‘বায়ার্ন মিউনিখ আর গোটা দুনিয়া স্তব্ধ হয়ে গেছে। জার্মানির কিংবদন্তি ফুটবলার জার্ড মুলার রবিবার সকালে ৭৫ বছর বয়সে মারা গেছেন। মুলার জার্মানির রেকর্ড চ্যাম্পিয়ন বায়ার্ন মিউনিখ আর জার্মান জাতীয় ফুটবল দলের হয়ে বহু ইতিহাস গড়েছেন।’ দুঃসংবাদটি গতকাল বায়ার্ন মিউনিখ তার টুইটার পেজে এভাবেই জানায় প্রথম।
পরিসংখ্যান মুলারকে দা গ্রেটেস্ট গোল স্কোরার আখ্যা দিয়েছে। আর গোল করার অসাধারণ দক্ষতার জন্য আদর করে জার্মানরা তাকে ডাকত ‘ডার বোম্বার’ বা বোমারু নামে। লেখক, সাংবাদিক ডেভিড উইনারের বর্ণনায়, ‘মুলার ছিলেন ছোট, মোটা, বিশ্রী চেহারার। গতিও আহামরি দ্রুত নয়। কখনোই একজন মহান ফুটবলারের প্রচলিত ধারণার সঙ্গে যান না। কিন্তু দ্রুততার সঙ্গে গিয়ে গোল করার অবিশ্বাস্য প্রবৃত্তি ছিল তার। তার ছোট পা তাকে কম জায়গার মধ্যে ঘুরে দৌড়ানোর ক্ষমতা দিয়েছিল, যার সঙ্গে প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়রা পেরে উঠত না। পড়ে যেত। অসম্ভব পরিস্থিতির মধ্যেও গোল করতে পারত মুলার।’
ক্লাব ক্যারিয়ারের ৬০৭টি প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে ৫৬৬ গোলের অনন্য এক কীর্তি গড়েছেন জার্ড মুলার। বুন্দেসলিগায় তার গোলসংখ্যা ৩৬৫টি। লিগে সর্বাধিক ৭ বার সর্বোচ্চ গোলদাতা তিনি। জার্মান জাতীয় দলের (পশ্চিম জার্মানি) হয়ে ৬২টি ম্যাচ খেলে মুলার গোল করেছেন ৬৮টি। ১৯৭৪ সালে বিশ্বকাপজয়ী জার্মান দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য মুলার। এর দুবছর আগে জার্মানির হয়ে ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপও জেতেন। ১৯৭০-এর মেক্সিকো বিশ্বকাপে ১০ গোল করে গোল্ডেন বুট জিতেছিলেন। দুই বিশ্বকাপে (১৯৭০ ও ১৯৭৪) গোল করেন ১৪টি। ২০০৬-এ ব্রাজিলের রোনালদো ছাড়িয়ে যাওয়ার আগ পর্যন্ত যা ছিল বিশ্বকাপ ইতিহাসে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত গোল। ১৯৬৬ সালে শুরু করে ১৯৭৪-এ বিশ্বকাপ জিতেই ক্যারিয়ার শেষ করেন তিনি। সেবার তার জয়সূচক গোলেই ফাইনালে নেদারল্যান্ডসকে ২-১ গোলে হারায় পশ্চিম জার্মানি। ১৯৭০ সালে জিতেছিলেন ব্যালন ডি’অর। ১৯৭২ সালে এক বর্ষপঞ্জিতে ৮৫ গোলের রেকর্ড গড়েছিলেন তিনি, যা ২০১২ সালে লিওনেল মেসি ছাড়িয়ে যান।