মাদ্রাসার খাবার খেয়ে ছাত্রের মৃত্যু: অসুস্থ ১৭, গ্রেপ্তার ৬

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জের মদিনাতুল উলুম ইসলামিয়া মাদ্রাসা কমপ্লেক্স ও এতিমখানায় খাবার খেয়ে এক মাদ্রাসাছাত্রের মৃত্যু ও ১৭ ছাত্র অসুস্থ হওয়ার ঘটনায় তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি করেছে জেলা প্রশাসন। মঙ্গলবার সকালে নোয়াখালী জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট তারিকুল আলমকে প্রধান করে এ তদন্ত কমিটি ঘোষণা করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ খোরশেদ আলম খান।

এর আগে, সোমবার (২ আগস্ট) রাত পৌনে ৯টার দিকে উপজেলার একলাশপুর ইউনিয়নের পূর্ব একলাশপুর গ্রামের মদিনাতুল উলুম ইসলামিয়া মাদ্রাসা কমপ্লেক্স  ও এতিম খানায় রাতের খাবারে বিষক্রিয়ায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত নুর হাদী নিশান (৯) উপজেলার একলাশপুর ইউনিয়নের পুর্ব একলাশপুর গ্রামের আনোয়ার মিয়ার ছেলে। সে মদিনাতুল উলুম ইসলামিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানার নূরানী বিভাগের ছাত্র ছিল।

এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য মাদ্রাসার ছয় শিক্ষককে মঙ্গলবার ভোরে আটক করে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ।

বেগমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ কামরুজ্জামান সিকদার জানান, নিহত ছাত্রের চাচা আহসান উল্যা (৪৫) মঙ্গলবার বিকেলে বাদী হয়ে আটজনকে আসামি করে থানায় মামলা দায়ের করেন। এ মামলায় আটক ছয়জনকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ খোরশেদ আলম জানান, আগামী সাত কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত কমিটি প্রতিবেদন দেবে। প্রতিবেদন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মদিনাতুল উলুম ইসলামিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানার সুপারিনটেন্ডেন্ট ইসমাইল হোসেন জানান, সোমবার দুপুরের দিকে মাদ্রাসায় মাংস রান্না হয়। একই দিন এশার নামাজের পরে মাদ্রাসার আবাসিক বিভাগের ২০ ছাত্র ওই মাংস দিয়ে রাতের খাবার খেয়ে ঘুমাতে যায়। একপর্যায়ে রাত সাড়ে ৯টার দিকে ১৮ ছাত্র অসুস্থ হয়ে সবাই পেট ব্যাথায় বমি করতে থাকে। এ সময় মাদাদ্রাসার এক আবাসিক শিক্ষক বিষয়টি জানতে পারেন এবং এক স্থানীয় পল্লি চিকিৎসককে মাদ্ররাসায় ডেকে আনে। পরবর্তীতে পল্লি চিকিৎসকের পরামর্শে অসুস্থ ১৮ ছাত্রকে কয়েক ধাপে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

পরে নিশান নূর হাদি (৯) নামে এক শিশুকে মৃত ঘোষণা করেন কর্তব্যরত চিকিৎসক। বাকি ১৭ শিশুকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

জেলা সিভিল সার্জন মাসুম ইফতেখার জানান, পরিবেশন করা খাবারের নমুনা গতকাল ( সোমবার)  রাতেই সংগ্রহ করা হয়েছে। পরীক্ষার পর এ বিষয়ে বিস্তারিত জনা যাবে।

নোয়াখালী ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. সৈয়দ মহিউদ্দিন আব্দুল আজিম জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে খাদ্যে বিষক্রিয়ার কারণে এমন হয়েছে। অসুস্থদের মধ্যে নিশান নামে এক মাদ্রাসাছাত্রকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়েছে। এ ছাড়া আরো ১৭ মাদ্রাসাছাত্র গুরুত্বর অসুস্থ অবস্থায় নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে।