শাকিব খানের নতুন সিনেমা ‘গলুই’

কয়েক বছর আগেও প্রতি মাসে একাধিক নতুন সিনেমার ঘোষণা দিতেন ঢালিউড সুপারস্টার শাকিব খান। তবে এখন তিনি কাজ করছেন বেছে। সেই সঙ্গে করোনা পরিস্থিতিও প্রভাব ফেলছে। তাই শাকিব খানের নতুন সিনেমার খবর আসছে বেশ বিরতি দিয়ে। এ প্রসঙ্গে শাকিব খান বলেন, ‘এটা একদিকে ভালো যে একটু বিরতির পর এক এক সিনেমার ঘোষণা এলে দর্শকের আগ্রহ বেশি থাকে। কিন্তু এখন দারুণ কিছু কাজ করতে চাই। তাই সিনেমার সংখ্যার চেয়ে মান আমার কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। এই চ্যালেঞ্জিং সময়ে যেনতেন সিনেমা করলে কেউ টিকে থাকতে পারবে না। দর্শকের টেস্ট অনেক বদলেছে। সেই অনুযায়ী গল্প, চরিত্র, সিনেমার নির্মাণ, অভিনয়ের ধরন এমনকি লুক পর্যন্ত নির্বাচন করতে হবে। তবেই দর্শক ছবিটি আপন করে নেবে।’

শাকিব খান সর্বশেষ শ্যুটিং করেছেন আরটিভি প্রযোজিত নাট্য নির্মাতা তপু খানের প্রথম চলচ্চিত্র ‘লিডার : আমিই বাংলাদেশ’ সিনেমার। এর আগে তিনি শেষ করেছেন ওয়াজেদ আলী সুমনের পরিচালনায় ‘অন্তরাত্মা’ সিনেমার কাজ। এবার তার নতুন ছবি ‘গলুই’। ২০২০-২১ অর্থবছরে সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত এ সিনেমার নির্মাতা এস এ হক অলিক, প্রযোজক খোরশেদ আলম খসরু। ‘গলুই’কে অনুদানের জন্য নির্বাচিত করায় উচ্ছ্বসিত প্রযোজক খসরু। জানালেন, এ বছর জমাকৃত ২৩৮টি চিত্রনাট্যের মধ্যে ২০টি চলচ্চিত্রকে অনুদানের জন্য নির্বাচিত করেছে তথ্য মন্ত্রণালয়। তার মধ্যে ‘গলুই’ একটি। স্বভাবতই এমন অনুদানে আমরা সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞ। তবে বিশেষ ধন্যবাদ দিতে চাই চিত্রনাট্য বাছাই কমিটিকে। খসরু আরও বলেন, ‘আমার সব সিনেমাই পুরোপুরি কমার্শিয়াল, একেবারে অ্যাকশন-রোমান্স, গানে ভরপুর। ভিন্ন ধারার গল্প নিয়ে প্রথমবার কাজ করতে যাচ্ছি, তার মানে ‘গলুই’ কিন্তু আর্টফিল্ম নয়- গ্রামীণ পটভূমির গল্প ‘গলুই’। তবে এর পাশাপাশি থাকছে রাজনীতি, সমাজ ও পরিবারের জন্য একটি সচেতনতামূলক বাণী। আর এমন একটি ভিন্ন ধারার ছবিতে আমাদের শীর্ষ নায়ক শাকিব খানকে নতুনভাবে দর্শকের সামনে আনতে পারব ভেবে ভালো লাগছে।’

প্রথমবারের মতো সরকারি অনুদানের ছবিতে অভিনয় করতে যাচ্ছেন শাকিব খান। ‘গলুই’ নিয়ে তিনি বলেন, ‘চমৎকার রোমান্টিক গল্প। এর আগে খসরু আর অলিকের ছবিতে আমার কাজ করা হয়েছে। অলিকের নির্মাণ ও তার ছবির গান অসাধারণ হয়। সবমিলিয়ে ব্যাটে-বলে মিললে ছবিটিতে অভিনয় করতে যাচ্ছি বলা যায়।’

ছবির মূল গল্প প্রযোজক খসরুর। গল্প বিন্যাস করেছেন নির্মাতা অলিক। প্রযোজক জানান, সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহে মহরত এবং ওই মাসের মাঝামাঝিতে জামালপুর বা সুনামগঞ্জে এর শ্যুটিং শুরু হবে। ছবিটিতে ইতিমধ্যেই আজিজুল হাকিম ও ফজলুর রহমান বাবু চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন।

নির্মাতা এস এ হক অলিক বলেন, খসরু ভাইয়ের দীর্ঘদিনের ইচ্ছে ছিল অন্য ধরনের গল্প নিয়ে সিনেমা করার। কারণ উনি ক্যারিয়ারে প্রচুর কমার্শিয়াল ছবি বানিয়েছেন। উনার লাস্ট ছবি আমারই পরিচালনায় নির্মিত ‘আরো ভালোবাসতো তোমায়’। সে সময় উনি দুই লাইনে একটা গল্পের কথা আমাকে বললেন, যা আমার মাথায় ঢোকে। এরপর খসরু ভাইয়ের সঙ্গে কথা বলে এবং আমাদের কয়েকজন সিনিয়রদের সঙ্গে কথা বলে অনুদানের জন্য ‘গলুই’ গল্পটা দাঁড় করাই। তিনি আরও বলেন, ‘গলুই মানে নৌকার গলুই। নৌকার সঙ্গে জীবন, জীবনের সঙ্গে সম্পর্ক, পরিবার, রাষ্ট্র ও সমাজ ব্যবস্থা মিলিয়ে একটা জীবনধারা। এরমধ্যে প্রেম, টানাপড়েন, বন্ধন- পুরো ছবিটার মধ্যে থাকবে। সেজন্যই ছবির নাম গলুই। কারণ নৌকার একপ্রান্তে থাকে মাঝির আসন, অন্যপ্রান্তের নিশানা যদি ঠিক না থাকে- তাহলে নৌকা কিন্তু এদিক সেদিক করবে। জীবনটাও কিন্তু তাই। পরিবারে স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কের মধ্যে একজন যদি একটু এদিক সেদিক হয়, তাহলে সংসারটা কিন্তু ঠিকঠাক চলে না। এদিক সেদিক হয়ে যায়। গলুইয়ের ফিলোসফিক্যাল জায়গাটা কিন্তু এটা।’

সহকর্মী পরীমণির পক্ষে সম্প্রতি নিজের ফেইসবুক পেইজে দীর্ঘ স্ট্যাটাস দিয়েছেন শাকিব খান। বিষয়টি নিয়ে এখন শোবিজ অঙ্গনে উষ্ণ হাওয়া বইছে। শাকিব খান বলেন, ‘পরীমণি গ্রেপ্তারের পর তার প্রতি কোনো ধরনের সহযোগিতার হাত না বাড়িয়ে, উল্টো তার সদস্যপদ স্থগিত করা হয়েছে! এ যেন কাটা ঘায়ে নুনের ছিটে! সমিতির এই আচরণ সত্যিই খুব রহস্যজনক। বিষয়টি নিয়ে বিবেকবান অনেক সিনিয়র জুনিয়র শিল্পী ও সংস্কৃতিকর্মীদের আক্ষেপ রয়েছে। শিল্পীর সঙ্গে সংগঠনের এটি একটি অমানবিক আচরণ। প্রশ্ন থেকে যায়, এখনকার চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতি তাহলে কাদের স্বার্থে? বিগত দিনেও একাধিক সিনিয়র শিল্পী এরচেয়েও ভয়ংকর অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। কিন্তু তখনকার শিল্পী সমিতি সদস্যপদ স্থগিত করেনি। বরং পাশে ছিল, রাস্তায় নেমেছিল। আবারও বোঝা গেল, এই শিল্পী সমিতি সবাইকে এক করতে পারেনি। বিভেদ তৈরি করে ইন্ডাস্ট্রিতে কাজের পরিবেশ নষ্ট করেছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘যারা পরীমণিকে বিপথে নিয়ে গেছে, তাদেরও খুঁজে বের করা উচিত। পরীমণি ত্রিশটির বেশি সিনেমার সঙ্গে জড়িত বলে জানতে পেরেছি। কিন্তু যারা বছরের পর বছর একটি সিনেমাতেও কাজ না করে দিনের পর দিন শিল্পী সাইনবোর্ড ব্যবহার করে বিলাসবহুল জীবনযাপন করছে তাদেরও আয়ের উৎস খুঁজে বের করা উচিত।’