পরীমণির জামিন শুনানি ১৩ সেপ্টেম্বর

মুক্তির দাবিতে শাহবাগে সমাবেশ

মাদক আইনের মামলায় চিত্রনায়িকা পরীমণির জামিনের জন্য ঢাকার জজ আদালতে আবেদন করা হয়েছে। গতকাল রবিবার ঢাকার মহানগর দায়রা জজ কে এম ইমরুল কায়েশের আদালতে এ আবেদন করেন তার আইনজীবী মজিবুর রহমান।

পরে পরীমণির আইনজীবী সাংবাদিকদের জানান, তারা আবেদনে উল্লেখ করেছেন পরীমণি অসুস্থ। তিনি ‘প্রীতিলতা’সহ অনেকগুলো নির্মিতব্য সিনেমার অভিনেত্রী। গ্রেপ্তারের কারণে এগুলোর কাজ মাঝপথে বন্ধ রয়েছে। এটা শুধু প্রযোজক, পরিচালক আর দর্শক নন, রাষ্ট্রেরও ক্ষতি। এ জন্য তাকে জামিন দেওয়া হোক। বিচারক আগামী ১৩ সেপ্টেম্বর জামিন শুনানির দিন ধার্য করেছেন বলে জানান তিনি।

গত ৪ আগস্ট রাজধানীর বনানীর বাসায় অভিযান চালিয়ে পরীমণিকে আটক ও বিভিন্ন ধরনের মাদক জব্দের দাবি করে র‌্যাব। পরদিন বনানী থানার মাদক মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে রিমান্ডে নেওয়া হয়। তিন দফা রিমান্ড শেষে গত শনিবার আদালতে হাজির করে তদন্ত সংস্থা সিআইডি কারাগারে আটক রাখার আবেদন করে। শুনানি শেষে ঢাকার মহানগর হাকিম আশেক ইমাম পরীমণিকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। পরে তাকে গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগারে নেওয়া হয়।

ওই দিন জামিন আবেদন না করায় শুনানি শেষে পরীমণি ক্ষোভ প্রকাশ করে আইনজীবী নীলাঞ্জনা রিফাত সুরভী ও কামরুজ্জামান চৌধুরীর উদ্দেশে বলেন, ‘আপনারা জামিন চান না কেন? আমি তো পাগল হয়ে যাচ্ছি। আপনাদের নিজেদের মধ্যে কী হয়েছে? কেন জামিন চাচ্ছেন না?’

মুক্তির দাবিতে শাহবাগে সমাবেশ : পরীমণির মুক্তির দাবিতে গতকাল রাজধানীর শাহবাগের জাতীয় জাদুঘরের সামনে সমাবেশ হয়েছে। ‘বিক্ষুব্ধ নাগরিকজন’র ব্যানারে এ সমাবেশে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবির বলেন, ‘পরীমণিকে কেন বারবার রিমান্ডে নিতে হবে? কেন আদালত পুলিশের বিরুদ্ধে সুয়োমোটো জারি করবে না? একবার রিমান্ডই যথেষ্ট, এর জন্য এতবার রিমান্ডের দরকার হয় না।’

তিনি বলেন, ‘আদালতের আগেই পরীমণিকে অপরাধী হিসেবে সাব্যস্ত করা, নানা অগ্রহণযোগ্য বক্তব্য সভ্য সমাজে কাম্য নয়। নারীদের বিরুদ্ধে অশোভন কথা বলা হলেও রাষ্ট্র ব্যবস্থা নিচ্ছে না। এই মানসিকতা পুরুষতান্ত্রিক। আমরা তার মুক্তির দাবি জানাচ্ছি।’

সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা সুলতানা কামাল বলেন, ‘পরীমণি সত্যিকারের অপরাধী হলে আদালতে বিচার হবে। কিন্তু তাকে হেনস্তার দায়িত্ব রাষ্ট্র যেন নিজ হাতে তুলে নিয়েছে। বিচার শুরুর আগেই কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে প্রতিনিয়ত পরীমণির বিরুদ্ধে কুৎসা রটনা করা হচ্ছে, নিকৃষ্ট ভাষায় বিষোদগার করা হচ্ছে।’

সমাবেশে অন্যদের মধ্যে মানবাধিকারকর্মী খুশী কবির, ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. সাদেকা হালিম, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃ-বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক রেজওয়ানা করিম স্নিগ্ধা, চলচ্চিত্র নির্মাতা রাশিদ পলাশ, অপরাজিতা সংগীতা, সমাবেশের অন্যতম সমন্বয়ক রবিন আহসান প্রমুখ বক্তব্য দেন।