মালদ্বীপে আজ মাজিয়া পরীক্ষা কিংসের

বসুন্ধরা কিংসের জন্য নতুন শুরুর দিন আজ। হ্যাঁ, একেবারে নতুন করেই শুরু। গত বছর ১১ মার্চ এএফসি কাপের অভিষেকে টিসি স্পোর্টসকে গোলবন্যায় ভাসিয়ে যে শুরুটা হয়েছিল, সেটার আর শেষ দেখা হয়নি। করোনায় বাতিল হয় সেই আসর। এরপর থেকেই অপেক্ষা। এর মাঝেই আরেকবার মিলেছে দেশসেরার মর্যাদা। সেই অনুপ্রেরণা নিয়ে আজ শুভসূচনার প্রত্যাশায় মাঠো নামবে কিংস। গতবারের মতো এবারও শুরুর প্রতিপক্ষ মালদ্বীপের দল। মালের ন্যাশনাল স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় রাত ১০টায় ‘ডি’ গ্রুপের শুরুটা করবে কিংস মাজিয়া স্পোর্টসের বিপক্ষে। এর আগে বিকেল ৫টায় প্রথম ম্যাচে মুখোমুখি হবে দুই ভারতীয় মোহনবাগান ও বেঙ্গালুরু এফসি। এ দুই ম্যাচসহ আসরের সব ম্যাচই সরাসরি সম্প্রচার করবে বাংলাদেশে একমাত্র বেসরকারি স্পোর্টস চ্যানেল টি স্পোর্টস।

নতুন এই শুরুটাকে এই অভিযানের সবচেয়ে কঠিন চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন কিংস কোচ অস্কার ব্রুজন। তার তুণে এবার আগ্রাসী হার্নান বার্কোস নেই, যিনি টিসি স্পোর্টসের বিপক্ষে পাঁচ গোলের চারটিই করেছিলেন। এবার ব্রুজনের হাতে সংঘবদ্ধ একটা ব্রিগেড। যারা এর মধ্যেই দেশে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে অজেয় রূপে। এবার সময় আন্তর্জাতিক মঞ্চে প্রমাণ দেওয়ার। তবে এই মঞ্চটা কতটা কঠিন সেটা কাল ব্রুজনের কথাতেই পরিষ্কার, ‘এখানে দাঁড়িয়ে আমি বলতে পারি এই মঞ্চটা বড্ড কঠিন। কারণ প্রতিটি দল একই লক্ষ্য নিয়ে খেলতে যাচ্ছে। ভারতীয় দলগুলো বেশ কিছুদিন ধরে এখানে প্রস্তুতি নিচ্ছে। মাজিয়া খেলবে তাদের নিজেদের মাঠে। আমাদেরও আপনারা দাবিদার বলতে পারেন, কারণ আমরাও মৌসুমটা প্রায় শেষ করে এখানে এসেছি। আছি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ খেলার মধ্যে। তাই আমি মনে করছি এখানে কেউই খুব একটা এগিয়ে নেই।’

প্রথম ম্যাচেই কিংসকে মুখোমুখি হতে হচ্ছে মালদ্বীপের সেরাদের। দেশটির জাতীয় দলের বেশিরভাগ ফুটবলার খেলেন এই দলে। এ ছাড়া রয়েছেন চারজন ভালোমানের বিদেশি। আর আছেন লা লিগায় কাজ করার অভিজ্ঞতাসম্পন্ন একজন কোচ। মাজিয়ার প্রতি তাই সমীহের শেষ নেই ব্রুজনের, ‘তাদের হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই। কারণ এখানে কাজ করার সুবাদে তাদের সামর্থ্য সম্পর্কে জানি। যখন এখানে ছিলাম (নিউ র‌্যাডিয়েন্টের হয়ে) তখন তারাই ছিল আমাদের মূল প্রতিপক্ষ। মাজিয়ার আরেকটা বড় শক্তির জায়গা হলো তাদের কোচ। যার লা লিগায় খেলা ও কোচ হিসেবে কাজ করার বিশাল অভিজ্ঞতা আছে। তিনি দলটিকে সংঘবদ্ধ করে তুলেছেন বলেই আমার বিশ্বাস। বিশেষ করে সৌদি আরবে তাদের কন্ডিশনিং ক্যাম্পটা অনেক গুরুত্বপূর্ণ ছিল। তবে তাদের প্রতি সম্মান রেখেই বলছি, আমরা মাঠে যাব নিজেদের সেরা মনে করেই এবং চেষ্টা করব সুযোগের পূর্ণ সদ্ব্যবহার করতে।’

গ্রুপের অন্য তিন দলের চেয়ে আরেকটা জায়গায় কিছুটা এগিয়ে কিংস। তারাই একমাত্র দল হিসেবে ঘরোয়া লিগের প্রায় শেষ পর্যায়ে পৌঁছে খেলতে এসেছে এই টুর্নামেন্ট। আর বাকিরা নিচ্ছে প্রাক-মৌসুম প্রস্তুতি। এই জায়গাটাতেই কিংসের চেয়ে নিজের দলের কমতি দেখছেন মাজিয়ার বসনিয়ান কোচ রিস্তো ভিদাকোভিচÑ ‘আমি মনে করি, বসুন্ধরা কিংসই এখানে আসা একমাত্র দল, যারা প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচ খেলে এসেছে। যতদূর জানি, এক সপ্তাহ আগে তারা লিগ শেষ করেছে। যদি কারও সুবিধা থাকে, তাদেরই আছে। কেননা, প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচ খেলা আর প্রি-সিজনের ম্যাচ এক নয়। আমরা যতটুকু প্রস্তুতি নিতে পেরেছি, নিয়েছি। সৌদি আরবে প্রস্তুতি ম্যাচ খেলেছি, কিন্তু প্রীতি ম্যাচ আর প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচ এক নয়।’ করোনা বিধিনিষেধের মধ্যে আজ শুরু হতে যাওয়া গ্রুপপর্বের সব ম্যাচ হবে দর্শকশূন্য মাঠে। মাজিয়া তাই স্বাগতিক হয়েও কতটা ঘরের মাঠের সুবিধা নিতে পারবে তা সময়ই বলে দেবে। যদিও তাদের অভিজ্ঞ কোচ মনে করেন ঘরের মাঠে খেলা বলেই অনেক বেশি উজ্জীবিত থাকবে তার শিষ্যরা।

এ মাঠে খেলার অভিজ্ঞতা আছে এই অভিযানে কিংসের অধিনায়ক তপু বর্মণের। জাতীয় দলের হয়ে এখানেই মালদ্বীপের কাছে ৫-০তে হারার তিক্ত অভিজ্ঞতা আছে এই ডিফেন্ডারের। এ ছাড়া সাইফ স্পোর্টিংয়ের হয়ে এ মাঠেই টিসি স্পোর্টসের কাছে ৩-১ গোলে হারার ম্যাচটাও মনে আছে তার। তিক্ত অতীত ভুলে অবশ্য শুধু নিজের দল নয়, দেশের জন্য ভালো কিছু করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তপু, ‘আমরা এর মধ্যেই প্রমাণ করেছি দেশে আমরাই সেরা। কিন্তু এখানে একটা সুযোগ এসেছে দক্ষিণ এশিয়ায় সেরা হওয়ার। সেই সুযোগটা আমি কেবল দল নয়, পুরো দেশের জন্যই নিতে চাই। আমরা অনেক দিন আন্তর্জাতিক অঙ্গন থেকে ভালো কিছু পাইনি। কিংসের মাধ্যমে হলেও দেশকে ভালো কিছু দিতে আমরা প্রস্তুত।’