দ্বিতীয় ইনিংসে উইন্ডিজের রান যখন ৭ উইকেটে ১৫৯, তখন বৃষ্টি নামে জ্যামাইকাতে। আম্পায়াররা চা বিরতির সময় এগিয়ে আনেন। তখন স্বাগতিক দল মনেপ্রাণে বৃষ্টি না থামার প্রার্থনা করছিলেন। কিন্তু তাতে কাজ হয়নি। বৃষ্টি নামা, বৃষ্টি থামা এবং আলোকস্বল্পতার বাধা কাটিয়ে ১০৯ রানে জ্যামাইকা টেস্ট জিতে নিয়েছে পাকিস্তান। জয়ের জন্য ৩২৯ রানের টার্গেটে খেলতে নেমে ২১৯ রানে অলআউট হয় স্বাগতিকরা।
প্রথম টেস্টে ১ উইকেটের ঐতিহাসিক জয়ের পর প্রায় দুই দশকের আপেক্ষ ঘুচিয়ে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ঘরের মাঠে সিরিজ জয়ের স্বপ্ন দেখছিল উইন্ডিজ। শাহিন শাহ আফ্রিদি সেই স্বপ্ন পূরণ হতে দিলেন না। সব বাধা কাটিয়ে পাকিস্তানি বোলিং দুরন্ত এক জয় তুলে নিয়েছে। ফলে ২০০৫ আর ২০১১ সালের পর আবারও ক্যারিবীয়দের সিরিজ জিততে দেয়নি পাকিস্তান। ম্যাচ বাঁচানোর আপ্রাণ চেষ্টা করেছিলেন কাইল মেয়ার্স আর জেসন হোল্ডার। মেয়ার্স ৫৩ বলে ৩২ আর হোল্ডার ৮৩ বলে ৪৭ রান করেন। এ জুটিতে আসে ৪৬ রান। মেয়ার্সকে আউট করেন শাহিন শাহ আফ্রিদি। এরপরই বৃষ্টি নামে। বৃষ্টি এবং চা বিরতির পর হোল্ডার এবং জশুয়া দা সিলভা একটা ছোট জুটি গড়েন। কিন্তু দলীয় ১৯৯ রানের মাথায় হোল্ডারকে আউট করেন বাঁহাতি নোমান আলি। উইন্ডিজের শেষ প্রতিরোধও ভেঙে যায়। এরপর কেমার রোচ আর জশুয়াকে ফিরিয়ে সিরিজে সমতা নিশ্চিত করেন শাহিন আফ্রিদি। প্রথম ইনিংসের ৬ উইকেটের সঙ্গে দ্বিতীয় ইনিংসে ৪ শিকার। ৯৪ রানের বিনিময়ে ম্যাচে ১০ উইকেট, যা ১৯ টেস্টের ক্যারিয়ারে সেরা বোলিং এই বাঁহাতির। ওয়াসিম আকরামের পর কোনো পাকিস্তানি বাঁহাতি ফাস্ট বোলার হিসেবে সেরা বোলিংয়ের কারণে ম্যাচ ও সিরিজসেরা দুই পুরস্কারই জিতেছেন শাহিন আফ্রিদি।
দুই ইনিংস মিলিয়ে ৩৬৯ রান করে উইন্ডিজ। তাই টেস্ট হারের জন্য ব্যাটসম্যানদের দুষছেন ক্যারিবীয় কোচ ফিল সিমন্স। তিনি বলেছেন, ‘এসব পরিস্থিতি এড়াতে চাইলে টেস্ট ব্যাটিংয়ে আমাদের আরও উন্নতি করতে হবে। আমাদের বোলিং ঠিক আছে। তারা পুরো সিরিজেই দারুণ বল করেছে। কিন্তু ব্যাটসম্যানদের কাছ থেকে আমরা প্রত্যাশামতো রান পাইনি।’
সংক্ষিপ্ত স্কোর
পাকিস্তান : ৩০২/৯ (ডিক্লে.) (ফাওয়াদ ১২৪*) ও ১৭৬/৬ (ডিক্লে.)। উইন্ডিজ : ১৫০ (শাহিন আফ্রিদি ৬/৫১, আব্বাস ৩/৪৪) ও ২১৯ (হোল্ডার ৪৭, ব্র্যাথওয়েট ৩৯, মায়ার্স ৩২, শাহিন আফ্রিদি ৪/৪৩, নোমান আলি ৩/৫২, হাসান ২/৩৭)। ফল : পাকিস্তান ১০৯ রানে জয়ী। সিরিজ : ১-১ সমতা। ম্যাচ ও সিরিজসেরা : শাহিন শাহ আফ্রিদি।