মশা নিধনে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) ব্যবহৃত ওষুধের কার্যকারিতা খুবই কম। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি বিশেষজ্ঞ কমিটির গবেষণায় এই চিত্র উঠে এসেছে। এ কারণে ফগার মেশিনের মাধ্যমে ওষুধ দেওয়া হলেও চট্টগ্রামে মশকনিধন কার্যক্রমে সফলতা আসছে না। মশার উপদ্রবও বন্ধ হচ্ছে না।
গবেষক দলের তথ্য অনুযায়ী, মশা নিধনের জন্য সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে পাঁচ ধরনের ওষুধের নমুনা দেওয়া হয়। সিটি করপোরেশন বর্তমানে এর দুটি ওষুধ ব্যবহার করছে। তবে এই দুটি ওষুধের কার্যকারিতা ২০ শতাংশের কম। ফগার মেশিনের মাধ্যমে ওষুধ ছিটানো হলেও তাতে খুব একটা মশা মরে না। বরং হ্যান্ড স্প্রে মেশিন ব্যবহার করলে তুলনামূলকভাবে বেশি মশা মরে।
তবে সিটি করপোরেশন যে তিনটি ওষুধ ব্যবহার করছে না, সেগুলোর একটির শতভাগ কার্যকারিতা পাওয়া গেছে। এটি একধরনের ভেষজ ওষুধ। বিভিন্ন গাছের তেল দিয়ে তা তৈরি করা হয়। এই ওষুধ ব্যবহারে কেরোসিন ব্যবহার করতে হয়।
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র মো. রেজাউল করিম চৌধুরীর অনুরোধে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় এই গবেষণা করে। ‘মশকনিধন কীটনাশকের কার্যকারিতা যাচাই’ শীর্ষক ওই গবেষণা প্রতিবেদনটি মঙ্গলবার দুপুরে মেয়রের হাতে তুলে দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য শিরীণ আখতার। গত ৫ জুলাই থেকে এই গবেষণা কার্যক্রম শুরু হয়।
প্রতিবেদন হস্তান্তর অনুষ্ঠানে মেয়র রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, সিটি করপোরেশনের মশকনিধন কর্মসূচি নিয়ে নগরবাসীর নানা প্রশ্ন রয়েছে। ওষুধ ছিটানো হলেও মশা মরে না। কোটি কোটি টাকা খরচ করা হলেও মশা মরে না। তাই এই ওষুধের কার্যকারিতা যাচাইয়ের জন্য গবেষণা করা হয়। গবেষণায় পাওয়া গেছে, ফগার মেশিনের মাধ্যমে যে ওষুধ ছিটানো হয়, তার কার্যকারিতা খুবই নগণ্য।
গবেষণা প্রতিবেদনের সারসংক্ষেপ উপস্থাপনের সময় জানানো হয়, কমিটি চট্টগ্রাম নগরের ৯৯টি এলাকা পরিদর্শন করে। তবে নমুনা সংগ্রহ করে ৫১টি স্থান থেকে। এর মধ্যে ৩৩টি স্থান থেকে সংগ্রহ করা নমুনায় ডেঙ্গুর জীবাণুবাহক এডিস মশার লার্ভা পাওয়া যায়। ম্যালেরিয়ার বাহক অ্যানোফিলিসের লার্ভা পাওয়া যায় ৩৯টি স্থানে। আর দুই ধরনের লার্ভা পাওয়া গেছে ২২টি স্থানে।
এদিকে নগরের ৩৩টি স্থানের মধ্যে ১৫টি থেকে সংগ্রহ করা নমুনার শতভাগেই ছিল এডিসের লার্ভা। আর দুটি জায়গায় শতভাগ উপস্থিতি ছিল অ্যানোফিলিসের লার্ভার। গবেষক দলের সদস্যরা সংগ্রহ করা নমুনা নিয়ে গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা করেন।
কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যেকোনো রাসায়নিক কীটনাশকের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার মানুষ, প্রাণী ও পরিবেশের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। তাই মশা নিধনে রাসায়নিকের বিকল্প হিসেবে জৈব নিয়ন্ত্রণের পদ্ধতিগুলো চালু করা যেতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে মাছ চাষের মাধ্যমে লার্ভা নিয়ন্ত্রণ, অণুজীব ব্যবহার করে লার্ভা ধ্বংস করা, উদ্ভিদের নির্যাস ব্যবহার করে লার্ভা ইত্যাদি।
মশকনিধন কার্যক্রম নিয়ে কয়েকটি সুপারিশ করা হয়েছে প্রতিবেদনে। সেগুলো হলো নালা-নর্দমা, খাল ও নদী ইত্যাদি পরিষ্কার এবং পানি চলাচল স্বাভাবিক রাখা। সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য এলাকাভিত্তিক কমিটি গঠন করা। নির্দিষ্ট সময় পরপর কিংবা নতুন কীটনাশক ক্রয়ের পর অবশ্যই এর কার্যকারিতা যাচাই করা।