প্রেমিকার আত্মহত্যায় জড়িত সন্দেহে ফেরিওয়ালা দুই সহোদরকে ছুরিকাঘাত করেছেন প্রেমিক। এদের মধ্যে আলামিন মন্ডল (৩০) নামে একজন ঘটনাস্থলেই মারা যান। অন্যজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
বৃহস্পতিবার গভীর রাতে ফেনী শহরের লুদ্দারপাড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। দুই সহোদর নওগাঁ জেলার বাসিন্দা।
নিহতের চাচা আমিনুল জানান, গত বৃহস্পতিবার প্রতিদিনের মতো রাতের খাওয়া শেষে ১০টার দিকে ঘুমিয়ে পড়েন আলামিন মন্ডল ও তার ভাই তোফাজ্জল মন্ডল।
রাত আড়াইটার দিকে আলামিনকে ঘুমন্ত অবস্থায় ডায়মন্ড প্রামাণিক এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করতে থাকলে তার বড় ভাই তোফাজ্জল বাধা দেন। এ সময় তাকেও ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যান ডায়মন্ড। আলামিন ঘটনাস্থলেই মারা যান।
এ সময় আহত তোফাজ্জলের চিৎকারে প্রতিবেশীরা ছুটে আসেন এবং দু’জনকেই উদ্ধার করে ফেনী জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে তোফাজ্জলকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, নওগাঁ জেলার মান্দা থানার রাজেন্দ্র বাটি গ্রামের নুরুল ইসলাম মন্ডলের দুই ছেলে আলামিন মন্ডল, তোফাজ্জল মন্ডল এবং একই এলাকার ইউনুস আলী প্রামাণিকের ছেলে ডায়মন্ড প্রামাণিক গত ৭-৮ বছর ফেনীর শহরের লুদ্দারপাড় এলাকায় হাজী ফরিদ কলোনির একই রুমে থাকতেন।
গত তিন মাস আগে ডায়মন্ডের নিজ বাড়ির পার্শ্ববর্তী প্রেমিকা আত্মহত্যা করেন। এ ঘটনায় আলামিনের হাত রয়েছে সন্দেহে তার ওপর ক্ষুব্ধ ছিলেন ডায়মন্ড। তারা ফেনী শহরের বিভিন্ন এলাকায় প্লাস্টিক সামগ্রী ফেরি করে বিক্রি করতেন।
লুদ্দারপাড় এলাকায় বাসিন্দা ফরিদ উদ্দিন জানান, ডায়মন্ড গত ৮-৯ দিন আগে বাড়ি থেকে ফেনী আসেন। তিনি কদিন থেকে নিজের হাতে সিগারেটের ছ্যাঁকা দিতেন। ব্যবসায় যেতেন না। পাশের চা দোকানে বসে থাকতেন।
দোকানে অনেককে বলেছেন প্রেমিকা পপি তার মোবাইল ফোনে কল করলে আলামিন কল রিসিভ করে ডায়মন্ড সেজে তাকে গালমন্দ করেন। এতে অপমান বোধ থেকে পপি নওগাঁতে আত্মহত্যা করেন। এ কারণে গত ৮-৯ দিন ধরেই পরিচিতদের কাছে ক্ষোভ প্রকাশ করেন ডায়মন্ড।
জানা যায়, আলামিন বছর তিনেক আগে বিয়ে করেন। এর মধ্যেই জন্মের সময় এক কন্যা সন্তানের মৃত্যুর পর তার স্ত্রী জয়নব বিবি চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা।
শুক্রবার সকালে ফেনীর পুলিশ সুপার খন্দকার নুরুন্নবী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে জানান, প্রেমিকা আত্মহত্যার ঘটনায় জড়িত সন্দেহে তদন্তে ডায়মন্ড একাই আলামিনকে হত্যা ও তার ভাইকে ছুরিকাঘাত করেছে বলে প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে। ডায়মন্ডকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। গ্রেপ্তারের পরই হত্যার রহস্য জানা যাবে।