টিআইবির গবেষণা

বেসরকারির চেয়ে তথ্য প্রকাশে এগিয়ে সরকারি প্রতিষ্ঠান

তথ্য প্রকাশের ক্ষেত্রে বেসরকারির চেয়ে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো এগিয়ে রয়েছে বলে জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।

গতকাল বৃহস্পতিবার ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে ‘তথ্য অধিকার আইন অনুযায়ী সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের স্বতঃপ্রণোদিত তথ্য প্রকাশ চর্চার মূল্যায়ন’ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

টিআইবি বলছে, গত বছর আগস্ট থেকে চলতি বছরের জানুয়ারি পর্যন্ত ১৯২টি প্রতিষ্ঠানের (১৫৩টি সরকারি ও ৩৯টি এনজিও) ওয়েবসাইটে দেওয়া তথ্য সংগ্রহ করে মিশ্র পদ্ধতিতে গবেষণা করা হয়েছে। ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্যের ওপর ৬৭-১০০ শতাংশ স্কোরকে সন্তোষজনক, ৩৪-৩৬ অপর্যাপ্ত ও শূন্য থেকে ৩৩ শতাংশ স্কোরকে উদ্বেগজনক মান ধরা হয়েছে।

গবেষণায় বলা হয়, অধিকাংশ সরকারি প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট এনজিওর তুলনায় ভালো স্কোর পেয়েছে। সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রায় ৩৭ শতাংশ সন্তোষজনক স্কোর পেয়েছে। তবে ৮ দশমিক ৫ শতাংশ সরকারি প্রতিষ্ঠানের স্কোর উদ্বেগজনক। প্রথম ১০টি অবস্থানে রয়েছে ৬৯টি প্রতিষ্ঠান, যাদের প্রাপ্ত স্কোর ৩৩-৪২। ৪২ স্কোর (৮৪ শতাংশ) নিয়ে যৌথভাবে খাদ্য মন্ত্রণালয়, পাট ও বস্ত্র মন্ত্রণালয় এবং পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় প্রথম। দ্বিতীয় মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং তৃতীয় স্থানে রয়েছে কৃষি মন্ত্রণালয়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ সেতু বিভাগ, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়, মাদ্রাসা বোর্ড, শিল্প মন্ত্রণালয় ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়। সরকারি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সর্বনিম্ন ৪ স্কোর (৮ শতাংশ) পেয়েছে আন্তঃবাহিনী নির্বাচন পর্ষদ। বিপরীতে প্রথম ১০টি অবস্থানে কোনো এনজিও নেই এবং সন্তোষজনক স্কোরও পায়নি। এমনকি ৯৪ দশমিক ৯ শতাংশ এনজিওর স্কোর উদ্বেগজনক। প্রথম ১০টি অবস্থানে থাকা ১৯ এনজিওর স্কোর ৭-২২। সর্বোচ্চ স্কোর ২২ (৪৪ শতাংশ) পেয়ে প্রথম কোস্টাল অ্যাসোসিয়েশন ফর সোশ্যাল ট্রান্সফরমেশন, দ্বিতীয় ঢাকা আহছানিয়া মিশন ও তৃতীয় অবস্থানে গণউন্নয়ন কেন্দ্র। প্রথম ১০টি অবস্থানের মধ্যে ছয়টিই আন্তর্জাতিক এনজিও।

ওয়েবসাইটের মাধ্যমে স্বতঃপ্রণোদিত তথ্য প্রকাশের অগ্রগতি সন্তোষজনক নয়। তথ্যের অভিগম্যতা ইতিবাচক হলেও ব্যাপ্তি এবং উপযোগিতা নিয়ে সরকারি-বেসরকারি উভয় প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগ প্রয়োজন। সরকারি প্রতিষ্ঠান অনেক তথ্য প্রকাশ করলেও তার হালনাগাদ, বিন্যাস, বিস্তৃতি ও সহজে পাওয়ার ক্ষেত্রে ঘাটতি রয়েছে। অন্যদিকে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইটে প্রয়োজনীয় তথ্যের সঙ্গে ধারণারও ঘাটতি রয়েছে বলে গবেষণায় দাবি করা হয়েছে।

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘তথ্য অধিকার আইন প্রণয়নে সরকারি-বেসকারি সংস্থাসমূহ ভূমিকা রেখেছিল। ফলে আইনটির সুষ্ঠু বাস্তবায়নেও তাদের কাজ করা উচিত। আইন প্রণয়নের ১১ বছরে মানুষের তথ্যপ্রাপ্তির সুযোগ বাড়লেও তা সন্তোষজনক বলা যাবে না। স্বতঃপ্রণোদিত তথ্য প্রকাশ ও প্রচার আইনিভাবে গুরুত্ব বাড়লেও চর্চা এবং প্রয়োগে ঘাটতি রয়েছে।’

গবেষণা প্রতিবেদন তৈরি করেন টিআইবির সাবেক গবেষক জুলিয়েট রোজেটি, ফাতেমা আফরোজ ও কুমার বিশ্বজিত দাস। সংবাদ সম্মেলনে এটি উপস্থাপন করেন টিআইবির গবেষণা ও পলিসি বিভাগের সিনিয়র ফেলো শাহজাদা এম আকরাম।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন, টিআইবির উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. সুমাইয়া খায়ের এবং গবেষণা ও পলিসি বিভাগের পরিচালক মোহাম্মদ রফিকুল হাসান।