ধর্ষণ মামলার আসামি পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) পুলিশ সুপার (এসপি) মোক্তার হোসেনের ছোট ভাই আক্তার হোসেনকে (৪৫) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত বুধবার রাতে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার সস্তাপুর এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
ফতুল্লা থানার ওসি রাকিবুজ্জামান জানান, একটি মারামারি মামলায় আক্তার হোসেনকে গ্রেপ্তার করে গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
১২ আগস্ট এসপি মোক্তার হোসেনের বিরুদ্ধে তার সহকর্মী এক নারী পুলিশ পরিদর্শক ঢাকার ৭ নম্বর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল আদালতে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা করলে ফতুল্লাসহ সর্বত্র সমালোচনার ঝড় ওঠে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সস্তাপুর কুতুবআইল এলাকার পৈতৃক বাড়িতে থাকেন আক্তার হোসেন। বড় ভাইয়ের দাপটে তিনি স্থানীয়দের সঙ্গে প্রায়ই অশোভন আচরণ করেন। কথায় কথায় লোকজনকে মারধর করেন। এসব ঘটনায় তার বিরুদ্ধে একাধিকবার থানায় অভিযোগ দিলেও পুলিশ কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। উল্টো তারা বলেছে, মীমাংসা করে ফেলেন, তার ভাই এসপি। তার বিরুদ্ধে কিছুই করা যাবে না।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, কয়েক বছর আগে ইয়াবাসহ পুলিশের হাতে আটক হন আক্তার। তখন এসপি মোক্তার ফোন করে ভাইকে ছাড়িয়ে নেন। এরপর কাঁচপুর এলাকায় ডাকাতি করতে গিয়ে ধরা পড়লে তাকে পিটুনি দেয় স্থানীয়রা। সেখানে পুলিশ পাঠিয়ে আক্তারকে উদ্ধার করেন এসপি মোক্তার।
সম্প্রতি আক্তারের বিরুদ্ধে ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি মোস্তফা কামালের ছেলে ও ভাতিজাকে মারধর করার অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে মোস্তফা কামাল বলেন, গত ৩০ মে রাতে কোনো কারণ ছাড়াই তার ছেলে ও ভাতিজাকে বেদম মারধর করে আক্তারসহ পাঁচজন। এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ করলেও পুলিশ মামলা নেয়নি।
এ ব্যাপারে ফতুল্লা থানার ওসি রকিবুজ্জামান বলেন, আওয়ামী লীগ নেতা মোস্তফা কামালের সঙ্গে তারা আপস করেছেন বলে মামলা হয়নি। পরে কেউ অভিযোগও করেনি।