আশুলিয়া নারীর চুল কেটে দেওয়ায় আরেক নারী গ্রেপ্তার

সাভারের আশুলিয়ায় পাওনা টাকা না দিতে পারায় লাকি বেগম (৩০) এক নারীর বিরুদ্ধে অন্য এক নারীকে মারধর করে চুল কেটে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী শুক্রবার সকালে আশুলিয়া থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করলে অভিযুক্ত মুদি দোকানি লাকি বেগমকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠিয়েছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার রাত ১১ টার দিকে আশুলিয়ার ঘোষবাগ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

গ্রেপ্তার লাকি বেগম পটুয়াখালী জেলার ইন্দুরকানি থানার কালাইয়া গ্রামের জাকির হোসেনের স্ত্রী। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ঘোষবাগ এলাকায় একটি মুদি দোকান পরিচালনা করে আসছেন।

এদিকে ঘটনাটির তদন্তে গিয়ে স্থানীয় এক আওয়ামী লীগ নেতা ও তার কর্মীদের রোষানলে পড়তে হয় বলে অভিযোগ করেছে পুলিশ। তবে আওয়ামী লীগ নেতার দাবি, এক নারীর চুল কাটার ঘটনায় তাকে ফাঁসিয়ে ফায়দা নিতে চেয়েছিল পুলিশ।

অভিযুক্ত মজিবর রহমান শাহেদ ইয়ারপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। তিনি বলেন, বিকেলে ভুক্তভোগী ওই নারী তাকে মারধরসহ চুল কেটে দেওয়ার বিচার নিয়ে আমার কাছে আসেন। আমি তাকে ৯৯৯ এ ফোন করার পরামর্শ দিই এবং ঘটনাটি ফোন করে থানায় জানাই। পরে ভুক্তভোগীকে নিয়ে ঘটনার তদন্তে আসেন আশুলিয়া থানার উপপরিদর্শক শফিউল্লাহ। তিনি ভুক্তভোগী নারীকে নিয়ে অভিযুক্তকে খুঁজে বের করার চেষ্টা করেন। কিন্তু অভিযুক্তকে না পেয়ে ভুক্তভোগীকে পুলিশ ভ্যানে তুলে আমার বিরুদ্ধে তার কাছ থেকে জোরপূর্বক ভিডিও স্বীকারোক্তি নিয়ে আমাকে থানায় নিয়ে যেতে চান।

তিনি বলেন, এ সময় ভুক্তভোগী নারীকে ঘটনাস্থলে নিয়ে এসে জনতার সম্মুখে জানতে চাই আমার বিরুদ্ধে তার কোন অভিযোগ আছে কিনা। তখন তিনি বলেন, তার বুকে পিস্তল ঠেকিয়ে এই ভিডিও স্বীকারোক্তি নিয়েছেন এসআই শফিউল্লাহ। এ সময় এসআই উপস্থিত জনতার রোষানলে পড়লে থানা থেকে আরও তিন পুলিশ কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

তবে আশুলিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শফিউল্লাহ তার বিরুদ্ধে করা অভিযোগ ভিত্তিহীন দাবি করে বলেন, বৃহস্পতিবার রাতে কিলো ডিউটিকালীন সময়ে তদন্ত স্যার আমাকে ভিকটিমের নাম্বার এসএমএস করে সেখানে যেতে বলেন। আমি ফোর্সসহ সেখানে গিয়ে উপস্থিত লোকজনের সামনে ভিকটিমের কাছে ঘটনার বর্ণনা শুনি। তখন মজিবর নামে একজন তার চুল কেটে আরেকজনকে ফাঁসাতে বলেছে বলে আমাকে জানায়। ওই স্বীকারোক্তি আমি ভিডিও করে মজিবর নামের ওই ব্যক্তিকে তার বাড়ির সামনেই বাজারে ডেকে পাঠাই। পরে তাকে আমার সাথে থানায় আসতে বলি ওসি স্যারের কাছে। কিন্তু ওই সময় অনেক লোকজন আমাকে বাঁধা দেয়। তারা অনেক খারাপ আচরণও করেন আমার সাথে। পরে থানা থেকে অতিরিক্ত ফোর্সসহ আমার সিনিয়ররা ঘটনাস্থলে যান। পরে যখন ভিকটিম ও অভিযুক্তকে থানায় আনা হচ্ছিল তখন মজিবরের লোকজন উত্তেজিত হয়ে বিশৃঙ্খলা করেছে।

ভুক্তভোগী নারী বলেন, আমি লাকি বেগমের মুদি দোকান থেকে বাকিতে বাজার করতাম। কিন্তু করোনার কারনে চাকরি না থাকায় তার দোকানে ১০ হাজার টাকা বকেয়া পড়ে যায়। সেই টাকা দিতে না পারায় লাকি বেগম আমাকে দোকানে ডেকে নিয়ে যায়। আমি টাকা পরিশোধের জন্য সময় চাইলে সে গালিগালাজ ও মারধর করে ধারালো কাঁচি দিয়ে আমার মাথার চুল কেটে দেয়। এ বিষয়ে আমি মজিবর রহমান শাহেদের কাছে বিচার চাইতে গিয়েছিলাম।

এ ব্যাপারে ঢাকা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) আব্দুল্লাহ হিল কাফি বলেন, ঘটনাস্থলে স্থানীয় লোকজনের সাথে পুলিশের একটু ভুল বোঝাবুঝি হয়েছিল। যেটা ওই রকম গুরুতর কিছু নয়। তবে প্রাথমিক ভাবে বকেয়া টাকার জন্য অভিযোগকারী নারীর চুল কেটে নেওয়ার অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত দোকানিকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।