শিক্ষকনামা

জালাল উদ্দীন আহমদ ১৯২৮ থেকে ১৯৩২ পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিতে অনার্স করে স্কুল শিক্ষক হওয়ার জন্য তার গ্রামের বাড়িতে ফিরে যান। ১৯৪০ থেকে ১৯৪৪ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজিতে অনার্স ও এমএতে ফার্স্ট ক্লাস ফার্স্ট হওয়ার পরও সিভিল সার্ভিস বেছে নেন কবীর চৌধুরী। আবার শিক্ষকতায় ফিরে আসেন। বিএম কলেজ ও আনন্দ মোহন কলেজে অধ্যক্ষ ছিলেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েও পাশ্বভুক্তিতে অধ্যাপক হিসেবে যোগ দিয়েছেন। ১৯৫০ সালে উদ্ভিদ বিজ্ঞানে এমএসসি পাস করে বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতার সম্ভাবনাকে পাশ কাটিয়ে সিলেট এমসি কলেজে প্রভাষক হিসেবে যোগ দেন আরেকজন। তিনি অধ্যক্ষ গোলাম রসুল হিসেবে পরিচিত। এই তিনজন শিক্ষকের বিশ^বিদ্যালয় স্মৃতি এই লেখাটিতে উপস্থাপন করা হয়েছে।

কবীর চৌধুরীর কাল ১৯৪০-৪৪

চল্লিশের দশকের শুরুতেই ঢাকা কলেজ পেরিয়ে আসা কবীর চৌধুরী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগে ভর্তি হলেন। ১৯৪০ থেকে ১৯৪৪ তার বিশ্ববিদ্যালয় ও এসএম হলের কাল। আগে কখনো হোস্টেল বা হলে থাকেননি, তবুও মানিয়ে নিতে সমস্যা হয়নি। হলটির বয়স তখন আঠারো কিংবা উনিশ বছর, সুন্দর একটি বর্ণনা তিনি দিয়েছেন : সলিমুল্লাহ হলের স্থাপত্য কৌশল, তার বড় বড় মার্বেলের গম্বুজ, চওড়া টানা বারান্দা, সামনে খানিকটা খোলা জায়গা, মাঝখানে দুভাগে বিভক্ত বাগানের জন্য মস্ত বড় প্রাঙ্গণ, চারদিক দিয়ে উঠে যাওয়া দ্বিতল ভবন, বিশেষ করে তার ছড়ানো খোলামেলা উদার ভাবটি আমাকে প্রথম দিনই মুগ্ধ করেছিল। ভেতরের বাগান ছিল সযত্ন বিন্যস্ত। সেখানে নানা রকম পাতাবাহারের গাছ ছাড়াও ছিল রঙ্গন, গন্ধরাজ, গোলাপ, জবা, ইউক্যালিপটাস এবং আরো নানা রকম মৌসুমি গাছগাছালি। বিশেষ করে শীতের সময় মৌসুমি ফুলের বর্ণাঢ্য সমারোহ সমস্ত বাগানটাকে অসম্ভব ঝলমলে করে তুলত। আর পরিচ্ছন্ন-পরিপাটি ঘন সবুজ ঘাসের লন ছিল বিশেষ মনোমুগ্ধকর।

কবীর চৌধুরী যখন ভর্তি হলেন ইংরেজির বিভাগীয় প্রধান ডক্টর মাহমুদ হাসান; ১৯৪২-এ তিনি ভাইস চ্যান্সেলর হলেন আর বিভাগীয় প্রধান হিসেবে দায়িত্বপ্রাপ্ত হলেন অধ্যাপক এম এন রায়। সুজাতা রায়, এম এন রায়ের স্ত্রী তখন ছিলেন ইডেন কলেজের অধ্যক্ষ, পূর্ববাংলার এত উঁচু পদে বাঙালি কিংবা ভারতীয় বংশোদ্ভূত অন্য কোনো নারী তখন সমাসীন ছিলেন না। অধ্যাপক মন্মথ নাথ অধ্যাপক অমলেন্দু বসু সাইকেলে চড়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে আসতেন। এম এন রায়ও কখনো সাইকেলে আসতেন, তবে অধিকাংশ সময়ই তার স্ত্রী তাকে নামিয়ে দিয়ে গাড়ি নিয়ে ইডেন কলেজে চলে যেতেন। তার সি. আর একজন শিক্ষক সুকুমার গাঙ্গুলি। তার প্রিয় শিক্ষকদের একজন অধ্যাপক পি কে গুহ যখন শেক্সপিয়ার পড়াতেন তার আবেগময় সংলাপ এবং স্বগতোক্তিগুলো ঠিক মঞ্চের উচ্চারণ বলেই মনে হতো। কবীর চৌধুরী অনার্স এবং এম এ দুটোতে ফার্স্ট ক্লাস ফার্স্ট হন। বুদ্ধদেব বসুর পর সব পেপারেই ফার্স্ট ক্লাসএই কবীর চৌধুরী ছাড়া আর কেউই ছিলেন না। তার সঙ্গে এমএ-তে দ্বিতীয় স্থান অধিকার করা প্রণব গুহ ষাটের দশকের শেষে ঢাকায় ভারতের ডেপুটি হাইকমিশনার নিযুক্ত হয়েছিলেন। এমএ-তে ফার্স্ট ক্লাস পাওয়া অপর একজন ক্লাসমেট হচ্ছেন আজীজ-উল-হক, এক সময় সরকারের কৃষি ও বনমন্ত্রী হয়েছিলেন, তার স্ত্রী হুসনে আরা হকও পরে ইংরেজির অধ্যাপক হন। ইংরেজির বাইরেও যেসব শিক্ষকের সুখস্মৃতি তার মনে জেগে আছে তাদের মধ্যে রয়েছেন প্রফেসর সত্যেন বোস, ড. মহেশ^রী, ড. আয়ার, প্রফেসর হরিদাস ভট্টাচার্য, ড. এইচ এল দে, প্রফেসর জে কে চৌধুরী, ড. সুশীল কুমার দে, প্রফেসর এ কে দাশগুপ্ত, ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ, প্রফেসর মোহিতলাল মজুমদার, ড. কাজী মোতাহার হোসেন প্রমুখ।

সে সময় এস এম হল খেলার মাঠেও ছিল লাগাতার বিজয়ী দলফুটবল, ক্রিকেট, হকি তিনটিরই সেরা এগারতে কবীর চৌধুরী ছিলেন। ভালো ছাত্র, ভালো বক্তা, ভালো খেলোয়াড়, সহিত্য ও সংস্কৃতিতে সেরা সুতরাং তার গুণই নারী ক্লাসমেটদের তার প্রতি আকৃষ্ট করবে। সংখ্যায় তারা ছিলেন মাত্র চারজন সুনীতি, প্রতিমা, বেলা ও স্মৃতিরেখা। প্রতিমা ছাড়া অন্য তিনজন পড়াশোনায় ভালো ছিলেন না। সুনীতি থাকতেন ওয়ারীতে, প্রতিমা লক্ষ্মীবাজারে, বেলা পুরান ঢাকার কোথায় আর স্মৃতিরেখা লেডিস হল চামেরী হাউজে। সুনীতিকে পড়াশোনা বুঝিয়ে দিতে সাইকেলে চেপে ওয়ারী যেতেন। একদিন সুনীতিকে পড়িয়ে বেরোচ্ছেন হকিস্টিক হাতে তিন চারটে ছেলে তার জন্যই দাঁড়িয়ে আছে, কথা না শুনলে জনমের শিক্ষা দেবে। তারা তাকে সাইকেল থেকে নামিয়ে চড়া গলায় সাবধান করে দিল : ‘সহপাঠী হই বা যাই হই, হিন্দু পাড়ার হিন্দু মেয়ের কাছে মুসলমান ছেলের এরকম আসা-যাওয়া তারা সহ্য করবে না।’ কথাটা সুনীতির কানেও গিয়েছে, অপদস্থ হওয়ার ভয়ে তিনি আর ওয়ারী যাননি। স্মৃতিরেখা খ্রিস্টান, আবেগময় সম্পৃক্ততার ঘটনাটি তার সঙ্গেই ঘটেছিল। কবীর চৌধুরীর শুভানুধ্যায়ীদের কারও কারও ভয় ছিল তিনিও না মাইকেল মধুসূদন দত্তের মতো খ্রিস্টান হয়ে যান। বিএ অনার্সের পর স্মৃতিরেখা এমএ পড়তে আলীগড় চলে যান, অপরিণত বয়সে অকস্মাৎ মৃত্যুবরণ করেন। কবীর চৌধুরী ২৯ জুন ১৯৪৫ বিয়ে করেন ফলিত রসায়নের মেহের তাইমুরকে দু’বছর প্রেম করে অতঃপর।

জালাল উদ্দীন আহমদের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

প্রচলিত অর্থে জালাল উদ্দীন আহমদ সেলেব্রিটি হন। ১৯২৮ থেকে ১৯৩২ এই সময় মুসলিম হলে থেকে গণিতে অনার্স ডিগ্রি লাভ করে ‘এবার ফেরাও মোরে’ ডাক শুনে নয়, বাধ্য হয়েই গ্রামে ফিরে গেছেন. স্কুল মাস্টারি করেছেন, হেডমাস্টার হিসেবে কিংবদন্তিতে পরিণত হয়েছেন।

প্রথম বিভাগে ম্যাট্রিকুলেশন এবং প্রথম বিভাগে আইএ পাস করে মাসিক ১০ টাকা বৃত্তির পুঁজি নিয়ে ফেনী জগৎপুর গ্রাম থেকে পায়ে হেঁটে ফাজিলের ঘাট, পদব্রজে (পায়ে হেঁটে না পদব্রজে গৌরকিশোর ঘোষের রচনাটি স্মরণ করছি) দাগানভুঁইয়া, আবারও পায়ে হেঁটে কিংবা গরুর গাড়িতে ফেনী, ভৈরব বাজারে তখনো মেঘনার ওপর ফেরি নির্মিত না হওয়ায় ফেনী ও ঢাকার মধ্যে রেল যোগাযোগ স্থাপিত হয়নি, সুতরাং ফেনী থেকে লাকসাম জংশন হয়ে চাঁদপুর, চাঁদপুর থেকে স্টিমারে নারায়ণগঞ্জ তারপর ট্রেনে ফুলবাড়িয়া। দুটো প্রথম বিভাগ আর দুই গণিতে ৮৬% নম্বর নিয়ে তিনি যে চান্স পাবেনই সে ব্যাপারে আস্থাশীল ছিলেন। মুসলিম হলে জায়গা পেলেন (এর সঙ্গে এস এম হলকে গুলিয়ে না ফেলার অনুরোধ তিনি করেছেন তার স্মৃতিকথা ‘প্যারাসুট অব এক্সিলেন্স ইন টিচিং : অ্য মেমোয়ার’ (ইউপিএল ২০২১) গ্রন্থে। মুসলিম হল ছিল এখনকার ঢাকা মেডিকেল কলেজের পুরনো ভবনের দোতলায়, আর ক্লাস হতো নিচতলায়। তিনি যখন বিশ্ববিদ্যালয় ছেড়ে যান, সেই ১৯৩২ সালে এস এম হলের নির্মাণকাজ শেষ হলে ছাত্র অন্তর্ভুক্তিকরণ শুরু হয়।

হলে থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার মাসিক ন্যূনতম খরচ ৩৫ টাকা। ৮ টাকা বেতন, ১১ টাকা খাবার, ২ টাকা সিট ভাড়া, বইপত্র-কাগজ-কলম পোশাক আরও ১৪ টাকা। কিন্তু জালাল উদ্দীনের হাতে আছে বৃত্তির ১০ টাকা। বাকি ২৫ টাকার ১০ টাকা প্রতি মাসে দিলেন এক জ্ঞাতিভাই, কলকাতায় চাকরিজীবী, তার মেন্টর একদা ফেনীর এসডিও মিজানুর রহমান মাসে ৫ টাকা, ঢাকার মুসলিম সোসাইটি মাসে ৫ টাকা হিসেবে ২ বছর, বাবার সংগতি না থাকার পরও প্রতি মাসে ৬-৭ টাকা জোগান দিয়েছেন। তিন বছরের অনার্স ও হলজীবনে বাবার কাছ থেকে নিয়েছেন ২৩৮ টাকা, জ্ঞাতিভাই ইমাম শরিফ দিয়েছেন ৩৬০ টাকা এবং মিজানুর রহমান ২৩৭ টাকা। শেষ বছরে টাকার টানাপড়েন উৎরে যাওয়ার জন্য ২০০০ টাকা যৌতুক গ্রহণের বিনিময়ে জনৈক কেরামত আলীর ক্লাস নাইনে পড়া শ্যামবরণ কন্যাকে বিয়ে করতে সম্মত হন। কিন্তু আলোচনা আরও এগোবার পর বুঝতে পারেন ২০০০ টাকা যৌতুকের প্রস্তাবটি বানোয়াট, তবে তারা জামাতাকে পড়াশোনায় সাহায্য করতে সম্মত। জালাল উদ্দীন প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে চলেন। মনোকষ্ট নিয়ে এই পাত্রীর বাবা তাকে লিখলেন তুমি আমাকে আশা দিয়ে আশা ভঙ্গ করেছ, এ জন্য আল্লাহর কাছ থেকে তোমাকে শাস্তি পেতে হবে। তারুণ্যের ঔদ্ধত্য নিয়ে তিনি জবাব দিলেন। আমার সিদ্ধান্ত আপনার স্বার্থের বিরুদ্ধে যাচ্ছে বলে আমাকে অভিশাপ দিচ্ছেন শকুনের বদ দোয়ায় গরু মরে না। নিজের এই আচরণের জন্য তিনি অপরাধ বোধ করেছেন। শিগগির এই মেয়েটির আন্ডার গ্র্যাজুয়েট এক পাত্রের সঙ্গে বিয়ে হয়, পাত্রটির অপরিণত বয়সে মৃত্যু হয়। পরে একজন আইনজীবীর সঙ্গে তার বিয়ে হয়।

জালাল উদ্দীন যখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ঢুকলেন তখন কেবল ৭ বছর বয়সী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর জর্জ হ্যারি ল্যাংলি। ১৯২৬ থেকে ১৯৩৪ তিনি এই দায়িত্ব পালন করেছেন। সে সময় মুসলমান শিক্ষক হাতেগোনা কজন মাত্র। ব্রিটিশ ও ইউরোপীয় শিক্ষক ছিলেন এমনকি আরবির অধ্যাপকও ছিলেন জার্মান। গণিত বিভাগে শিক্ষকদের সবাই হিন্দু। মুসলিম হলের প্রভোস্ট ছিলেন ডক্টর মাহমুদ হাসান, ১৯৪২ থেকে ১৯৪৮ পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেরল ছিলেন। ডক্টর শহীদুল্লাহ মাহমুদ হাসানের পর ভারপ্রাপ্ত প্রভোস্ট ছিলেন। ১০ সেপ্টেম্বর ১৯৩২ তিনি জালাল উদ্দীনের টেস্টিমোনিয়াল পুরোটাই নিজ হাতে লিখে দিয়েছেন। তার সুপারিশপত্র তিনি সংরক্ষণ করেছেন এবং তার ছবি গ্রন্থে অন্তর্ভুক্ত করেছেন। শেষ বর্ষে কয়েক মাস অস্থায়ী চাকরি করেছেন। তখন আদমশুমারি শুরু হয়। তিনি ৩০ টাকা বেতনে ৪ মাস সুপারভাইজার পদে এবং তারপর ৪৫ টাকা বেতনে এনুমারেটর পদে কাজ করেছেন। তাকে ডেকে এই চাকরিটি দিয়েছিলেন ফেনীর সেই এসডিও মিজানুর রহমান, তিনি আদমশুমারির সময় ঢাকা বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত ডেপুটি সুপারিনটেনডেন্ট ছিলেন। জালাল উদ্দীন স্মরণ রেখেছেন, তখন ঢাকার জনসংখ্যা দাঁড়ায় ১০,৩৮,৫১৮। তিনি দাগনভুঁইয়া কামাল আতাতুর্ক স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা হেড মাস্টার; ১৯৩৮ সালে যার বেতন নির্ধারিত হয় ৭৪ টাকা। ফেনী পাইলট স্কুলেরও হেডমাস্টার ছিলেন। তার ছাত্র কাজী ফজলুর রহমান কলকাতা বিশ^বিদ্যালয়ের ম্যাট্রিকুলেশন পরীক্ষায় তৃতীয় স্থান দখল করেন।

দেশভাগে শিক্ষক ভাগ

অধ্যক্ষ গোলাম রসুল নামেই পরিচিত। ডেমনেস্ট্রেটর থেকেই শুরু, ফরিদপুর রাজেন্দ্র কলেজ ও সিলেট এমসি কলেজে অধ্যক্ষ, অবসর গ্রহণের পর আবার নতুন যাত্রা, গার্লস কলেজ স্থাপন, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ট্রেজারার। উদ্ভিদ বিদ্যায় কেউ বিএসসি অনার্স পড়ার স্বপ্ন দেখবেন, এমন ছাত্র দুর্লভ। কিন্তু গোলাম রসুল পূর্ববঙ্গে কোথাও তার বিষয়ে অনার্সের হদিস পেলেন না, উপায় কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়, কিন্তু তা ব্যয়সাপেক্ষ, আর সে বছরই (১৯৪৪) এমসি কলেজে বিএসসিতে উদ্ভিদ বিদ্যা কোর্স চালু হলো। ১৯৪৬ সালে কলকাতার অধীনেই বিএসসি পাস করে এমসি কলেজেই উদ্ভিদ বিদ্যার গবেষণাগারের জন্য ডেমনেস্ট্রেটর হয়ে চাকরিতে যোগ দিলেন। বহিরাগত পরীক্ষক হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদ বিদ্যা বিভাগের প্রধান অধ্যাপক পি মহেশ্বরী সিলেটে এসে গোলাম রসুলের তত্ত্বাবধানে থাকা উদ্ভিদ মিউজিয়াম দেখে মুগ্ধ হন এবং তাকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমএসসি ডিগ্রি নেওয়ার আমন্ত্রণ জানান। সেবারই প্রথম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় উদ্ভিদ বিদ্যার এমএসসি শুরু করতে যাচ্ছে। ভারত ভাগের পর প্রথম শিক্ষাবর্ষ ১৯৪৮-৪৯। চাকরি ছেড়ে ফজলুল হক হলে উঠে একক সহপাঠীর অতিথি হিসেবে যখন ক্লাস শুরু করেন শিক্ষার্থী মাত্র ছয় জন। দেশভাগের মন্দ প্রভাব পড়ে তার বিভাগের ওপর। বিভাগের প্রধান ড. পি মহেশ্বরী চলে গেলেন দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ে, খ্যাতনামা অপর অধ্যাপক ড. রোবায়েত খান চলে গেলেন আলীগড় বিশ্ববিদ্যালয়ে। অভিজ্ঞ শিক্ষক রয়ে গেলেন মাত্র একজন ড. মজিদ আহমদ। বেশ খেটেখুটে পড়াশোনা করে ১৯৫০-এর ডিসেম্বরে এমএসসি ফাইনাল দিলেন। তারপর অপেক্ষা করছেন, রেজাল্ট হবে, চাকরিতে ঢুকবেন, যত তাড়াতাড়ি হয় তত মঙ্গল। ১৯৫১-এর মার্চে টেলিগ্রাম পেলেন ফার্স্ট ক্লাস সেকেন্ড হয়েছেন। চেয়ারম্যান ড. মজিদ আহমেদ অভিনন্দন জানিয়ে বললেন, ইচ্ছুক হলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রভাষক হিসেবে যোগ দেওয়ার কথা ভাবতে পারেন। ফল বেরুবার সঙ্গে সঙ্গে ডিপিআই অফিস থেকে চিঠি পেলেন সরকারি অফিসে প্রভাষক হতে রাজি থাকলে যেন সম্মতি জানান। তিনি সিলেট ফিরে এলেন, বাবা-মার পরামর্শ নিয়ে শিক্ষা বিভাগের চাকরিটা নিলেন। এমসি কলেজের প্রভাষক। ঘুষ, তদবির, দলবাজি কোনো কিছুরই প্রয়োজন হয়নি।

লেখক সরকারের সাবেক কর্মকর্তা, কলামনিস্ট

momen98765@gmail.com