আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলের নিয়ন্ত্রণ তালেবানরা নেওয়ায় দেশটির সামরিক বাহিনীর সদস্যদের জন্য ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। আফগান নেতাদের পক্ষ থেকে দেশ রক্ষায় কোনো স্পষ্ট নির্দেশনা না থাকায় কার্যত স্থবির হয়ে যায় সামরিক বাহিনীর কর্মকাণ্ড। আর ওই নেতৃত্বহীনতার সুযোগ নিয়েই তালেবানরা মাত্র ১০ দিনের মধ্যে গোটা দেশ দখল করে নেয়।
২০২১ সালের ১৫ আগস্ট কাবুলের নিয়ন্ত্রণ নেয় তালেবান। এর মাত্র এক সপ্তাহ আগে আফগান বাহিনীর ইউনিফর্মে নিজের প্রথম দিন কাটিয়েছিলেন সদ্য ভারত থেকে দেশে ফেরা এক আফগান সেনাসদস্য। তবে তালেবান ক্ষমতা দখল করলে ভয়ে নিজের যাবতীয় ইউনিফর্ম, আইডি কার্ড লুকিয়ে ফেলেন ইন্ডিয়ান মিলিটারি একাডেমি থেকে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ওই সৈনিক।
নিরাপত্তার খাতিরে সেই আফগান সৈনিকের নাম প্রকাশ করা হয়নি। হিন্দুস্তান টাইমসকে তিনি জানান, ১৫ আগস্ট তিনি কাবুল থেকে বহু দূরের একটি ক্যাম্পে নিযুক্ত ছিলেন। তখনও তিনি ধারণা করতে পারেননি যে, কাবুলের পতন এত সহজে হয়ে যাবে। ওই আফগান সৈনিক আরও বলেন, ‘কোনোদিন দুঃস্বপ্নেও ভাবিনি যে, এত সহজে তালেবান আবার ফিরে আসতে পারে। আমাদের নেতারা আমাদের বেঁচে দিয়েছেন। সরকার পড়ে গিয়েছিল। শীর্ষ কমান্ডাররা আত্মসমর্পণ করলেন। আমরা আমাদের সার্ভিস অস্ত্র লুকিয়ে ফেললাম। ইউনিফর্ম লুকিয়ে ফেললাম। আমরা তালেবানের হাত থেকে লুকিয়ে বেড়াচ্ছি।’ তিনি জানান, তার মতো আরও বহু আফগান সেনা লুকিয়ে রয়েছেন। পালানোর সময় এক তালেবান চেকপোস্টে প্রায় ধরা পড়ে গিয়েছিলেন ওই সৈনিক। তিনি জানান, প্রাথমিকভাবে দুদিন নিজের আত্মীয়র বাড়িতে লুকিয়েছিলেন। সেখান থেকে কাছেই এক বন্ধুর বাড়িতে যেতে গিয়ে তালেবানের চেকপোস্টের মুখে পড়েন তিনি। সেই সময় তার দাড়ি বড় থাকায় তারা তাকে চিনতে পারেনি।
এমন আরও অনেক আফগান সেনা প্রাণ বাঁচাতে প্রতিবেশী কয়েকটি দেশে আশ্রয় নিয়েছেন। তারা এখন তালেবানবিরোধী লড়াইয়ে কার বা কোন পক্ষের নেতৃত্বে এগিয়ে যাবেন, এ নিয়ে ধোঁয়াশার সৃষ্টি হয়েছে। ইতিমধ্যে পানসিরের তিনটি জেলা প্রতিরোধ যোদ্ধারা দখল করলেও, ওই যোদ্ধাদের মধ্যে রয়েছে দুটি অংশ।