টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে একটি উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষকসহ ছয়টি পদে নিয়োগবাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার শহীদ আবুল কালাম আজাদ উচ্চ বিদ্যালয়ে সহকারী প্রধান শিক্ষকসহ ওই ছয়টি পদে নিয়োগের জন্য কোটি টাকার অবৈধ লেনদেন হয়েছে বলে একটি পক্ষ জানিয়েছে। আর এ লেনদেন নিয়ে বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক (অব্যাহতিপ্রাপ্ত) ও ম্যানেজিং কমিটির মধ্যে বিরোধ প্রকাশ্য রূপ নিয়েছে।
অব্যাহতিপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. আবদুল হাকিমের দাবি তাকে উদ্দেশ্যমূলকভাবে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। এ অভিযোগে তিনি বাদী হয়ে টাঙ্গাইল জেলা জজ আদালতে ম্যানেজিং কমিটির সভাপতিসহ ১৩ জনকে আসামি করে মামলা করেছেন। মামলাটি বিচারাধীন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শহীদ আবুল কালাম আজাদ উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি সহকারী প্রধান শিক্ষকসহ ছয়টি পদে জনবল নিয়োগে উদ্যোগ নেয়। প্রধান শিক্ষক ও ম্যানেজিং কমিটির বিরোধের কারণে ওই নিয়োগ প্রক্রিয়া দীর্ঘদিন ঝুলে থাকে। পরে গত ২ আগস্ট জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা লায়লা খানম স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্নের জন্য ডিজির প্রতিনিধি মনোনয়ন দেওয়া হয়। পরে প্রধান শিক্ষক (অব্যাহতিপ্রাপ্ত) ওই নিয়োগ প্রক্রিয়া স্থগিত চেয়ে আবেদন করলে গত ১০ আগস্ট জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা নিয়োগ কার্যক্রম স্থগিত করে একটি চিঠি পাঠান। বিষয়টি জানাজানি হলে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা বরাবর ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সাঈদ মাহমুদুল হাসান নিয়োগ কার্যক্রম স্থগিত আদেশ প্রত্যাহারের আবেদন করেন। স্থানীয় সংসদ সদস্য হাছান ইমাম খান সোহেল হাজারী ওই আবেদনে সুপারিশ করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৮ আগস্ট জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা লায়লা খানম আলাদা আরেক চিঠির মাধ্যমে নিয়োগ কার্যক্রম স্থগিতের আদেশ প্রত্যাহার করে নেন। যদিও এর আগেই অব্যাহতিপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের মামলাটি পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) তদন্ত করে মামলার বাদী প্রধান শিক্ষক মো. আবদুল হাকিমের পক্ষে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেছে। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, শিক্ষকসহ ছয়টি পদে নিয়োগের জন্যই অবৈধভাবে ম্যানেজিং কমিটি প্রধান শিক্ষককে অব্যাহতি দেয়।
এদিকে ইতিমধ্যে তড়িঘড়ি করে দ্রুত নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার চেষ্টা চলছে। অভিযোগ উঠেছে, ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি সৈয়দ সাইফুল ইসলাম কবির ওই ছয় পদের জন্য কয়েকজন চাকরিপ্রার্থীর কাছ থেকে ১ কোটি টাকা অবৈধভাবে গ্রহণ করেছেন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সৈয়দ সাইফুল ইসলাম কবির দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘কোটি টাকা লেনদেনের প্রমাণ থাকলে ঊর্ধ্বতন কর্র্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নেবে। নিয়োগ প্রক্রিয়া কবে হবে সেই বিষয়টি আমার জানা নেই।’
এ প্রসঙ্গে জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা লায়লা খানম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ওই বিদ্যালয়ের বিবাদমান বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। এজন্য আমরা নিয়োগ প্রক্রিয়া স্থগিত করেছিলাম। কিন্তু স্থানীয় সংসদ সদস্য সোহেল হাজারীর সুপারিশে নিয়োগ কার্যক্রম সম্পন্ন করার অনুমতি দিয়েছি। তবে এতে কোনো ধরনের অনিয়ম পরিলক্ষিত হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’