কাবুলের রাস্তায় শামসিয়া হাসানির গ্রাফিতি

আফগানিস্তানে সড়কের পাশের বিধ্বস্ত দেয়ালে রঙিন গ্রাফিতি আর্ট দেখা যায়। এসব ছবি যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশে নারী মুক্তির কথা বলে। ছবিগুলো এঁকেছেন আফগানিস্তানের প্রথম নারী গ্রাফিতি শিল্পী শামসিয়া হাসানি। কীভাবে কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে তিনি ছবি এঁকে যাচ্ছেন তা নিয়ে লিখেছেন আরফাতুন নাবিলা

শামসিয়া হাসানি

আফগানিস্তানের বেশ কিছু সড়কে নিয়মিত গ্রাফিতি আর্ট দেখা যায়। সাধারণত গ্রাফিতি আর্টের জায়গা হয় সড়কের দেয়ালগুলোতে অথবা স্থাপনায়। এ কারণে গ্রাফিতিগুলো সবার নজর কাড়ে। অন্য যে কোনো জায়গার চেয়ে আফগানিস্তানের গ্রাফিতি ভিন্ন রকম। কারণ এগুলো আঁকা হয় বিবর্ণ, নষ্ট, বিধ্বস্ত বা ভাঙা দেয়ালে। অন্য গ্রাফিতি যেখানে সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য আঁকা হয়, আফগানিস্তানের দেয়াল তখন দুর্যোগ, প্রতিবাদ ও মমতার কথা বলে। যুদ্ধবিধ্বস্ত এ দেশে এমন চিত্র যারা তুলে ধরেছেন তাদের মধ্যে একজন শামসিয়া হাসানি। তিনি আফগানিস্তানের প্রথম নারী গ্রাফিতি শিল্পী।

আফগানিস্তানের কান্দাহারে যুদ্ধ চলাকালে ইরানের তেহরানে চলে যায় হাসানির পরিবার। সে বছর অর্থাৎ ১৯৮৮ সালে সেখানেই জন্মগ্রহণ করেন হাসানি। বড় হয়েছেন সেখানেই। অন্যান্য দেশ থেকে ইরান একদম আলাদা। ১০০ বছর বসবাস করলেও ইরানের নাগরিকত্ব পাওয়া যায় না। ইরানে থাকাকালীন তিনি চারুকলা নিয়ে পড়তে চেয়েছিলেন, কিন্তু জাতীয়তার কারণে পারেননি। আট বছর আগে আফগানিস্তানে আসেন। কাবুল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে চারুকলায় স্নাতক এবং ভিজুয়াল আর্টসে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। পরে ড্রয়িং অ্যান্ড অ্যানাটমি ড্রয়িংয়ের প্রভাষক পদে নিযুক্ত হন কাবুল বিশ্ববিদ্যালয়ে। তার পরিবার বাস করছে কান্দাহারে। মেয়ে হয়ে হাসানির স্ট্রিট আর্ট নিয়ে তার পরিবারের কোনো আপত্তি নেই। বরং পরিবারের কাছ থেকে বেশ সমর্থন পেয়েছেন তিনি।

শুরু ও সমস্যা 

২০১০ সালের ডিসেম্বর মাসে হাসানিদের শেখাতে ইংল্যান্ড থেকে কাবুলে ‘চু’ নামে একজন গ্রাফিতি শিল্পী আসেন। ওয়ার্কশপটির আয়োজন করেছিল ‘কমব্যাট কম্যুনিকেশন’। গ্রাফিতি শিখে ফেলার পর হাসানি সিদ্ধান্ত নেন এই পেশাতেই রয়ে যাবেন। ২০০৯ সালে কাবুলের সেরা দশ শিল্পীর একজন নির্বাচিত হন হাসানি। সমসাময়িক শিল্প নিয়ে কাজ করার জন্য দশজন মিলে শুরু করেন ‘বেরং আর্টস অর্গানাইজেশন’। এখান থেকে বিভিন্ন ধরনের সেমিনার-ওয়ার্কশপের আয়োজন করা হয়। তিনি বলেন, ‘গ্রাফিতি সবসময় খোলা জায়গাতে হয়। এই ওয়ার্কশপের পর আমার মনে হয়েছে, এর মাধ্যমে আর্টকে মানুষের কাছে নিয়ে আসা সম্ভব। এমনিতে আর্ট এক্সিবিশনে আমরা সবাইকে আমন্ত্রণ জানাতে পারি না, সবাই আসেও না। তাই কোনো এক্সিবিশন যদি খোলা জায়গায় হয়, সবার জন্য সেটা উপভোগ্য হবে। আমি যুদ্ধের সব স্মৃতির ওপর রং করে যেতে চাই, তবেই আমি মানুষের মাথা থেকে যুদ্ধের ভয়ংকর স্মৃতি মুছে দিতে পারব। চেয়েছিলাম মানুষ আফগানিস্তানকে তার শিল্পের জন্য মনে রাখুক, যুদ্ধের জন্য নয়।

ইউরোপ বা অন্য দেশে গ্রাফিতিকে সাধারণত বেআইনি মানা হয়। কিন্তু আফগানিস্তানের ক্ষেত্রে এটি ব্যতিক্রম। এখানে এই চিত্রশিল্পকে আমি বিভিন্ন বার্তা অথবা আইডিয়া প্রকাশের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করি। কারণ এখানে সব ধরনের শিল্পেরই ভীষণ দরকার। গ্রাফিতি উন্মুক্ত মাধ্যম হওয়ায় মানুষের কাছে এর প্রভাবটাও ভিন্ন রকম। সহজেই সবাইকে মনের ভাব এঁকে বোঝানো যায়।   গ্রাফিতি করব বলে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর শুরুতেই বড় বা খোলা জায়গা ব্যবহার করিনি। আঁকার জন্য খুঁজে বের করতাম কোনো কর্নার অথবা অভ্যন্তরীণ জায়গা। কারণ এই মাধ্যমটি মানুষের কাছে একদম নতুন। কে কীভাবে নেবে বা আমার কী ধরনের সমস্যা হতে পারে তা বোঝার কোনো উপায় ছিল না। নানা মানুষের নানা মত থাকবে এটাই স্বাভাবিক ছিল। আমি মানসিকভাবে গালাগালি শুনতেও প্রস্তুত ছিলাম। শুনেছিও। আমার আঁকার সময় কিছু মানুষ আবেগীয় কথা বলতে আসে, কেউ আসে সহযোদ্ধা হতে। অনেকেই চায় গ্রাফিতি বন্ধ করতে।

সবচেয়ে বিস্ময়কর মন্তব্য ছিল, ‘দেয়ালগুলো নষ্ট করছ কেন?’ তারা ভাবত আমি প্রচণ্ড স্বাধীন। আমার কোনো কাজ নেই। তাই দেয়াল নোংরা করে বেড়াই। অনেকে প্রশ্ন তুলত, আমার কাজ ইসলামে স্বীকৃত কিনা। তবে সব ছাপিয়ে আমি ছবি এঁকে যাচ্ছি। অনেকেই আমার কাজ ভীষণ পছন্দ করে। এখন তো খোলা সড়কেও বিনা দ্বিধায় ছবি আঁকি। কাবুলের সড়কে আঁকার সময় কিছুটা দুশ্চিন্তায় থাকতে হয়। পুলিশ নিয়ে আমার কোনো সমস্যা নেই। আমার ভয় হয় নিজের নিরাপত্তা নিয়ে।’

হাসানি যখন গ্রাফিতি আঁকতেন তখন তার মুখ বাঁধা থাকত মাস্কে, হাতে থাকত দুই চারটি স্প্রে পেইন্ট। আঁকা শুরুর আগে স্থাপনা দেখে এসে ড্রাফটে ছবি প্রিন্ট করে নিতেন। এরপর পরিকল্পনামাফিক চলে যেতেন যথাস্থানে। শুরু করতেন কাজ।

আফগান শিল্পীদের অনুপ্রেরণা

শামসিয়া হাসানি কাবুল বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলার একজন শিক্ষক। শিক্ষার্থীরা যখন জানতে পারেন তিনি গ্রাফিতি করছেন, তারাও শিখতে আগ্রহ দেখান। তবে সমস্যা ছিল, এটা ফরমাল কোনো ক্লাস নয়। যার কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ে বিষয়টি নিয়ে ক্লাস নেওয়ার সুযোগ ছিল না। হাসানি চাননি শিক্ষার্থীরা এ বিষয় থেকে মনোযোগ হারিয়ে ফেলুক। সিদ্ধান্ত নিলেন, সরাসরি ক্লাস নিতে না পারলেও ওয়ার্কশপের আয়োজন করবেন। এতে নিজের মতো করে শেখানোর সুযোগ থাকবে। শেখানো শুরুর পর হাসানি দেখতে পান, তরুণদের মধ্যে গ্রাফিতি দারুণ সাড়া ফেলেছে। কাগজের বাইরে গিয়ে ইচ্ছেমতো আকৃতিতে রং বসানো যায় এতে।

হাসানি বলেন, ‘গত বছর আমি একটি ওয়ার্কশপ করেছি শিক্ষার্থীদের জন্য। প্রতি বছর আমি এই গ্রাফিতি ওয়ার্কশপ চালিয়ে যেতে চাই কারণ বিশ্ববিদ্যালয়ে তো আর গ্রাফিতি শেখাতে পারব না। আফগানিস্তানে এখন প্রচুর নতুন শিল্পী রয়েছেন। আট বছর আগে আমি যখন আফগানিস্তানে আসি, তখন কোনো ভালো শিল্প বা শিল্পী দেখতে পাইনি। এখন সবকিছু উন্নত হচ্ছে এবং এখন আফগান শিল্প আগের চেয়ে অনেক ভালো।

হাসানির ছবিতে নীল রঙের আধিক্য দেখা যায়। কেন এই রঙের প্রাধান্য তা নিয়ে হাসানি বলেন, ‘নীল আমার প্রিয় রঙ। রঙিন কাজ করতে নীলের প্রাধান্য অনেক। আর রঙিন কাজে আমি খুব আনন্দ পাই। মানুষ বলে, মুক্তিরও আরেক রং নীল। মুক্তি হচ্ছে মনের শান্তি। বোরকা খুলে ফেলা কখনো মুক্তি নয়।’

জনসম্মুখে নারী অধিকার

শামসিয়া হাসানির পথচিত্রগুলোর দিকে তাকালে একটি বিষয় নজর কাড়ে। তার ছবির মূল বিষয় নারী। হাসানির মতে, এ শুধু নারীর ছবি নয়, একে বলা যায় নারীশক্তি। তিনি বলেন, ‘আফগানিস্তানে একজন নারীর বড় হয়ে ওঠা সহজ কথা নয়। যুদ্ধপ্রবণ দেশে নারীর কষ্ট কেউ অনুভব করতে পারে না। তাকে অনেক দুর্দশার মধ্য দিয়ে নিজেকে ও চারপাশকে রক্ষা করতে হয়। তাই আমি নারীশক্তির আনন্দকে ফুটিয়ে তুলতে চেয়েছি রং-বেরঙের গ্রাফিতির মাধ্যমে। বিশেষ করে মুসলিম আফগান নারীদের ভিন্ন প্রতিমূর্তি নিদর্শন করাই আমার স্ট্রিট আর্টের একমাত্র লক্ষ্য।’

নারী অধিকার নিয়ে কথা বলতে বরাবর স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন হাসানি। তিনি চান, নারীরা যেন ঘরবন্দি না থেকে নিজের শক্তি দিয়ে সামনে এগিয়ে আসে। হাসানি বলেন, ‘আমি দেখেছি বিভিন্ন সময়ে এবং যুদ্ধে মানুষ প্রচুর সমস্যার সম্মুখীন হয়েছে, নারীদের প্রচুর সীমাবদ্ধতার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। অতীতে নারীদের সমাজ থেকে বঞ্চিত করে রাখা হতো এবং বলা হতো নারী শুধুই ঘরে থাকুক। কিন্তু আমি চাই মানুষকে নারীদের কথা মনে করিয়ে দিতে। আমি আমার ছবিতে নারীদের শক্তি, সামর্থ্য, আনন্দ সবটাই দেখিয়েছি। নারীরা যে আফগান সমাজে নতুন ও শক্তিশালী অবয়ব নিয়ে ফিরে এসেছে সেটা ফুটিয়ে তুলেছি ছবিতে। আমার আঁকা নারীরা কিন্তু সেই নারীই, যারা সারা দিন ঘরে থাকত। এখন তারা নবউদ্যমে জেগে উঠেছে, এগুলো তারই প্রতিচ্ছবি। পুরনো দৃষ্টিভঙ্গি রেখে লোকে তাদের এখন নতুন করে দেখছে।’

নারীশক্তি ছাড়াও শামসিয়ার শিল্পকর্মে স্থান পেয়েছে ইসলামি ঐতিহ্যের দিকটি। গ্রাফিতিগুলোতে দেখা যায়, প্রত্যেক নারীই বোরকা অথবা হিজাব পরিহিত অবস্থায় গিটার বা পিয়ানো বাজাচ্ছে, পথেঘাটে স্বাধীনভাবে চলাচল করছে। অর্থাৎ মুসলিম নারীর পোশাক যে তার জন্য কোনো বাঁধা সৃষ্টিকারী নয়, বরং সেই পোশাকেই একজন মুসলিম নারী আত্মবিশ্বাসী হয়ে নিজেকে উপস্থাপন করতে পারেন, নিজস্ব পরিচিতি তৈরি করতে পারেন, সমান অধিকারী হতে পারেন সবকিছুর- সেটিকেই তুলে ধরা হয়েছে। অনেকেই মনে করেন, পর্দাপ্রথা একজন মুসলিম নারীকে শোষণ করার মাধ্যম, পিছিয়ে রাখার উপায় ইত্যাদি। এই ধারণাটিকে প্রত্যাখ্যান করেন হাসানি। তার মতে, ‘একজন আফগান নারীকে দৈনিক নানা রকম সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। যেমন: নারীরা লেখাপড়ার ক্ষেত্রে সমঅধিকার থেকে বঞ্চিত, যা হিজাব-বোরকার চেয়ে অনেক বড় একটি সমস্যা।’

প্রদর্শনী ও সম্মাননা

শামসিয়া হাসানির কাজের নিদর্শন আফগানিস্তানের বাইরে প্রদর্শিত হয়েছে ভারত, ইরান, জার্মানি, আমেরিকা, সুইজারল্যান্ড, ইতালি, তুরস্ক, ভিয়েতনাম ইত্যাদি দেশে। এই বিপ্লবী নারী তার প্রতীকী শিল্পকর্মের মাধ্যমে তার শিল্পগত উপায়ে বিশ্বে জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন।  

২০১৩ সালে কাবুলে তিনিই প্রথম ‘জাতীয় গ্রাফিতি উৎসব’ আয়োজন করেন। ২০১৪ সালে হাসানিকে ‘শীর্ষস্থানীয় ১০০ বিশ্বচিন্তকের একজন’ খেতাব দেয় এফপি। ভারতের গোয়াতে ২০১৭ সালে ‘আর্ট স্পেকট্রাম অ্যাওয়ার্ড সাউথ এশিয়া’তে ভূষিত হন তিনি।

হাসানি বিশ্বাস করেন, মুখে বলার চেয়ে নির্বাক ছবির জোর অনেক বেশি। তাই সেমিনার, প্রদর্শনী, চিত্রকর্মের মাধ্যমে নিজের শিল্পকর্ম দিয়ে তিনি তুলে ধরছেন ইতিবাচক পরিবর্তনের বিভিন্ন বার্তা। ছড়িয়ে দিচ্ছেন স্বাধীনতার সুবাস। আফগানিস্তানের নারীদের জন্য কিছু করার ইচ্ছা তার অনেক দিনের। তার পক্ষে যতটুকু সম্ভব, তিনি ততটুকুই চেষ্টা করছেন।

হুমকি

ছবি প্রকাশ করা অত্যন্ত সাহসী একটি পদক্ষেপ। অধিকাংশ বিশ্লেষক এবং মানবাধিকার কর্মীরা মনে করছেন, ৯০-এর দশকের মতোই এখন আবার তালেবানরা নারীদের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা ও সহিংসতা প্রতিষ্ঠা করবে। অন্যদের তুলনায় নারীশিল্পীরা দ্বিগুণ বিপজ্জনক অবস্থায় রয়েছেন। কারণ তালেবানরা নারীর যে কোনো সৃজনশীল কাজকে ইসলামি আইনের কঠোর লংঘন হিসেবে মনে করে।

২০১৬ সালে একটি সাক্ষাৎকারে হাসানি বলেছিলেন, ‘কিছু লোক মনে করে, ইসলামে শিল্পের অনুমতি নেই এবং আমাকে থামানো উচিত। অনেক ব্যক্তি যদি একসঙ্গে কাজ করে তাহলে তাদের শক্তি বেড়ে যায়। তারা একত্রে অনেক কিছু করার ক্ষমতা রাখে। আমার ভয়টা এখানেই।’

ছবির কথা

শামসিয়া হাসানির আঁকা অনেক ছবি শোভা পাচ্ছে আফগানিস্তানের সড়কে। তার প্রতিটি ছবির আলাদা আলাদা নাম আছে। হাসানির আঁকা একটি ছবির নাম ‘দুঃস্বপ্ন’। এই ছবিটি তিনি এঁকেছিলেন ৯ আগস্টের পর। ৯ আগস্ট থেকেই বোঝা যাচ্ছিল আফগানিস্তান তালেবানদের হাতে চলে যাচ্ছে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে এক নারীর অবয়ব এঁকেছিলেন তিনি, যার হাতে ধরা ছিল একটি বাদ্যযন্ত্র, পরনে বোরকা। ছবির নারীকে চারদিক থেকে ঘিরে ধরেছে কয়েকজন পুরুষ।

আরেকটি ছবির নাম ‘তালেবানের বিরুদ্ধে’। এটি ২০২০ সালের নভেম্বর মাসে বিধ্বংসী হামলার পরের দৃশ্যের গল্প। কাবুল বিশ্ববিদ্যালয়ে তালেবান হামলার ফলে মানুষের মধ্যে যে হাহাকার সৃষ্টি হয়, তাই ফুটে উঠেছে হাসানির এ কাজে। ধারাবাহিক সিরিজের ছবিতে আরও ছিল হামলায় মৃত এক সন্তানসম্ভবা মায়ের মৃত্যুর ছবি। 

হাসানির নারীদের ছবিগুলো মুখহীন থাকে, যা আফগান সমাজে নারীদের মতপ্রকাশের অভাব বা সিদ্ধান্তহীনতার প্রতীক। হাসানি বলেন, ‘আমার নারীদের চোখ বন্ধ থাকে, কারণ সে ভবিষ্যৎ দেখতে অপারগ, কিন্তু সে অন্তর থেকে অন্ধ নয়’।