১৯৫৯-৬৩ ব্যাচের সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের ছাত্র (প্রথম যুগে তো বটেই পঞ্চাশের দশকেও এসএম হলে ছাত্রীভুক্ত হতো, ছাত্রী অবশ্য থাকতেন ভিন্ন আবাসনে, শুরুতে হলের নাম ছিল কেবল মুসলিম হল, ১৯৩১-এ হল ভবন তৈরি হওয়ার পর থেকে সলিমুল্লাহ মুসলিম হল, ১৯৭২ থেকে কেবল সলিমুল্লাহ হল) আহবাব আহমেদের হলের স্মৃতি ফিকশন পাঠের আনন্দও দেয়। তার কাছে হল আগে, তারপর বিশ্ববিদ্যালয়। তিনি লিখেছেন : হল ছিল বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশ করার মোহন তোরণ। এর ভেতর দিয়ে ঢোকা ছাড়া অন্য কোনো অলিগলি ছিল না। অতএব আমি সর্বপ্রথম হলের এবং সর্বশেষ বিশ্ববিদ্যালয়ের।
‘প্রভোস্টের নাম ড. মাযহারুল হক। আমাদের সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম নমস্য ব্যক্তি ছিলেন প্রভোস্ট। যদি সম্মানের কোনো হায়ারার্কি বানানো যায়, তবে তার চিত্রটা হবে এ রকম : প্রথমে প্রভোস্ট, দ্বিতীয়ত যে বিষয়ে পড়ছি তার বিভাগীয় প্রধান এবং আমার ক্ষেত্রে তিনি প্রয়াত প্রফেসর নজমুল করিম এবং সবশেষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর। উপাচার্য মহাশয় নামক বিদ্বান ব্যক্তি ছিলেন বেশ দূরের।’
কালটা নারীর কেবল অভ্যুদ্বয়ের, একজন-দুজন নেকাব সরাতে শুরু করেছেন। আহবাব আহমেদের লেখায় এসএম হলের পশ্চাৎদেশে নিতম্বের প্রত্যন্তে নিশ্চয় শিক্ষক আন্দালিব সাদানির বাসা। সে বাসার মেয়ে, নিশাত সাদানি নেকাব ছিন্নভিন্ন করে নিজের অভ্যুদ্বয় ঘটালেন ‘তার পরিধান ছিল জবাবদিহিমূলকতার শরীরের সব ভাঁজ, সব খাঁজ তাতে খুব স্পষ্ট দেখা যেত, সে লেবাস অ্যাকাউন্টাবিলিটির মতো খুবই স্বচ্ছ ছিল। যে কেউ দেখতে পারে। তবে মাদাম তুসোর মূর্তির মতো নেড়েচড়ে নয়। এমন আঁটসাঁট পোশাক পরত যে মাথা ঘুরে যেত। গ্রিক স্থাপত্যের কোনো কেউকেটা দেবী যেন আমাদের সামনে দিয়ে হেঁটে যেত, ঘোরাফেরা করত (তার বাসা এসএম হলের অতিসংলগ্ন ছিল বলে আমি কল্পনা করতে ভালোবাসতুম, সেও এসএম হলের শ্রী, সামগ্রী)। মনের এই কথাটা আবার কী করে যেন ইকবাল হলের অন্তস্তলে পৌঁছে গেল। আগ্রাসী বুলডগের মতো, ঝাঁপানো হায়েনার মতো ইকবাল সাহেবের প্রেতাত্মা আমার দিকে গোল গোল করে চেয়ে বলে গেল, খবরদার! এদিকে যদি চোখ মারিস তবে তোর দুচোখই ওপরে ফেলে দেব।
***
এই লেখাটিতে পঞ্চাশের দশকে এবং পঞ্চাশ-ষাট দশক মিলিয়ে, যারা এসএম হলের ছাত্র ছিলেন তাদের স্মৃতির হলটি তুলে ধরছি : ‘মায়াবী স্মৃতি’ লিখেছেন পুলিশের সাবেক ইন্সপেক্টর জেনারেল এম আজিজুল হক, হলের ১৯৫৭-৬১ শিক্ষাবর্ষের অর্থনীতির ছাত্র। ১৯৩৯-৪১ শিক্ষাবর্ষে হলের দক্ষিণ ব্লকের ১৮০ নম্বর রুমের বরাদ্দ যার নামে ছিল তারই পুত্র আজিজুল হক এই রুমটি পেলেন তার জন্য অবশ্যই বিরল ঘটনা। ১৮০-তে তিনি রুমমেট পেলেন ডাকসাইটে বামপন্থি ছাত্রনেতা ইতিহাস বিভাগের কাজী জাফর আহমদকে। এমন একজন রুমমেট পেলে কোনটা বেশি সুবিধা না অসুবিধা?
তিনি লিখেছেন : সুবিধা হলো অনেকের সঙ্গে আলাপ-পরিচয় হয়েছে। রাজনীতি নিয়ে তপ্ত বাদানুবাদ বিতর্ক করেছি। এতে অবশ্যই জ্ঞান অর্জন করেছি। কাজী জাফর তার সংগঠনে টানার চেষ্টা করে বিফল হয়েছেন। পরবর্তী জীবনে কাজী জাফর অনেক দূর উঠেছেন। মন্ত্রী হয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীও হয়েছেন। সরকারের উচ্চ আসনে বসার পরে যখন কোথাও দেখা হয়েছে ‘রুমমেট’ সম্বোধন করে কাছে টেনেছেন। আর অসুবিধা, নিভৃতে চিন্তা করি অত বড় ডাকসাইটে ছাত্রনেতার রুমমেট না হলে আমার রুমের পড়াশোনার পরিবেশ ভালো থাকত। এমএ-তে ফার্স্ট ক্লাসটা হয়তো অল্পের জন্য যেত না। তিনি রুমমেট হিসেবে আরও পেয়েছেন পরবর্তীকালে সচিব (প্রয়াত) নুরুদ্দিন আল মাসুদ আর বিলেতবাসী ব্যারিস্টার ওমর ফারুককে। অর্থনীতির ক্লাসে সহপাঠী এবং এসএম হলের বাসিন্দা, সুতরাং হলমেট হিসেবে পেয়েছেন নোবেলজয়ী ডক্টর মুহাম্মদ ইউনূসকে। এসএম হলের অবাঙালি দারোয়ান নাজু মিয়ার কথা অনেকেই স্মরণ করেছেন। আজিজুল হক বলেছেন, ব্যক্তিত্ব তাকে একটি ইনস্টিটিউশনে পরিণত করেছে। পাগড়ি বানানোর খ্যাতি ছিল তার। ১৯৬৭ সালে আজিজুল হকের বিয়ের পাগড়ি তারই বানানো। এসএম হলের সুস্বাদু ডালের বিবরণ বহু বছর ধরে চলে আসা ‘এসএম হলের ডাল, ষোড়শীর গাল’ চণ্ডীদাসের বর্ণনাকেও হার মানায়। একই ক্লাসের ছাত্রীকে তুমি বলার সুযোগ ছিল না। আপনিই সম্বোধন করতে হতো। ‘কিন্তু তারপরও আমার দুই ক্লাসমেট সৈয়দ আহমদ ও সালেহা পরস্পর পরিণয়সূত্রে আবদ্ধ হলেন।’ সৈয়দ আহমদ কেবিনেট সেক্রেটারি এবং বিশ্বব্যাংকে বিকল্প পরিচালক ছিলেন।
ব্রাদার থেকে তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রধান
১৯৫০ সালে যশোর জিলা স্কুল থেকে ম্যাট্রিকুলেশন এবং ১৯৫২ সালে ঢাকা কলেজ থকে আইএ দুটোতেই প্রথম বিভাগ, সেই সঙ্গে খেলাধুলায় কৃতিত্বের কিছু সার্টিফিকেট নিয়ে যখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এলেন ইংরেজিতে অনার্স ক্লাসে ভর্তি হতে এবং একই সঙ্গে সলিমুুল্লাহ হলে সিট পেতে সমস্যা হয়নি। রাষ্ট্রবিজ্ঞান আর দর্শন সাবসিডিয়ারি, বরাদ্দকৃত কক্ষ ওয়েস্ট হাউজের ১৬৫ নম্বর রুম। কিন্তু ইতিহাসের এমএ ক্লাসের একজন ছাত্র তাকে ১৬৫ নম্বরে ঢুকতেই দিলেন না, টেনেহিঁচড়ে ১৬৭ নম্বর রুমের একটি বেডে তাকে নিয়ে এলেন, তার সঙ্গে রাখবেন বলে। অনেক দিন পর কারণটাও তাকে খোলামেলাভাবে বলেছেন। তার ৬-৭ জোড়া জুতা দেখে মনে হয়েছে নিশ্চয়ই ধনী পরিবারের ছেলে। রুমমেট হিসেবে পেলে লাভই হবে।
১৯৫৫-তে যখন অনার্সের ফল বের হলো ফার্স্ট ক্লাস একজনই মহম্মদ আলী (পরবর্তীকালে ভাইস চ্যান্সেলর); সেকেন্ড ক্লাস ফার্স্ট সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী (ইংরেজির অধ্যাপক), তিনি পেলেন সেকেন্ড ক্লাস ফোর্থ পজিশন। কিন্তু ১৯৫৬ সালে সব ওলটপালট হয়ে গেল। সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী সবচেয়ে যোগ্য হিসেবে ফার্স্ট ক্লাস ফার্স্ট হয়েছেন। কিন্তু তিনি সেকেন্ড ক্লাসও পাননি, পেয়েছেন থার্ড ক্লাস। সুতরাং ভালো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষকতার সম্ভাবনা নিভে গেল। অনেকেই সেকালে একই সঙ্গে এলএলবি পড়তেন। তিনি জোর দিলেন আইনের ওপর। ইংরেজিতে এত খারাপ রেজাল্ট নিয়েও দুটি প্রাইভেট কলেজে শিক্ষকতা, রাতে এলএলবি পড়া এবং টিউশনি করা চালিয়ে গেলেন। শেষ পর্যন্ত আইনই তার অভীষ্ট; তিনি আইনজীবী হলেন, বার থেকে হাইকোর্টের জজ হলেন, সুপ্রিম কোর্টে গেলেন, বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি হলেন এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকার ফর্মুলায় সর্বশেষ অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি হিসেবে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান হলেন।
‘আত্মকথা’য় তিনি বলেছেন, ১৯৫২ থেকে ১৯৫৮ হচ্ছে তার বিশ্ববিদ্যালয় জীবন ও সলিমুল্লাহ হলে বসবাসের কাল। হলে স্থিত হয়ে যখন পরিচিতি বাড়াতে শুরু করলেন, তিনি সম্বোধন করতেন ‘ব্রাদার’ আর যায় কোথায়। তার খেতাব হয়ে গেল ব্রাদার। ব্রাদার প্রসঙ্গ এলেই হলের ছাত্ররা জানতেন কার কথা বলা হচ্ছে, তিনি লিখেছেন। আজও মাঝে মাঝে আমার সহপাঠী যায়যায়দিনের সম্পাদক শফিক রেহমান ও কূটনীতিবিদ ফারুক আহমেদ চৌধুরী আমাকে ‘ব্রাদার’ বলে সম্বোধন করেন। সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের টেনিস কোর্ট তাকে আরও পরিচিত করিয়ে দিল। ১৯৫৫ সালের এসএম হল টেনিস টুর্নামেন্টের ডাবলসে আবুল মাল আবদুল মুহিতকে নিয়ে তিনি রানার্সআপ হলেন। চ্যাম্পিয়ন হলেন ফারুক আহমেদ চৌধুরী (পরে রাষ্ট্রদূত) ও জাকারিয়া চৌধুরী (পরে মন্ত্রী)। তিনি তার শিক্ষকদের মধ্যে জে এস টার্নার, মুনীর চৌধুরী, জ্যোতির্ময় গুহ ঠাকুরতা এবং আর এ গোমেজকে স্মরণ করেছেন। বিশেষ করে নিবেদিতপ্রাণ টার্নার সাহেবের কালো সাইকেলে চড়ে চলাফেরার দৃশ্যটি তুলে ধরেছেন।
৩ নম্বরের জন্য (ভিক্টোরিয়ান পেপারে ৩ নম্বর যোগ হলেই দৃশ্যপট পাল্টে যেত) তৃতীয় বিভাগ পাওয়া লতিফুর রহমানকে সান্ত¡না দিতে এলেন সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী। ৩ নম্বর বেশি পেলে সরকারি কলেজের শিক্ষক হতেন কিন্তু ‘কালের চক্রে’ যে প্রতিষ্ঠা তিনি পেয়েছেন তা তখন চিন্তাও করতে পারতেন না (প্রধান বিচারপতি! সরকার প্রধান!)। তারপরও ১০০ টাকা বেতনের খণ্ডকালীন শিক্ষকতা দিয়ে জীবন শুরু। দুটি কলেজে শিক্ষকতা, রাতে এলএলবি পড়া, তারপরও এসএম হলের দখল রয়েই গেল, আইনানুগভাবে তখনো তো ছাত্র। এর মধ্যে এলএলবি ডিগ্রিও পেয়ে গেলেন। হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক আবু হেনা তার পিতার কলকাতা জীবনের সহপাঠী। তিনি তবুও বললেন, শিক্ষককে ছাত্রদের হলে মানায় না। অর্থাৎ রুম ছেড়ে দিন। তখনো থাকার কোনো বিকল্প আয়োজন তার নেই। ফার্স্ট ক্লাস ফার্স্ট সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজির প্রভাষক হিসেবে যোগ দিয়েই এসএম হলের হাউজ টিউটর হলেন এবং ইস্ট হাউজের দক্ষিণ-পূর্ব কোণে থাকার জন্য দুটো ঘর পেলেন। সুতরাং হলের দখল ছেড়ে দিয়ে ক্লাসমেট সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীর দুই রুমের একটিতে উঠে পড়লেন। কেবল এলএলবি পাস হয়েছে, ওকালতির সনদ তখনো পাননি, কাজেই এ অবস্থায় পাত্রীর বাবাদের আগ্রহ কমই হওয়ার কথা। কিন্তু প্রস্তাবিত পাত্রী পুতুলকে তার ভালো লেগে গেল। সলিমুল্লাহ হল থেকে তো আর বরযাত্রী যাওয়া মানায় না। সুতরাং গুলিস্তানের একটি রেস্তোরাঁয় একত্র হয়ে তিনি বিয়ে করতে গেলেন। পুতুল, সেই বাড়ির তৃতীয় কন্যা হলেন তার স্ত্রী আর চতুর্থ কন্যা নাজমা জেসমিন চৌধুরী (অকালপ্রয়াত অধ্যাপক) হলেন সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীর স্ত্রী। সবই এসএম হলের কারণে।
মোনায়েম খান তখন চ্যান্সেলর
এই এপিসোডটি আহবাব আহমেদের ‘বিচিত্র বয়ান’ দিয়েই শেষ করব। সমাজবিজ্ঞান বিভাগের নেতৃত্বও এসএম হলে। শিক্ষার্থীরা শিক্ষাসফরে যাবেন ডিপার্টমেন্ট থেকে কিছু টাকার বন্দোবস্ত হবে। কিন্তু বাকিটা আসবে কোত্থেকে? চ্যান্সেলর মোনায়েম খানকে অনুরোধ করতে হবে? কিন্তু এর মধ্যে এনএসএফ নামের সরকারপক্ষীয় গুন্ডাবাহিনীকে লালন করে যথেষ্ট সমালোচিত হয়েছেন। তার কাছে হাত পাতলে অন্য ছাত্ররা না আবার দালাল ভেবে বসেন? গভর্নরের সঙ্গে ঠিক পরদিনই অ্যাপয়েন্টমেন্ট পেয়ে হিরো হয়ে গেলেন আহবাব আহমেদ। ব্যাপারটা ম্যাজিকের মতো ঘটল। গভর্নরের মিলিটারি সেক্রেটারি ব্রিগেডিয়ার করিমের ভাই, একদা তার সহপাঠী হওয়ায় তিনি ব্যাপারটা তাকে ধরেই সহজ করে ফেললেন।
পাঁচজনের ডেলিগেশন : আহবাব আহমেদ (পরবর্তী সময়ে সচিব), অনুপম সেন (অধ্যাপক), আজিজুল করিম (পরিকল্পনা কমিশন কর্মকর্তা, পরামর্শক) এক নিক (নুরুল ইসলাম খান, বিশ্বব্যাংকের কর্মকর্তা) যথাসময়ে হাজির হলেন। গভর্নর হাউজ। ছোট লাটের ভবন। লোহার ফটক পার হতেই বুকের ঢিবঢিবানি, কাঠের সিঁড়ি বেয়ে বৈঠকখানায়, দুপাশে দুজন দাঁড়িয়ে একজন ব্রিগেডিয়ার করিম, অন্যজন প্রাইভেট সেক্রেটারি শামীম আহসান (তিনিও সিএসপি, পরে সচিব, এসএম হলের প্রথম প্রভোস্ট এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ভাইস চ্যান্সেলর স্যার এ এফ রহমানের নাতি, কন্যার পুত্র), মাঝখানে সাদা পাঞ্জাবি, সাদা লুঙ্গি ও সাদা টুপি পরিহিত গভর্নর মোনায়েম খান। তিনি ডেলিগেশনকে স্বাগত জানালেন। পরের অংশটুকু স্মৃতিকথা থেকে উদ্ধৃত : ‘কীসের আপনাদের আজকালকার আইটি ফাইটি আর কম্পিউটার। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোথায় কী হচ্ছে সব তার নখদর্পণে। জনগ্নাথ হলের কোন রুমে কে কী ফিস করেছে তার বিরুদ্ধে, সবই তার জানা। অন্তত আমি তো বিপন্ন বিস্ময়ে বাকহারা।’
প্রস্থানের সময় সবাই একে একে করমর্দন করে সালাম নিয়ে বিদায় নিচ্ছেন। ‘আমার পালা সবার শেষে। আমার হাতে ঝাঁকুনি দিয়ে তিনি বললেন, মিয়া, আবার যখন আসবা, তখন যেন মাথায় টুপি দেখি।’ আর আমি ফস করে বলে ফেলি, স্যার এরপরের বার যখন আসব তখন আপনার যেন দাড়ি দেখি। একটু ভঙ্গিও এর মধ্যে ছিল। হাত তুলে থুতনি পর্যন্ত সেটা দেখাই। ‘আহবাব এ তুই কী করলি?’ লাটভবন থেকে বের না হতেই সঙ্গীদের কিল-চাপড় ও খিস্তি চলল তার ওপর দিয়ে সবাই নিশ্চিত তাদের সাক্ষাতের উদ্দেশ্যটাকে মাটি করে দিল আহবাব ফাজলামির একটা লিমিট থাকা চাই। আজিজুল করিম জানিয়ে দিলেন তার আর সরকারি চাকরি হবে না। ব্যাপারটা যে এত আতঙ্কের কারণ হবে বুঝতে পারেননি, চারজনই সাময়িকভাবে হলেও তাকে ছেড়ে গেলেন, একই দলের বলেও তারাও তো চিহ্নিত হয়ে পড়তে পারেন। সন্ধ্যায় নিজেই ফোঁপাতে শুরু করলেন কী দরকার ছিল এ কথা বলার। পরদিন ভয়ে ক্লাসেই গেলেন না। মুরব্বিকে অপমান! কিন্তু পরদিন হলে ও বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে দেখলেন তার জন্য অপেক্ষা করছে রাজসিক সংবর্ধনা। চারজন রটিয়ে দিয়েছে আহবাব গভর্নরের মুখের ওপর...। তাকে ঘিরে ধরেছেন বন্ধুরা তারা ঘোড়ার মুখেই শুনতে চান, কেমন করে কথাটা মোনায়েম খানকে বলেছেন। এই না হলে এসএম হলের ছেলে!
লেখক সরকারের সাবেক কর্মকর্তা ও কলামনিস্ট
momen98765@gmail.com