সাভারে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রলীগ নেতার গুলিতে তারই সহযোগী মাদক ব্যবসায়ী আবুল হোসেন (৪০) গুলিবিদ্ধ হয়েছে। বর্তমানে আহত ওই মাদক ব্যবসায়ীকে সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। পুলিশ তাকে আটক করেছে।
বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলার পাথালিয়া ইউনিয়নের পানধোয়া এলাকার জাবি স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রভাষক মনসুর আলীর বাসার সামনে এ ঘটনা ঘটে। গুলি ছোড়ার খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে আশুলিয়া থানা-পুলিশ।
গুলিবিদ্ধ মাদক ব্যবসায়ী আবুল হোসেন সাভারের গকুলনগর এলাকার মৃত বাদশা মিয়ার ছেলে। অন্যদিকে গুলি ছোড়ার দায়ে অভিযুক্ত হলেন- জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শামীম মোল্লা।
থানা-পুলিশ জানায়, পানধোয়া এলাকার স্থানীয় বখাটে হাসানের নেতৃত্বে ১০-১৫ জন যুবক দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে জাবি স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রভাষক মনসুর আলীর বাড়ির সামনে জড়ো হয়। এ সময় বাগ্বিতণ্ডার একপর্যায়ে জাবি ছাত্রলীগ নেতা শামীম মোল্লা ওই শিক্ষককে লক্ষ করে গুলি ছোড়ে। তবে গুলিটি শিক্ষকের গায়ে না লেগে এক মাদক ব্যবসায়ীর গায়ে গিয়ে লাগে।
জাহাঙ্গীরনগর স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রভাষক মনসুর আলী জানান, দীর্ঘ দিন ধরে একটি চক্র তার বাসার সামনে মাদক কেনাবেচা করে আসছে। তিনি বেশ কিছুদিন ধরে মাদক বিক্রেতাদের বাঁধা দিয়ে আসছেন। বৃহস্পতিবার রাতেও একইভাবে বাঁধা দিলে মাদক ব্যবসায়ীদের সাথে প্রভাষক মনসুর আলীর বাগ্বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে স্থানীয় বখাটে হাসানের নেতৃত্বে ১০-১৫ জন যুবক বাসার সামনে এসে আমাকে ডাকাডাকি করতে থাকে। এ সময় তিনি বাসা থেকে বের হওয়ার সাথে সাথে জাবি ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শামীম মোল্লা তাকে লক্ষ করে তিন রাউন্ড গুলি করেন। এর মধ্যে একটি গুলি লাগে এলাকার চিহ্নিত মাদক বিক্রেতা আবুল হোসেনের ডান হাতে। গুলিটি তার হাত ভেদ করে বুকের ডান পাঁজরে গিয়ে বিদ্ধ হয়। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে সাভারে এনাম মেডিকেল কলেজের হাসপাতালে ভর্তি করেন।
তবে গুলির বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেতা শামীম মোল্লার সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
এদিকে এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিক্ষক ও তার পরিবারের সদস্যরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে জানিয়েছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ঘেঁষা পানধোয়া এলাকায় রমরমা মাদক ব্যবসা চলে আসছে। প্রশাসন কোন ব্যবস্থা না নেওয়ায় এখানকার বেশির ভাগ মানুষ বেপরোয়া হয়ে নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড ঘটাচ্ছে প্রতিনিয়ত।
আশুলিয়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) জিয়াউল হক বলেন, মাদক ব্যবসায় বাঁধা দেয়ায় লোকজন নিয়ে শিক্ষককে লক্ষ করে গুলি করার ঘটনায় গুলিবিদ্ধ মাদক ব্যবসায়ী আবুল হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বর্তমানে সে পুলিশ হেফাজতে থেকে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। অপরাধী যেই হোক তাকে আইনের আওতায় আনা হবে বলেও জানান তিনি।