মুন্সীগঞ্জে শিশুকে শ্বাসরোধে হত্যা

মুন্সীগঞ্জ সদরে যুবায়ের ইসলাম (৭) নামে এক শিশুকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে। চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে পাওনা টাকা চেয়ে ধস্তাধস্তির পর একজনের মৃত্যু হয়েছে। অন্যদিকে টাঙ্গাইলে পৃথক স্থান থেকে এক শিশুসহ চারজনের এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জে এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গত সোমবার রাত ও গতকাল মঙ্গলবার দিনের বিভিন্ন সময়ে এসব ঘটনা ঘটে। প্রতিনিধিদের পাঠানো প্রতিবেদন :

মুন্সীগঞ্জ : মুন্সীগঞ্জ সদরের চরাঞ্চল মোল্লাকান্দি ইউনিয়নের মাকহাটি গ্রামে গত সোমবার সন্ধ্যায় প্রাইভেট পড়তে যাওয়ার সময় শিশু যুবায়েরকে তার চাচাতো ভাই ইমন শ্বাসরোধে হত্যা করে পুকুরে ফেলে দেয়। পরে রাত ১টার দিকে পুকুর থেকে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে। যুবায়ের ওই গ্রামের মঈনউদ্দিন মাঝির ছেলে। পারিবারিক বিরোধের জেরে এ হত্যাকা- ঘটতে পারে বলে ধারণা করছে পুলিশ।

সদর থানার ওসি আবু বকর সিদ্দিক জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ওই শিশুকে হত্যার কথা স্বীকার করেছে ইমন। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।

টাঙ্গাইল : টাঙ্গাইল সদর, সখীপুর ও নাগরপুর উপজেলার বিভিন্ন স্থান থেকে গতকাল এক শিশুসহ চারজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, সদর উপজেলার করটিয়া সরকারি সা’দত কলেজের অফিস সহায়ক আমিনুল ইসলাম (৩৪) গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। গতকাল সকালে কলেজের টিনশেড ঘর থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তিনি পাশের গড়াসিন গ্রামের বাসিন্দা।

নাগরপুর উপজেলার মামুদনগর ইউনিয়নের বাড়িগ্রামের মৃত কাদেরের ছেলে মিয়া চাঁন (৬৫) গতকাল সেচ পাম্প চালাতে গিয়ে বিদ্যুতের তারে জড়িয়ে মারা যান। উপজেলার ভাদ্রা ইউনিয়নের লক্ষ্মীদিয়া এলাকায় যমুনার শাখা নদী নোয়াই থেকে মধ্যবয়সী এক অজ্ঞাত নারীর অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। অন্যদিকে সখীপুর উপজেলার কালিদাস গ্রামের নমপাড়ায় সকালে ঘরের পেছনে খেলতে গিয়ে বিদ্যুতের ছেঁড়া তারে জড়িয়ে স্মৃতি রানী সরকার (৭) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। শিশুটি ওই এলাকার রতন কুমার সরকারের মেয়ে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ : জেলার সদর উপজেলার মহানন্দা নদীর শেখ হাসিনা সেতু এলাকা থেকে মনিরুল ইসলাম বাবু (৪০) নামে এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহত বাবু উপজেলার চর ইসলামাবাদ চোরিপাড়া গ্রামের কেবলাল আলীর ছেলে। সদর থানার ওসি মোজাফফর হোসেন জানান, গতকাল সকালে শেখ হাসিনা সেতু এলাকায় স্থানীয়রা তার রক্তাক্ত মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেয়।

মিরসরাই : মিরসরাইয়ের ইছাখালী ইউনিয়নের হাসনাবাদ গ্রামে পাওনা টাকার জন্য হাতাহাতি ও ধস্তাধস্তির পর বাহার মিয়া (৪১) নামে একজনের মৃত্যু হয়। তিনি হাসনাবাদ গ্রামের মৃত নুরুল ইসলামের ছেলে। পেশায় সিএনজি অটোরিকশাচালক ছিলেন।

পুলিশ ও নিহতের শ্যালক কামরুল ইসলাম শাহীন জানান, সোমবার সন্ধ্যায় একই এলাকার রেদোয়ান তার পাওনা ৭০ টাকা ফেরত চেয়ে বাহারের সঙ্গে ধস্তাধস্তি শুরু করে। একজন অন্যজনের গলা চেপে ধরলে উপস্থিত সবাই এগিয়ে এসে তাদের ছাড়িয়ে দেয়। এরপর তারা প্রায় আধাঘণ্টা সময় ওই দোকানে কাটায়। বাড়ি ফেরার পর বাহার অসুস্থ হয়ে পড়লে মিরসরাই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।