করোনাভাইরাস মহামারীর মধ্যে নিম্নমানের সুরক্ষা সামগ্রীতে সয়লাব খুলনার সর্বত্র। নকল, বেনামি ও ভেজাল মাস্ক, সেনিটাইজার ও অন্যান্য সুরক্ষা সামগ্রী এলাকার পান, চা, মুদি, কসমেটিকস দোকানসহ ভ্যান ও ইজিবাইকেও অবাধে বিক্রি হচ্ছে। এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষের কোনো নজরদারি নেই বললেই চলে।
চিকিৎসকরা বলছেন, সচেতন হতে গিয়ে নিম্ন ও ভেজাল পণ্য ব্যবহার করায় স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে। নিজেদের সুরক্ষিত রাখতে কিছু নিম্নআয়ের মানুষসহ সস্তাভোগী ব্যক্তিরা হুমড়ি খেয়ে পড়ছে এসব নিম্নমানের সুরক্ষা সামগ্রীর দোকানগুলোতে। এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে লাভবান হচ্ছে।
নগরীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, ফুটপাতের বিভিন্ন দোকানে এন-৯৫ বলে নিম্নমানের মাস্ক বিক্রি হচ্ছে বিভিন্ন দামে। মানুষের মুখে যে সার্জিক্যাল মাস্ক দেখা যাচ্ছে তা সস্তায় মাত্র ৫ টাকা খুচরা মূল্যে কেনা হচ্ছে। আর বিক্রেতা কিনছেন ১ টাকা ২০ পয়সা করে। প্রতি ৫০ পিস মাস্কের পাইকারি দর মাত্র ৫৫ থেকে ৬০ টাকা।
নগরীর টুটপাড়া এলাকার বাসিন্দা মো. হাফিজুর রহমান বলেন, ‘দৌলতপুরে রাস্তার ওপর মাস্ক, নন-ব্র্যান্ডের বেনামি হ্যান্ড স্যানিটাইজার, হ্যান্ডওয়াশসহ নিম্নমানের সুরক্ষা সামগ্রী বিক্রি হচ্ছে। এগুলো সুরক্ষা দেওয়ার পরিবর্তে মানুষকে স্বাস্থ্যঝুঁকিতে ফেলছে। প্রশাসনের উচিত এগুলোর বিষয়ে কঠোর নজরদারি করা।’
সোনাডাঙ্গা এলাকার চা দোকানি নজরুল ইসলাম বলেন, ‘মাস্কের ভালো-মন্দ বুঝি না। সবাই এসে চায় আর একটি মাস্ক বিক্রি করলে ২-৩ টাকা লাভ হয় তাই বিক্রি করি।’
গাজী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের নবজাতক শিশু ও কিশোর স্বাস্থ্য বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. বরকত আলী বলেন, ‘খুবই নিম্নমানের মাস্ক ও স্যানিটাইজারে বাজার সয়লাব হয়ে গেছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, তিন লেয়ারের যে কোনো মাস্ক করোনা প্রতিরোধে সক্ষম। কিন্তু বাজারে বিক্রি হওয়া মাস্কে তা নেই। এ বিষয়ে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দরকার।’
খুলনা জেলা প্রশাসকের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দেবাশীষ বসাক বলেন, বাজারে নিম্নমানের সুরক্ষা সামগ্রী বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে আমাদের নিয়মিত অভিযান অব্যাহত আছে। তবে আমাদের নিজেদেরই সচেতন হতে হবে। রাস্তার ওপর বিক্রি হওয়া নিম্নমানের সুরক্ষা সামগ্রী কেনা মোটেও উচিত নয়।’