কক্সবাজারের উখিয়ায় গাড়ির সামনে-পেছনে পুলিশের স্টিকার লাগিয়ে এএসপি পরিচয়ে প্রতারণাকালে দুই সহযোগীসহ তিনজনকে আটক করেছে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন-এপিবিএন।
বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে কক্সবাজারের উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্প-০৮ ইস্ট এর সিআইসি-৮ ইস্ট এর অফিসের সামনে থেকে তাদের আটক করে ৮ এপিবিএন।
আটকদের মধ্যে এএসপি পরিচয়দানকারী মো. আহসান ইমাম (৩৩) গোপালগঞ্জ সদরের বরফা পশ্চিম শুকতাইল এলাকার মো. শাহজাহান মোল্লার ছেলে।
আহসান নিজেকে কখনো এডিসি, কখনো এএসপি হিসেবে পরিচয় দিয়ে প্রতারণামূলক কাজে যুক্ত বলে সহযোগীরা জানায়।
গাড়ির চালক পটুয়াখালী গলাচিপার বুনিয়া এলাকার আব্দুল হক শিকদারের ছেলে মো. মিন্টু (৩০)। আটক অন্যজন গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জের মহিষমারি এলাকার মো. মনোয়ার হোসেনের ছেলে মো. মানসুর রহমান (২৯)।
এপিবিএন সূত্রে জানা গেছে, পানবাজার পুলিশ ক্যাম্প-৯ এর আওতাধীন ক্যাম্প-৮ ইস্ট এর চেকপোস্ট ৮ এর পুলিশের সিগন্যাল অমান্য করে সামনে-পেছনে ‘পুলিশ’ স্টিকারযুক্ত একটি ‘TOYOTA AVANZA’ গাড়ি (ঢাকা মেট্রো-গ-২৩-৮৬৭৩) ক্যাম্পের ভেতরের দিকে যেতে থাকে। সিআইসি ৮-ইস্ট এর অফিসের সামনে গিয়ে গাড়িটি দাঁড়ায়।
এ সময় গাড়িতে থাকা ব্যক্তিদের নাম-পরিচয় জানতে চাইলে গাড়িতে থাকা একজন নিজেকে বাংলাদেশ পুলিশের এএসপি পিয়াল হিসেবে পরিচয় দেন। বিস্তারিত জানতে চাইলে সে নিজেকে ৩৪তম বিসিএস পুলিশের একজন সদস্য যার বিপি নং-৩৩০৭১৭ এবং পোস্টিং পুলিশ হেডকোয়ার্টার, মিন্টো রোড, ঢাকা বলে জানান।
তবে তাদের কথাবার্তা সন্দেহজনক মনে হলে পুলিশ সদস্যরা ক্যাম্প কমান্ডারসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অবহিত করেন।
ক্যাম্প কমান্ডারসহ অন্যান্য কর্মকর্তাদের বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদের ওই ব্যক্তি একপর্যায়ে স্বীকার করেন যে তিনি পুলিশের সদস্য নন। পরে তাদের আটক করা হয় এবং গাড়িটি জব্দ করা হয়।
জব্দকৃত ওই গাড়িতে মো. আমানুল্লাহ পলাশ নামধারী পুলিশ সার্জেন্টের আইডি কার্ডও পাওয়া যায়। এটি গাড়িতে থাকা কারও নয়, প্রতারণার কাজে এটি ব্যবহৃত হয় বলে জানা গেছে।
এ ঘটনায় উখিয়া থানায় নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছেন ৮ এপিবিএন এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. কামরান হোসেন।