‘ভুল চিকিৎসায়’ মা ও নবজাতকের মৃত্যু, ৬০ হাজার টাকায় রফা

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার পৌর সদরের থানারঘাট এলাকার নিউ রংধনু হাসপাতালে ‘ভুল চিকিৎসায়’ মা ও নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গিয়েছে।

রবিবার ভোরে এ ঘটনা ঘটে বলে এলাকাবাসী নিশ্চিত করেছেন। ঘটনা ধামাচাপা দিতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তড়িঘড়ি করে ৬০ হাজার টাকায় নিহতের পরিবারের সঙ্গে আপস-মীমাংসা করে লাশ দাফনের জন্য বাড়ি পাঠিয়ে দেয়।

বিষয়টি স্বীকার করে নিউ রংধনু হাসপাতালের ম্যানেজার শাহিন হোসেন জানান, নিহতের পরিবারের সাথে ৬০ হাজার টাকায় স্ট্যাম্পের ওপর লিখিত ভাবে আপস -মীমাংসা হয়েছে।

তিনি জানান, শনিবার রাত ২টার দিকে প্রসব বেদনা নিয়ে উল্লাপাড়া উপজেলার দূর্গানগর ইউনিয়নের জুংলিপুর গ্রামের হাবিবুর রহমানের স্ত্রী সোনিয়া খাতুনকে (৩০) এই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। প্রায় ৪০ মিনিট নরমাল ডেলিভারির জন্য অপেক্ষা করা হয়। এতে কাজ না হওয়ায় বাঁধন হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. ইখতিয়ার উদ্দিন মো. সোহেলকে এনে সিজার করানো হলে একটি মৃত ছেলে শিশুর জন্ম হয়।

তিনি বলেন, এ সময় মা সোনিয়া খাতুনের অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ শুরু হলে এই হাসপাতালের মালিক ডা. আয়শা বেগম হাসপাতালে ছুটে আসেন ও তাকে এক ব্যাগ রক্ত দেন। কিন্তু তার অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় তিনি তাকে বগুড়া জিয়া মেডিকেল হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেন। এর কিছুক্ষণ পর তাকে অ্যাম্বুলেন্সে তোলা হয়। কিন্তু পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ায় তাকে অ্যাম্বুলেন্স থেকে নামিয়ে বেডে নেওয়া কিছুক্ষণ পর তার মৃত্যু হয়। আমরা চিকিৎসার কোন ত্রুটি করিনি।

এ বিষয়ে জানতে বাঁধন হাসপাতালে গিয়ে ডা. ইখতিয়ার উদ্দিন মো. সোহেলকে পাওয়া যায়নি। হাসপাতালের রিসিপশনিস্ট শাহিনা খাতুন ওই চিকিৎসকের মোবাইল ফোন নম্বর দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় তার সাথে আর যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

অন্যদিকে ডা. আয়শা বেগমের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করলেও তিনি রিসিভ না করায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে শাহজাদপুর থানার ইন্সপেক্টর (অপারেশন) আব্দুল মজিদ বলেন, ঘটনাস্থালে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু নিহতের পরিবারের কেউ অভিযোগ দেয়নি। ফলে আমাদের পক্ষ থেকে ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়নি। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ভাবে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শাহজাদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আমিনুল ইসলাম খান বলেন, বিষয়টি আমরা তদন্ত করব। তদন্তে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের গাফিলতি পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আর চিকিৎসকের গাফিলতি থাকলে তার বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, এ হাসপাতালের বৈধ কোন কাগজপত্র না থাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট হাসপাতালটি সিল করে দেয়। এর ১ মাস পর স্বাস্থ্য বিভাগের ডিজির লিখিত অনুমোদন সাপেক্ষে হাসপাতালটি চালু করা হয়। এ হাসপাতালে নানা অসংগতি ও অব্যবস্থাপনা রয়েছে। তদন্ত হলে সব বেরিয়ে আসবে।

এ বিষয়ে সোনিয়া খাতুনের ভাই গাজীর মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় পরিবারের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।