দেশের উজানে মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণের পাশাপাশি মধ্য ও উত্তরাঞ্চলের বৃষ্টিতে আগামী কয়েক দিন দেশের বন্যা পরিস্থিতিরি অবনতি হতে পারে। বাংলাদেশ ও ভারতের আবহাওয়া অধিদপ্তর বলছে, আগামী ৭২ ঘণ্টায় দেশের উত্তর, উত্তর-পূর্বাঞ্চল এবং ভারতের হিমালয় পাদদেশীয় পশ্চিমবঙ্গ, আসাম ও মেঘালয় প্রদেশের বিভিন্ন জায়গায় মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টি হতে পারে। বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকবে দেশের উত্তর ও মধ্যাঞ্চলেও। এর পরিপ্রেক্ষিতে তিস্তা, ধরলা, দুধকুমার, বহ্মপুত্র ও ‘আপার’ মেঘনা অববাহিকায় পানি বাড়বে বলে জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র। ফলে চলমান বন্যা পরিস্থিতি আরও ৫ থেকে ৭ দিন অব্যাহত থাকবে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র আভাস দিয়েছে, পাবনা, মানিকগঞ্জ, রাজবাড়ী, ফরিদপুর ও শরীয়তপুর জেলার নিম্নাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতির সামান্য অবনতি হতে পারে। কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আরিফুজ্জামান ভূঁইয়া জানান, নদ-নদীর ৭টি পয়েন্টে পানি বিপদসীমার ওপরে বয়ে যাচ্ছে।
বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানায়, ব্রহ্মপুত্র ও যমুনার পানি সমতলে বৃদ্ধি পাচ্ছে, একই সঙ্গে বাড়ছে পদ্মা নদীর পানিও; যা আগামী ২৪ ঘণ্টা পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে। আগামী ২৪ ঘণ্টায় দেশের পাবনা, মানিকগঞ্জ, রাজবাড়ী, ফরিদপুর ও শরীয়তপুর জেলার নিম্নাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতির সামান্য অবনতি হতে পারে। পাশাপাশি পদ্মা নদীর ভাগ্যকুল পয়েন্ট এবং শীতলক্ষ্যা নদীর নারায়ণগঞ্জ পয়েন্টের পানি বিপদসীমা অতিক্রম করতে পারে।
আরিফুজ্জামান ভূঁইয়া জানান, পদ্মা নদীর গোয়ালন্দ পয়েন্টের পানি বিপদসীমার ৪৯ থেকে বেড়ে ৫১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। সুরেশ্বর পয়েন্টের পানি বিপদসীমার ৮ থেকে বেড়ে ১৬ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে যাচ্ছে এখন। এদিকে যমুনা নদীর মথুরা পয়েন্টের পানি ১২ থেকে ১ সেন্টিমিটার বেড়ে ১৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। একই নদীর আরিচা পয়েন্টের পানি নতুন করে বিপদসীমার ওপর দিয়ে বইছে, এখন তা ৬ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে যাচ্ছে। আত্রাই নদীর বাঘাবাড়ী পয়েন্টের পানি বেড়ে এখন ১৬ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে গড়াই নদীর কামারখালী পয়েন্টের পানি ১৯ থেকে কমে ১৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ধলেশ^রী নদীর এলাসিন পয়েন্টের পানি বিপদসীমার ৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের স্টেশনগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ বৃষ্টি হয়েছে লালাখাল স্টেশনে ৯৭ মিলিমিটার। এ ছাড়া লরেরগড় স্টেশনে ৬০, জাফলংয়ে ৪৮, কানাইঘাটে ৬৬, পাটেশ^রীতে ৬২ এবং গাইবান্ধা স্টেশনে ৩৪ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে।
এ ছাড়া দেশের উজানে ভারতের স্টেশনগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ বৃষ্টি হয়েছে চেরাপুঞ্জিতে ২৭২ মিলিমিটার। এ ছাড়া পাসিঘাটে ৩৯, গ্যাংটকে ৫৩, ধুব্রিতে ২৪, জলপাইগুড়িতে ৪৪ এবং দিব্রগড়ে ১৯ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে।
বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্রের আগামী দশ দিনের পূর্বাভাসে বলা হয়, ঢাকার চারপাশের নদীগুলোর পানি সমতলে বাড়তে পারে। ঢাকার চারপাশের নদীগুলোর অববাহিকায় বিপদসীমা অতিক্রমের আশঙ্কা নেই। এদিকে আগামী দশ দিনের মধ্যে ব্রহ্মপুত্র ও যমুনা নদীর পানি বাড়তে পারে। সিরাজগঞ্জ জেলার কাজীপুর স্টেশন এবং মানিকগঞ্জ জেলার আরিচা স্টেশনের পানি আগামী সাত দিন স্থিতিশীল থাকতে পারে। ফলে চলমান এসব জেলায় বন্যা পরিস্থিতি আগামী সাত দিন অব্যাহত থাকতে পারে। ২৭ আগস্ট নাগাদ জামালপুর জেলার বাহাদুরাবাদ স্টেশন, বগুড়া জেলার সারিয়াকান্দি স্টেশনের পানি বিপদসীমার কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে। সিরাজগঞ্জ জেলার সিরাজগঞ্জ স্টেশন এবং টাঙ্গাইল জেলার এলাসিন ঘাট স্টেশনে পানি সমতলে আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে বিপদসীমার কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে।
এদিকে দেশ রূপান্তরের ফরিদপুর, পাবনা, সিরাজগঞ্জ, রাজবাড়ী প্রতিনিধি জানিয়েছেন, জেলাগুলোয় বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে।
উল্লিখিত জেলাগুলোর কয়েক হাজার গ্রামের বাসিন্দারা পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। অনেক এলাকায় খাবার ও পানীয় জলের সংকট দেখা দিয়েছে। কিছু কিছু এলাকায় সামান্য ত্রাণ সরবরাহের কথা বলা হলেও তা পর্যাপ্ত নয় বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।