রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ঘাট এলাকায় গত ৩০ জুলাই সোমবার সকাল সাড়ে ৮টার থেকে দৌলতদিয়ার ৪নং ফেরিঘাট এলাকায় ভাঙন শুরু হয়। ভাঙনের ফলে ফেরিঘাটের নদীপাড়ের একমাত্র মসজিদসহ চারটি বাড়ির বেশির ভাগ অংশ পদ্মার ভয়াল থাবায় নদীগর্ভে বিলীন হয়। এ ছাড়াও হুমকিতে রয়েছে ফেরিঘাটসহ নানা রকম স্থাপনা।
বুধবার দুপুরে ভাঙন কবলিত এলাকা ঘুরে দেখা যায়, ভাঙন রোধে ৪নং ফেরিঘাট এলাকায় বিআইডব্লিউটিএ জিও ব্যাগ ফেলছে যা চলমান রয়েছে। গত সোমবার থেকেই ভাঙন রোধে জিও ব্যাগ ফেলা হচ্ছে।
এ সময় স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলেতে গেলে তারা জানায়, এই ভাঙনের পেছনে উন্নয়ন বোর্ড ও বিআইডব্লিউটিএ উদাসীনতা ও দায়িত্ব এড়ানো ও সঠিক সময় সঠিক ব্যবস্থা না নেবার জন্য বারবার দৌলতদিয়া ইউনিয়ন বাসী বারবার ভাঙনের কবলে পরে।
তারা যদি ভাঙন রোধে আগে আগে থেকেই কোনো পদক্ষেপ নিত তাহলে আমাদের বাস্তু হারা হতে হতো না। যাদের নদীগর্ভে ঘরবাড়ি চলে তারাই বুঝে কতটা যন্ত্রণা।
এ সময় কথা হয় স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. আশরাফ হোসেনের সঙ্গে তিনি বলেন, গত সোমবারের ভাঙনে সিদ্দিক কাজীর পাড়ার ৫টি পরিবারের বসতভিটা নদীতে বিলীন হয়ে গেছে এখনো ঝুঁকিতে আছে আরও অনেক বাড়ি।
তা ছাড়া ৪নং ফেরিঘাটে একমাত্র মসজিদটিও নদীগর্ভে চলে গেছে। হুমকিতে রয়েছে ফেরিঘাট আমি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে ভাঙন রোধে ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য অনুরোধ করছি।
এদিকে দৌলতদিয়া ভাঙন কবলিত স্থান কয়েক বার পরিদর্শন করেন বিআইডব্লিউটিএ'র প্রধান প্রকৌশলী মো. মুহিদুল ইসলাম।
পরিদর্শনের সময় তিনি জানান, ভাঙন কবলে পড়া জায়গায় আগে একটি চ্যানেল ছিল যেটি ভেঙে গিয়েছে। আর ওই চ্যানেল টি ভাঙার ফলে এখন ঘাটগুলো সামনে চলে এসেছে। তবে নদীতে তীব্র স্রোতের থাকার কারণে পানির নিচে থাকা মাটি সরে গিয়েও ভাঙনের চরম ঝুঁকি সৃষ্টি হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, এই ফেরি ঘাটের এরিয়া প্রায় ৩ কি.মি.। আমাদের কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে তবে আমরা আশাবাদী অতি দ্রুত এর একটি স্থায়ী সমাধানে হবে। দৌলতদিয়া ঘাটটিকে স্থায়ীকরণের জন্য ইতিমধ্যেই প্রোজেক্ট পাস হয়েছে।খুব শিগগিরই কাজ শুরু হবে।