শেখ কামালের ৭২তম জন্মবার্ষিকীতে গতকাল ১০ ব্যক্তি ও দুটি সংস্থাকে স্বীকৃতি দিয়েছে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ। তিন দশক পর এই পুরস্কারের প্রত্যাবর্তনে স্বীকৃতি পেয়েছেন ক্রীড়াঙ্গনে নানাভাবে অবদান রাখা ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান। ভাই শেখ কামালের নামে জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কার অনুষ্ঠানে গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রধানমন্ত্রী তার ভাষণে স্মরণ করেছেন ছোট ভাইকে। ‘দেশকে গড়ে তোলা, দেশের মানুষের পাশে থাকা বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বা সাংস্কৃতিক অঙ্গন বা ক্রীড়াঙ্গন এসব কিছুর উন্নতি করা, এটাই ছিল তার সব থেকে বড় কথা। অত্যন্ত সাদাসিধে জীবনযাপন করত।’
আজীবন সম্মাননায় ভূষিত হয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন কাজী সালাউদ্দিন। শেখ কামালের ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন এই তারকা ফুটবলার। ফুটবলার হিসেবে অবদান রাখার স্বীকৃতিস্বরূপ পেয়েছেন দেশের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মান স্বাধীনতা পদক। তারপরও গতকাল পাওয়া এই স্বীকৃতির মাহাত্ম্য সালাউদ্দিনের কাছে অন্যরকম, ‘শেখ কামালের নামে এই পুরস্কার পেয়ে আমি আপ্লুত। শেখ কামাল এত অল্প বয়সে এত অল্প দিনে যা করেছে তা সত্যিই অসাধারণ। উনি যেটা করেছেন সেটাই আমরা ১৫ বছর ধরে করার চেষ্টা করছি। শেখ কামাল বেঁচে থাকলে দেশের ফুটবল এশিয়ার মান ছাড়িয়ে আরও ওপরে চলে যেত।’
২০১৬ এসএ গেমসে রেকর্ড গড়ে জোড়া স্বর্ণপদক জিতেছিলেন সাঁতারু মাহফুজা খাতুন শীলা। এই স্বীকৃতিকে তিনিও রাখছেন বিশেষ স্থানে, ‘ক্যারিয়ারে অনেক পুরস্কার পেয়েছি। এই পুরস্কারটি একটু ভিন্ন। বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনের পথিকৃৎ যিনি, তার নামে পুরস্কার পাওয়া এবং তাও সেটা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে, আসলেই স্মরণীয় একটি মুহূর্ত।’
পরপর দুটি এসএ গেমসে স্বর্ণপদক জয়ী ভারোত্তোলক সীমান্ত বলেন, ‘আমরা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের জন্য সবসময় ভালো কিছু করতে চাই। এ রকম সম্মাননা, পদক আমাদের ভালো করতে অনুপ্রেরণা জোগাবে।’ সম্প্রতি টোকিও অলিম্পিক খেলে আসা আর্চার রোমান সানা দেশে ফিরেই এমন সম্মান পেয়ে উচ্ছ্বসিত, ‘আসলেই খুব ভালো লাগছে। অলিম্পিক থেকে আসার পর এই পদক আমাকে সামনে এগিয়ে যেতে উদ্যম জোগাবে।’
২০১৯ যুব বিশ্বকাপের ফাইনালে ভারতকে হারিয়ে কোনো বৈশ্বিক আসরে প্রথম শিরোপা এনে দিয়েছিল বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ জাতীয় ক্রিকেট দল। সেই দলের অধিনায়ক আকবর আলী উদীয়মান ক্রীড়াবিদের পুরস্কার পেয়ে বলেন, ‘শেখ কামালের নামে পুরস্কার পেয়ে আমি গর্ব অনুভব করছি। এই পুরস্কার আমাকে সবসময় অনুপ্রেরণা জোগাবে। যখনই এই পুরস্কারটি দেখব, তখন আমি আরও ভালো খেলার অনুপ্রেরণা পাব।’
সেরা সংস্থা হিসেবে পাওয়া পুরস্কার গ্রহণ করে বিসিবির সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন বলেন, ‘আমাদের দেশে অনেক পুরস্কার আছে। স্বাধীনতা পদক, একুশে পদক। কিন্তু আমার কাছে মনে হয় শেখ জামাল জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ পুরস্কারের তুলনা অন্য কিছুর সঙ্গে চলে না। কারণ এটা ক্রিকেট ও খেলাধুলার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত একটা পুরস্কার। তাই এটাকেই আমাদের সবচেয়ে বড় স্বীকৃতি মনে করি।’
অসুস্থতার কারণে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকায় স্বীকৃতি নিতে আসতে পারেননি প্রবীণ ক্রীড়া সাংবাদিক কামরুজ্জামান। তার পরিবারের পক্ষ থেকে পুরস্কার গ্রহণ করেন জিকরুল হাসান। হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে অবশ্য এই স্বীকৃতি পাওয়ার কথা শুনেছেন ৮১ বছর বয়সী এই সাংবাদিক। শেখ কামালকে খুব কাছ থেকে দেখার অভিজ্ঞতায় কামরুজ্জামান বলেছেন, ‘শেখ কামাল অনেক বড় খেলোয়াড় হতে পারতেন। কিন্তু তিনি খেলার চেয়ে সংগঠক হওয়ার দিকেই বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন। তার হাতেই আজকের আবাহনীর প্রতিষ্ঠা পেয়েছে। দেশের ফুটবল আধুনিকতার ছোঁয়া পেয়েছিল তার হাতেই। তার নামে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ পুরস্কার পেয়ে আমি আনন্দিত।’
শেখ কামালের নামে এই পুরস্কার প্রদানের দিনে অবশ্য তার হাতে গড়া আবাহনী ঠিকই প্রতিবারের মতো দিনটি উদযাপন করেছে নানা আয়োজনে। রাত ১২টায় আবাহনীর ক্লাবের আঙিনায় শেখ কামালের প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করা হয়। ক্লাব প্রতিষ্ঠাতার জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আবাহনী সমর্থকগোষ্ঠী আয়োজন করে ভার্চুয়াল আলোচনা সভার। এছাড়া ক্রীড়া মন্ত্রণালয়, বিসিবিসহ বিভিন্ন ক্রীড়া ফেডারেশন নানারকম কর্মসূচিতে স্মরণ করেছে আধুনিক ক্রীড়াঙ্গনের প্রবক্তা শেখ কামালকে।