স্ত্রীকে নিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েছিলেন মেসি

বার্সেলোনায় থাকা হচ্ছে না, এই খবর যেভাবে পেয়েছিলেন তা প্রকাশ করলেন লিওনেল মেসি। জানালেন, প্রথম খবরটি শোনার পর স্ত্রী আন্তোনেলা রোকুজ্জোর সঙ্গে কান্নায় ভেঙেছিলেন তিনি।

ইচ্ছে থাকাও সত্ত্বেও বার্সেলোনায় থাকা হয়নি মেসির। লা লিগার বেতন সীমা, ক্লাবের ‘আর্থিক ও কাঠামোগত বাধা’র কারণে তাকে ধরে রাখতে পারেনি স্পেনের ক্লাবটি। তাই ক্যাম্প ন্যু ছাড়তে হয়েছে মেসিকে। এরপর আর্জেন্টাইন তারকা নতুন ঠিকানা হিসেবে বেছে নিয়েছেন ফরাসি ক্লাব পিএসজিকে।

মেসিকে পেয়ে প্যারিসে এখন উৎসব চলছে। আর বার্সেলোনা জুড়ে হাহাকার- ক্লাবের ইতিহাসের সেরা তারকাকে হারানোর। শৈশবের ক্লাবকে বিদায় বলা মেসির জন্যও ছিল কঠিন। যদিও তিনি এক বছর আগে ক্লাব ছাড়তে চেয়েছিলেন। কিন্তু এবার ক্লাবের সঙ্গে চুক্তি শেষ হওয়ার পর নতুন চুক্তির জন্য প্রস্তুত ছিলেন তিনি।

বিবিসির সাংবাদিক গিলেম বালাগকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মেসি বলেন, ‘আমার বাবা আমাকে বাড়িতে বসে এই খবর জানিয়েছিলেন। তিনি বার্সেলোনা সভাপতি হুয়ান লাপোর্তার সঙ্গে দেখা করেছিলেন। ফিরে এসে আমাকে বললেন। আন্তোনেলা (মেসির স্ত্রী) ও বাচ্চাদের জানানোর আগে আমাকে প্রস্তুত করতে চেয়েছিলেন।’

মেসি বলে যান, ‘আমি এরপর তাকে বললাম এবং আমরা কাঁদছিলাম। আমরা খুব হতাশ হয়ে পড়ি। এরপর বাচ্চাদের কাছে খবরটি কিভাবে উপস্থাপন করা যায় সে উপায় নিয়ে আলোচনা করতে থাকি। কারণ ডিসেম্বরে আমরা বলেছিলাম, আমরা থেকে যাব। আমরা জানতাম এটা বিশেষ করে থিয়াগোর জন্য বড় ধাক্কা হবে।’

মেসি আশাবাদী তাদের তিন ছেলেই এই পরিবর্তন দ্রুত মানিয়ে নেবে। বলেন, ‘আমরা অনেক বেশি সময় দুশ্চিন্তায় ছিলাম। তবে ছেলেরা অতটা বাজেভাবে খবরটা গ্রহণ করেনি। থিয়াগো আমার মতো, আমরা কিছু না বলে ভেতরে কষ্ট পাই। তবে এটা তেমন গুরুতর কিছু নয়। সে সবার মতো মানিয়ে নেবে। ওর জন্য এটা একটা নতুন অভিজ্ঞতা এবং এটা মানুষ হিসেবে বড় হতে ওকে সাহায্য করবে।’

পিএসজির সঙ্গে চুক্তি চূড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত অনিশ্চয়তা পেয়ে বসেছিল মেসিকে, ‘বার্সেলোনা আমাদের খবরটি জানানোর পর, আমরা জানতাম না আমরা কি করব। আমাদের কোথাও যাওয়ার জায়গা ছিল না। অনেক অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল আমাদের জন্য…। আমি যখন মানুষকে বিদায় জানালাম তখন পর্যন্ত এটি কঠিন ছিল। পিএসজির সঙ্গে চুক্তি হয়ে গেলে আমি কেবল সামনে দিকে তাকিয়ে থাকতে পারতাম।’

মেসি এও বলেছেন, পিএসজির সঙ্গে তার বাবার কথা বলার বিষয়টি অবগত ছিলেন বন্ধু নেইমার ও জাতীয় দলের সতীর্থ অ্যাঙ্গেল ডি মারিয়া।