নদীতে বাঁশের বেড়া দিয়ে মাছ শিকার কমলগঞ্জ উপজেলা

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার লাঘাটা ও পলক নদীতে অবৈধভাবে বাঁশের খাটি (বেড়া) দিয়ে চলছে মাছ শিকার। ফলে দেশীয় প্রজাতির মাছের প্রজনন ব্যাহত হচ্ছে। একটি অসাধু শিকারি চক্রের কবলে পড়ে মারা যাচ্ছে দেশীয় প্রজাতির ছোট-বড় মাছসহ জলজ প্রাণী।

গত মঙ্গলবার সরেজমিন দেখা যায়, উজানের ভারতীয় সীমান্তে পাহাড়ি এলাকা থেকে লাঘাটা নদীর উৎপত্তি হয়ে হাওরের মাঝ দিয়ে প্রবাহিত হয়ে মনু নদীতে গিয়ে মিলেছে। কিছু অসাধু মাছশিকারি চক্র নদীতে বাঁশের খাটি স্থাপন করেছে। লাঘাটা নদীর পতনঊষার ইউনিয়নের শ্রীরামপুর ও গোপীনগর এলাকায় দুটি এবং পলক নদীর পতনঊষার ও তারাপাশা এলাকায় চারটি বাঁশের খাটি দেওয়া হয়েছে। ফলে মাছের অবাধ গতি ও পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। খাটিতে আটকে মাছ, ব্যাঙ, সাপসহ বিভিন্ন জলজ প্রাণী মারা যাচ্ছে।

পতনঊষারের ধুপাটিলা গ্রামের কৃষক তাজু মিয়া, শেরওয়ান আলী, ফারুক মিয়া, গোপীনগরের তোয়াবুর রহমান, মনু মিয়া বলেন, কয়েক বছর আগেও লাঘাটা নদী, কেওলার হাওরে প্রচুর দেশীয় প্রজাতির মাছ ছিল। কিন্তু এখন তা অনেক কমে এসেছে। নদী সেচে বাঁশের খাটি স্থাপন করে মাছ শিকার করলেও জড়িতদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে না। যদি স্বার্থান্বেষী মহলের অবৈধ পন্থায় মাছ শিকার বন্ধ করা যেত তাহলে চলতি মৌসুমে লাঘাটা নদীতে প্রচুর মাছ পাওয়া যেত। এভাবে জায়গায় জায়গায় বাঁশের বেড়া দেওয়ার কারণে মাছ উজানে উঠতে পারছে না।

পরিবেশকর্মী ও সাংবাদিক নুরুল মোহাইমীন মিল্টন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘প্রতি বছর এই নদীগুলোর ওপর বিভিন্ন রকম অত্যাচারে মাছসহ জলজ প্রাণীর মৃত্যু ঘটছে। ফলে নদী ভরাট এবং সরু হয়ে পড়ছে। অথচ এসব অপরাধীর বিরুদ্ধে কখনো কোনো আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।’

এ বিষয়ে কমলগঞ্জ উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সিদ্দিকুর রহমান বলেন, লাঘাটা ও পলক নদীতে অবৈধ বাঁশের খাটি দেওয়ার কোনো অভিযোগ আসেনি। তবে সরেজমিন তদন্তপূর্বক নদী থেকে বাঁশের খাটি অপসারণসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।