হার্নিয়া কেন হয়

হার্নিয়া হলো পেটের পেছনের দিকে থাকে হাড়, যার সামনে রয়েছে পেশি। তার ভেতরে থাকে অন্ত্র, নালি, চর্বি ইত্যাদি। কিন্তু পেটের মধ্যে কোথাও ছিদ্র হয়ে গেলে ভেতরের পদার্থগুলো বাইরে বেরিয়ে আসতে চায়। একেই হার্নিয়া বলে। হার্নিয়া নিয়ে অনেকেই অবহেলা করেন। সময় মতো চিকিৎসকের কাছে যান না। ফলে অবস্থা অনেক খারাপ হয়ে যায়। রোগটি কেন হয়, চিকিৎসা পদ্ধতিই বা কী হবে জানা প্রয়োজন।

হার্নিয়ার ধরন

বয়স্ক পুরুষদের ক্ষেত্রে গ্রোইন হার্নিয়া বেশি হয়। গ্রোইনের মতো নাভিও আর একটি ‘উইক স্পট’। স্থূলতার কারণে নাভিতেও হার্নিয়া হতে পারে। বেশ কয়েক বার গর্ভবতী হলে মহিলাদের তলপেটের অংশ দুর্বল হয়ে যেতে পারে। ব্যায়াম না করলে মেয়েদের তলপেট দুর্বল হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। হতে পারে আম্বিলিক্যাল হার্নিয়া। অস্ত্রোপচার পরবর্তী সেলাইয়ের সঙ্গে স্বাভাবিক ক্ষতের পার্থক্য আছে। সেলাইয়ের ক্ষতের পেশিগুলোর শক্তি স্বাভাবিক ক্ষতের চেয়ে কম হয়। এ সময় যদি রোগী জোর দিয়ে কাশেন, বেশি কাজকর্ম করেন, তবে ক্ষতে সংক্রমণ হতে পারে। তার থেকে বা  কোনো কারণে সেলাই খুলে গেলে ইনসিশনাল হার্নিয়া হয়। মহিলাদের সিজারিয়ান  সেকশন বা হিস্টেরেক্টমি-র পর তলপেটে এই হার্নিয়া দেখা যায়। রোগী কেশেছেন, বমি করেছেন বা ওবিস ছিলেন এর ফলে এ সমস্যা হতে পারে। যে কোনো অস্ত্রোপচারের পরেই এই হার্নিয়া হতে পারে। ক্যানসার রোগীর অস্ত্রোপচারের পরে শারীরিক দুর্বলতার জন্য ঘা না শুকালেও হার্নিয়া হয়। পেটে ছিদ্র বা সংক্রমণের জরুরিভিত্তিক অস্ত্রোপচারের পরেও ঘা পেকে হার্নিয়া হতে পারে।

প্রতিকার

সাধারণত হার্নিয়ায় অস্ত্রোপচার করাতে হয়। তবে সব ক্ষেত্রে অস্ত্রোপচার দরকার হয় না। এই হার্নিয়া আস্তে আস্তে বাড়ে। খাদ্যনালির চর্বি তো ওই হার্নিয়ার মধ্য দিয়ে বাইরে বের হয়ে যায়। তাই কখনো সেখানে রক্তসঞ্চালন আটকে গেলে গ্যাংগ্রিন হয়ে মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। আম্বিলিক্যাল ও ইনসিশনাল হার্নিয়ায় এই ধরনের আশঙ্কা রয়েছে।

হার্নিয়ার চিকিৎসা করাতে হবে। চিকিৎসা না করালে এটি বড় হতে পারে। তখন রোগীর শ্বাসকষ্ট, পিঠে ব্যথা, কোষ্ঠকাঠিন্য হবে। হার্নিয়া বাড়লে মাইক্রোসার্জারি  করে সমাধান পাওয়া যাবে না। তখন ওপেন সার্জারি করতে হবে। কম্পোনেন্ট সেপারেশন টেকনিকের সাহায্যে কমপ্লেক্স হার্নিয়া সার্জারিও হয়। না কেটে অস্ত্রোপচার করলে ৫-৭ দিনে এবং কাটতে হলে ২-৩ সপ্তাহের মধ্যেই রোগী স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবেন। তাই হার্নিয়া নিয়ে অবহেলা করা উচিত নয়।

ডা. আতিকা সুলতানা

এমবিবিএস (ডিইউ) ডিএমইউ আল্ট্রাসাউন্ড

পিজিটি (গাইনি অ্যান্ড অ্যাবস)