আমানতকারীদের স্বার্থ সুরক্ষার কথা চিন্তা করে মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সুদহারের যে মাপকাঠি নির্ধারণ করা হয়েছে তা থেকে পিছিয়ে আসবে না বাংলাদেশ ব্যাংক। গতকাল বুধবার অনলাইনে অনুষ্ঠিত ব্যাংকার্স সভায় ব্যাংক নির্বাহীদের এ কথা স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির।
সভা শেষে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক মো. সিরাজুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, ‘কেন্দ্রীয় ব্যাংক অনেক চিন্তাভাবনা করেই আমানতের সর্বনিম্ন সুদহার বেঁধে দিয়েছে। ব্যাংকারদের দাবি ছিল করোনার কারণে এটা কিছুটা শিথিল করার। কিন্তু গভর্নর তাদের এ বিষয় স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছেন এ সুদহার বহাল থাকবে।’
গত রবিবার আমানতের সুদ বা মুনাফার হার মূল্যস্ফীতির নিচে নেমে যাওয়ায় সৃষ্ট সংকট নিরসনের উদ্যোগ নিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ব্যাংক খাতের এ নিয়ন্ত্রক সংস্থাটির নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, কোনো ব্যাংক এখন থেকে তিন মাস বা এর থেকে বেশি সময়ের জন্য রাখা আমানতে মূল্যস্ফীতির তুলনায় কম সুদ দিতে পারবে না।
গত রবিবার বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ থেকে এক সার্কুলার জারি করে বলা হয়, তিন মাস বা এর থেকে বেশি সময়ের জন্য ব্যাংকে রাখা মেয়াদি আমানতের ওপর মূল্যস্ফীতি হারের চেয়ে কম হারে সুদ বা মুনাফা দেওয়া যাবে না।
এর আগে ব্যাংকগুলো এত কম সুদ দিচ্ছিল যে, আমানতকারীরা ব্যাংকবিমুখ হয়ে বিভিন্ন ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ খাতসহ অনুৎপাদনশীল খাতে বিনিয়োগে ঝুঁকে পড়ে। কেননা তারা ব্যাংকে টাকা রেখে এক বছরে যে সুদ পায় তার তুলনায় মূল্যস্ফীতি বেশি থাকায় গ্রাহকের মুনাফার তেমন কিছু অবশিষ্ট থাকে না।
গতকালের বৈঠকে ব্যাংক নির্বাহীদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, আমানতের সুদের হার নিয়ে নতুন করে যে সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়েছে তা ব্যাংকের মুনাফার ওপর বড় ধরনের আঘাত হানবে। এই করোনার মধ্যে তারা ব্যাংকের মুনাফা কমে গেলে বিপাকে পড়বে বলে আশঙ্কা করেন। ব্যাংকের মুনাফা কমে গেলে ব্যাংকের পরিচালক বা উদ্যোক্তারা এ খাতে বিনিয়োগ রাখতে নিরুৎসাহিত হবেন বলেও তারা বৈঠকে জানান। তারা বলেন, শেয়ারগ্রহীতারা এ খাতে তাদের অর্থ দীর্ঘমেয়াদে বিনিয়োগ করে সামান্য লভ্যাংশ পাচ্ছেন যার ওপর তাদের করও দিতে হয়। বিভিন্ন ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকরা আমানতের সুদ কমানোর জন্য অনুরোধ করে যুক্তি-তর্ক উপস্থাপন করলেও বাংলাদেশ ব্যাংক সম্প্রতি দেওয়া নির্দেশনাই বহাল রাখবে বলে জানায়।
করোনা মহামারীর কারণে সাড়ে ছয় মাস পর এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হলো। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবিরের সভাপতিত্বে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সব ব্যাংকের এমডিরা এতে যোগ দেন।
বৈঠকে মোবাইল-ল্যাপটপ কেনার জন্য ব্যাংকগুলোকে ভোক্তা ঋণ দেওয়ার জন্য সম্প্রতি যে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে তা বাস্তবায়নের ধীরগতির কারণ জানতে চেয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর। এ খাতটিতে অনুৎপাদনশীল খাত হিসেবে এ যাবৎ দেখা হলেও এখন থেকে উৎপাদনশীল খাত হিসেবে দেখতে বলেছেন গভর্নর। বৈঠকে করোনার পরিপ্রেক্ষিতে ব্যাংকগুলোর বিশেষ সামাজিক দায়বদ্ধতা (সিএসআর) নিয়ে আলোচনা রয়েছে। এছাড়া প্রণোদনার আওতায় দ্বিতীয় পর্যায়ে ২০২১-২২ অর্থবছরে বড় শিল্পে ৩৩ হাজার কোটি টাকা এবং সিএমএসএমই খাতে ২০ হাজার কোটি টাকা বিতরণ লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়নে তাগাদা দেন গভর্নর।