের যানবাহন। অপরদিকে অতিরিক্ত যাত্রীর চাপে পরিবহনগুলোয় স্বাস্থ্যবিধি অমান্য করে অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহন করা হয়। এ ছাড়া জেলার চৌহালি উপজেলার এনায়েতপুর, জোতপাড়া, শাহজাদপুর উপজেলার মনাকষা, কৈজুরি, জগতলা ও জামিরতা ঘাট থেকে ইঞ্জিনচালিত শ্যালো নৌকায় গাদাগাদি করে ও স্বাস্থ্যবিধি অমান্য করে কর্মজীবী মানুষ ঢাকা, নারায়ণগঞ্জসহ বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলের উদ্দেশে ছেড়ে যায়।

এ বিষয়ে হাটিকুমরুল হাইওয়ে থানার ওসি শাহজাহান আলী বলেন, মহাসড়কে অতিরিক্ত যানবাহনের চাপের কারণে ধীরগতিতে চলেছে যানবাহন। এ থেকে মাঝেমধ্যে কিছু জায়গায় যানজটের সৃষ্টি হলেও আমরা দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ায় তা আবার স্বাভাবিক হয়।

এ বিষয়ে কড্ডা এলাকার দায়িত্বরত ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (টিআই) মো. আব্দুল গণি বলেন, পোশাককর্মীরা যে যেভাবে পারছেন, যাওয়ার চেষ্টা করছেন। এ সুযোগে যেখানে-সেখানে ট্রাকগুলো দাঁড়িয়ে যাত্রী তোলার কারণে কিছুটা যানজট হলেও আমরা পদক্ষেপ নিয়ে তা দ্রুত সমাধান করেছি।