অফডকে বেড়েছে কন্টেইনারের সংখ্যা

সব ধরনের আমদানি পণ্যবাহী কন্টেইনার বেসরকারি আইসিডি (অফডক) থেকে খালাসের সিদ্ধান্তে জটমুক্ত চট্টগ্রাম বন্দর। তবে আমদানি পণ্যের ডেলিভারি কাক্সিক্ষত পর্যায়ে না হওয়া এবং খালি কন্টেইনার জমে যাওয়ায় বিপাকে অফডকগুলো। এ অবস্থায় আগামীতে রপ্তানি পণ্যের চাপ বাড়লে সেখানে বড় জট সৃষ্টির আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

কভিড ও লকডাউন পরিস্থিতিতে কন্টেইনার জট ঠেকাতে গত ২৬ জুলাই থেকে আমদানি পণ্যবাহী কন্টেইনারগুলো ডিপোতে পাঠানো শুরু করে চট্টগ্রাম বন্দর। এতে গত বছরের মতো বড় ধরনের জটের পুনরাবৃত্তি এবার ঘটেনি। বন্দরের ট্রাফিক বিভাগ সূত্র জানায়, ৪৯ হাজার ১৮ টিইইউস ধারণক্ষমতার বিপরীতে ২৭ জুলাই বন্দরে মোট কন্টেইনার ছিল ৪৩ হাজার ১৮ টিইইউস। গত রবিবার তা নেমে এসেছে ৩৯ হাজার টিইইউসে। এদিকে বেসরকারি ডিপোগুলো থেকে পণ্য ডেলিভারির গতি বাড়েনি। ফলে আমদানি পণ্যবাহী কন্টেইনারের সংখ্যা কমছে না। আমদানি-রপ্তানি সংশ্লিষ্টদের মতে, বন্দর থেকে সরাসরি পণ্য খালাসে প্রক্রিয়াগত জটিলতা কম, সময়ও বাঁচে। অফডক থেকে পণ্য খালাস নেওয়ার ক্ষেত্রে প্রক্রিয়াগত জটিলতা বেশি। বন্দর থেকে অফডকগুলোয় স্থানান্তরের সময় শতভাগ কন্টেইনার স্ক্যানিং ও স্ক্যানিং রিপোর্ট যথাযথভাবে সংরক্ষণসহ অফডকে স্থানান্তরিত সব কমার্শিয়াল পণ্য চালান আবশ্যিকভাবে কাস্টম হাউজ, চট্টগ্রাম এবং শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের প্রতিনিধির সমন্বয়ে শতভাগ কায়িক পরীক্ষা করে প্রাপ্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর)। পাশাপাশি আছে রপ্তানি পণ্য জাহাজীকরণের চাপ। তা ছাড়া অনেক আমদানিকারক ব্যবসার কৌশল হিসেবে দ্রুত পণ্য খালাস না নিয়ে ডিপোতে ফেলে রাখেন। সার্বিক পরিস্থিতিতে অফডকে কন্টেইনার বেড়েছে।

বন্দর থেকে আমদানি পণ্যের কন্টেইনার অফডকে পাঠানো শুরুর দিন ১৮ অফডকে ছিল ৫৫ হাজার টিইইউস কন্টেইনার। গত রবিবারের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ডিপোগুলোতে মোট কন্টেইনারের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৬১ হাজার ৩৭৯ টিইইউস। এর মধ্যে ১৪ হাজার ৬৬৭ টিইইউস আমদানি পণ্যভর্তি কন্টেইনার। রপ্তানি পণ্যের কন্টেইনার রয়েছে ৬ হাজার ৬১২ টিইইউস। আর খালি কন্টেইনার রয়েছে ৪০ হাজার ১১০ টিইইউস।

বেসরকারি ডিপো মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ ইনল্যান্ড কন্টেইনার ডিপোস অ্যাসোসিয়েশনের (বিকডা) চেয়ারম্যান নুরুল কাইয়ুম খান দেশ রূপান্তরকে বলেন, অফডকগুলোয় রপ্তানি পণ্যবাহী কন্টেইনার কমলেও আমদানি পণ্যবাহী কন্টেইনারের সংখ্যা কমেনি। কিছুদিন পর রপ্তানি পণ্যের চাপ আসবে অফডকগুলোয়। এর আগেই আমদানি পণ্যের কন্টেইনার খালাস নেওয়ার বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্টদের বলেছি। আশা করছি, এ ব্যাপারে তারা দ্রুত ব্যবস্থা নেবেন। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের পরিচালক (ট্রাফিক) এনামুল করিম দেশ রূপান্তরকে জানান, ৩১ আগস্ট পর্যন্ত সব ধরনের আমদানি পণ্যের কন্টেইনার সরাসরি বেসরকারি ডিপোতে পাঠানোর নির্দেশনা রয়েছে এনবিআরের। আমরা সে নির্দেশনা বাস্তবায়ন করছি। তিনি বলেন, বর্তমানে বন্দর পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। নিয়মিত আমদানি পণ্য ডেলিভারি ও রপ্তানি পণ্য শিপমেন্ট হচ্ছে।