মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে চা বাগানে ছবি তোলাকে কেন্দ্র করে ঢাকা মহানগর ছাত্রলীগের (উত্তর) নেতাকর্মীদের সঙ্গে চা শ্রমিকদের সংঘর্ষ হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় শ্রীমঙ্গল সদর ইউনিয়নের রাধানগরে জেরিন টি গার্ডেনে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, ছাত্রলীগ নেতাদের ছবি তুলতে নিষেধ করায় জেরিন চা বাগানের ডেপুটি ম্যানেজারকে মারধর করার অভিযোগ ওঠে। পরে চা বাগানের শ্রমিকরা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা করে ও একটি রির্সোটে ভাংচুর চালায়। খবর পেয়ে শ্রীমঙ্গল থানার পুলিশ পরিস্থিতি শান্ত করে।
বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলার রাধানগর এলাকার গ্র্যান্ড মুবিন রিসোর্টে ঘটনাটি ঘটে। এ ঘটনায় দুপক্ষের প্রায় ১৫ জন আহত হয়ে শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা নেন।
গ্র্যান্ড মুবিন রিসোর্ট কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় চা শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ঢাকা মহানগর (উত্তর) ছাত্রলীগের সভাপতি মো. ইব্রাহীম হোসেন ও ঢাকার উত্তর ছাত্রলীগের বিভিন্ন ইউনিটের আরো ১৮ নেতাকর্মী বুধবার রিসোর্টে উঠেছিলেন। বৃহস্পতিবার সাড়ে ১১টার দিকে তারা রির্সোটের পাশে জেরিন চা বাগানের ৯ নম্বর সেকশনের কালাবন এলাকার ছবি তুলছিলেন। এ সময় ওই এলাকায় কর্মরত নারী চা শ্রমিকরা তাদের ছবি তুলতে নিষেধ করেন। এ নিয়ে শ্রমিকদের সঙ্গে নেতাকর্মীদের কথা কটাকাটি হয়। পরে সংঘর্ষের ঘটনাটি ঘটে।
সরেজমিন গ্র্যান্ড মুবিন রিসোর্টে গিয়ে দেখা যায়, রিসোর্টের চারটি রুমের আসবাবপত্র, জানালা-দরজা ভাঙা। রিসোর্টের সিসিটিভি, টেলিভিশন, পানির পাইপ ও ফুলের টব, চেয়ার ইত্যাদি ভেঙে রাখা হয়েছে। ঘরের ভেতর রান্না করা খাবার পড়ে রয়েছে।
রিসোর্টের মালিক আব্দুল মুবিন বলেন, ঝামেলা যা হওয়ার হয়েছে। কিন্তু এভাবে আমার রিসোর্টে হামলা চালানো উচিত হয়নি। চা বাগানের শ্রমিকরা এখানে এভাবে হামলা চালানোর ফলে আমার রিসোর্টের অনেক মালামাল নষ্ট হয়েছে। আমার এ ক্ষতি কীভাবে পূরণ হবে।
জেরিন চা বাগানের ব্যবস্থাপক সেলিম রেজা বলেন, রিসোর্টের পাশের চা বাগানে নারী শ্রমিকরা চা পাতা তোলার কাজ করছিলেন। চা বাগানে নারী শ্রমিকরা কম কাপড় পরে কাজ করেন। এ সময় ঢাকা থেকে আসা ছাত্রলীগের কর্মীরা চা বাগানে ঢুকে নারীদের ছবি তুলছিলেন। চা বাগানের শ্রমিকরা ও আমাদের ডেপুটি ম্যানেজার মো. আলী তাদের ছবি তুলতে নিষেধ করেন। তারা ডেপুটি ম্যানেজারকে গালমন্দ করেন। তারা বলেন যে, এটি সরকারি জায়গা, আমরা ছবি তুললে আপনাদের কী? ম্যানেজার বারবার তাদের নিষেধ করলে তারা উত্তেজিতভাবে কথা বলতে থাকে। একপর্যায়ে তারা আমাদের ডেপুটি ম্যানেজারের গায়ে হাত তোলে। তাকে টেনে রিসোর্টে নিয়ে যেতে চাইলে চা বাগানের শ্রমিকরা বাধা দেন। ছাত্রলীগের কর্মীরা নারী শ্রমিক ও ম্যানেজারের ওপর হামলা করলে, শ্রমিকরা চা বাগানের পাগলা ঘণ্টা বাজায়। এতে শ্রমিকরা উত্তেজিত হয়ে রিসোর্টে যায়। পরে আমরা গিয়ে শ্রমিকদের শান্ত করে বাগানে কাজে ফিরিয়ে এনেছি।
ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রলীগের সভাপতি ইব্রাহিম হোসেন বলেন, চা বাগানে ছবি তোলা নিয়ে স্থানীয় চা শ্রমিকদের সঙ্গে একটু কথা কাটাকাটি হয়েছিল। পরে স্থানীয়রা এসে একটি সমাধান করে দিয়েছেন।
তবে ছাত্রলীগ নেতাদের ওপর হামলার কথা অস্বীকার করেন তিনি।
মৌলভীবাজারের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জাকারিয়া ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ছবি তোলা নিয়ে ভুল বোঝাবুঝির জেরে চা শ্রমিক ও ছাত্রলীগ নেতাদের মধ্যে সামান্য বাগবিতণ্ডা হয়েছে এবং ছাত্রলীগ কর্মীরা যে রিসোর্টে অবস্থান করছিলেন সেটি একটু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ব্যাপারে বাগান কর্তৃপক্ষ বা ছাত্রলীগ নেতা কোনো পক্ষ থানায় অভিযোগ দায়ের করেনি।