শনাক্ত-মৃত্যুর রেকর্ড ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়

চলমান ‘কঠোর লকডাউনেও’ কমছে না করোনা সংক্রমণ ও মৃত্যু। প্রতিদিনই দেশের কোনো না কোনো অঞ্চলে শনাক্ত ও মৃত্যুর রেকর্ড হচ্ছে। সেই ধারাবাহিকতায়ই যেন আগের ২৪ ঘণ্টায় শনাক্ত ও মৃত্যুর রেকর্ড হয়েছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়। জেলাটিতে আগে ২৪ ঘণ্টায় ৪১৩ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে, যা জেলায় এক দিনের হিসাবে শনাক্তের সংখ্যায় রেকর্ড। একই সময়ে জেলায় করোনায় সংক্রমিত ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। এটাই জেলায় এখন পর্যন্ত এক দিনে করোনায় সর্বোচ্চসংখ্যক মৃত্যুর রেকর্ড। জেলা সিভিল সার্জনের কার্যালয় থেকে জানানো হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ৯৯৯ জনের নমুনা পরীক্ষায় ৪১৩ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। শনাক্তের হার ৪১ দশমিক ৩৪ শতাংশ। নতুন শনাক্ত ৪১৩ জনের মধ্যে সদরের ১৫৪, নবীনগরের ১১০, কসবার ৭৯, বাঞ্ছারামপুরের ৩১, নাসিরনগরের ১২, বিজয়নগরের ৮, আশুগঞ্জের ৭, আখাউড়ার ৭ ও সরাইলের ৫ জন রয়েছে। এ নিয়ে জেলায় এ পর্যন্ত করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে ৮ হাজার ৫১৮ জন। তাদের মধ্যে সুস্থ হয়েছে ৪ হাজার ৯২১ জন। গত ২৪ ঘণ্টার ৬ জন নিয়ে এ পর্যন্ত মারা গেছেন ১১৬ করোনা রোগী। বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছে ৬৮ জন। বাড়িতে আইসোলেশনে আছে ৩ হাজার ৪১৩ জন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এর আগে ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চসংখ্যক করোনা রোগীর রেকর্ড ছিল গত ২৭ জুলাইয়ে। ওইদিন জেলায় ৯১৫ জনের নমুনা পরীক্ষায় ৩০২ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছিল। আর করোনায় সর্বোচ্চ মৃত্যুর রেকর্ড ছিল ১ আগস্টে। ওইদিন জেলায় করোনায় সংক্রমিত পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছিল।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সিভিল সার্জন মোহাম্মদ একরাম উল্লাহ বলেন, জেলায় জুলাই মাসের করোনার সংক্রমণ অন্য যেকোনো সময়ের তুলনায় বেড়েছে। এখন উপজেলাগুলোতেও করোনা রোগী শনাক্তের সংখ্যা বাড়ছে। মানুষকে আরও সচেতন হতে হবে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে।

করোনায় বরিশাল বিভাগে ১৮ জনের মৃত্যু, শনাক্ত ৭৪০ : বরিশাল বিভাগে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা ও উপসর্গ নিয়ে ১৮ জন মারা গেছেন। একই সময় ২৪ ঘণ্টায় গতকাল মঙ্গলবার পর্যন্ত ২ হাজার ৮৫টি নমুনা পরীক্ষায় ৭৪০ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। নমুনা পরীক্ষার বিপরীতে শনাক্তের হার ৩৫ দশমিক ৪৯ শতাংশ। এর আগের ২৪ ঘণ্টায় করোনা ও করোনার উপসর্গ নিয়ে সর্বোচ্চ ৩১ জনের মৃত্যু হয়েছিল। এর মধ্যে ১৮ জন মারা যান করোনার উপসর্গ নিয়ে। আর বাকি ১৩ করোনা পজিটিভ ছিলেন।

বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা যায়, গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া ১৮ জনের মধ্যে ১১ জনের মৃত্যু হয় করোনার উপসর্গ নিয়ে। তারা সবাই বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের করোনা ইউনিটের আইসোলেশন ওয়ার্ডে মারা যান। এ নিয়ে এই হাসপাতালে করোনার উপসর্গে মারা গেলেন ৮০৫ জন। বাকি সাতজন মারা যান করোনা পজিটিভ হয়ে। তাদের মধ্যে বরিশালে তিন, পটুয়াখালী ও বরগুনা জেলায় দুজন রয়েছেন। এ নিয়ে বিভাগে করোনায় মারা গেছেন ৪৮৪ জন।

খুলনা বিভাগে করোনায় আরও ৩১ মৃত্যু : খুলনা বিভাগে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুসংখ্যা বেড়েছে। তবে কমেছে শনাক্তের সংখ্যা। গত সোমবার দুপুর ১২টা থেকে গতকাল মঙ্গলবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা আক্রান্ত হয়ে ৩১ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে শনাক্ত হয়েছে ৯৪৬ জনের। গতকাল দুপুরে বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। এর আগে গত সোমবার খুলনা বিভাগে ২৬ জনের মৃত্যু এবং ১ হাজার ৩৭৩ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছিল।

ময়মনসিংহ মেডিকেলের করোনা ইউনিটে ১৭ জনের মৃত্যু : গত ২৪ ঘণ্টায় ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের করোনা ইউনিটে আরও ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে করোনা আক্রান্তে ৬ এবং করোনা উপসর্গ নিয়ে মারা যান ১১ জন। মৃতদের মধ্যে ময়মনসিংহ জেলার ১০, নেত্রকোনার ৩, নরসিংদী ও দিনাজপুরের ১ জন করে রয়েছেন।

হাসপাতালটির করোনা ইউনিটের ফোকালপারসন ডা. মহিউদ্দিন খান মুন জানান, করোনা ডেডিকেটেড ইউনিটে নতুন ৮৮ জন ভর্তিসহ এখন পর্যন্ত ৫৫১ জন এবং আইসিউতে ২২ জন চিকিৎসাধীন।

এদিকে সিভিল সার্জন ডা. নজরুল ইসলাম জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় ১ হাজার ৬৬৪টি নমুনা পরীক্ষায় আরও ৪৪৮ জনের দেহে করোনা শনাক্ত হয়েছে। শনাক্তের হার ২৬.৯২ শতাংশ। জেলায় মোট আক্রান্ত ১৫ হাজার ৯৯৫ জন। সুস্থ হয়েছেন ১১ হাজার ৮৬৫ জন।

রাজশাহীতে করোনা ইউনিটে আরও ১৯ মৃত্যু : রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের করোনা ইউনিটে একদিনে আরো ১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। সোমবার সকাল থেকে মঙ্গলবার সকালের মধ্যে তাদের মৃত্যু হয়। করোনা আক্রান্ত হয়ে ৭জন ও উপসর্গে ১১জন মারা গেছেন। করোনামুক্ত হয়েও পরবর্তী স্বাস্থ্য জটিলাতায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১জনের মৃত্যু হয়। এর আগের ২৪ ঘণ্টায় এখানে ১৫ জন মারা যান।

রামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামীম ইয়াজদানী জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় মৃতদের মধ্যে রাজশাহীর ৭জন, চাঁপাইনবাবগঞ্জের ৪জন নাটোরের ৫জন, নওগাঁর ২জন, পাবনার ১জন। এদের মধ্যে ৯জন পুরুষ এবং ১০জন নারী।