আফগানিস্তানের ১ হাজার কোটি ডলার ফেরত দিচ্ছে না যুক্তরাষ্ট্র

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে জমা থাকা আফগানিস্তানের বিপুল পরিমাণ সোনা, আর্থিক বিনিয়োগ এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ তালেবানদেরকে দেওয়া হচ্ছে না। তালেবানরা কাবুলের দখল নেওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র আফগান কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ওই বিপুল পরিমাণ সম্পদ ও অর্থ আটক করে রাখে।

ওদিকে মানবিক সহায়তা প্রদানকারী বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা হুঁশিয়ারি দিয়েছে, আফগানিস্তানের সম্পদ ও টাকা আটকে রাখলে দেশটি বড় ধরণের অর্থনৈতিক সংকটে পড়বে।

আফগান কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রায় ১০ বিলিয়ন বা ১ হাজার কোটি ডলারের সম্পদ এবং অর্থ যুক্তরাষ্ট্রে আটকা পড়ে আছে। নারীদের অধিকার এবং আইনের শাসনের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে তালেবানদেরকে চাপ দেওয়ার জন্য এই সম্পদ আটক করে রাখা হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, এই সম্পদ ফেরত পেতে কয়েক মাসও লেগে যেতে পারে।

ওদিকে বৈদেশিক সাহায্য ও ডলারের চালান বন্ধ থাকায় নগদ অর্থের ঘাটতি এবং খরার কারণে ফসলের উৎপাদন কম হওয়ায় আফগানিস্তানে খাদ্য ও জ্বালানির দামও হুহু করে বাড়ছে।

মার্কিন ট্রেজারি থেকে এই সপ্তাহে বলা হয়েছে যে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের সরকার এবং তার অংশীদারদের আফগানিস্তানে মানবিক সহায়তা প্রদান অব্যাহত রাখার অনুমতি দিয়েছে। বিশ্বের সবচেয়ে বড় মানি ট্রান্সফার ফার্ম ওয়েস্টার্ন ইউনিয়ন (WU.N) এবং অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলিকেও বিদেশে থাকা আফগানদের কাছ থেকে আফগানিস্তানে ব্যক্তিগত রেমিটেন্স পাঠানোর প্রক্রিয়া পুনরায় শুরু করার জন্য সবুজ সংকেত দেওয়া হয়েছে।

মার্কিন ট্রেজারির একজন মুখপাত্র রয়টার্সকে বলেছেন, ট্রেজারি ডিপার্টমেন্ট তালেবানদের উপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল করছে না বা বৈশ্বিক আর্থিক ব্যবস্থায় তাদের প্রবেশের উপর নিষেধাজ্ঞাও শিথিল করা হচ্ছে না।

ওই মুখপাত্র বলেন, “মার্কিন সরকার আফগানিস্তানে মানবিক সহায়তাদানকারী অংশীদারদের সাথে যোগাযোগ করেছে। উভয়েই নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং তাদের মানবিক কাজ চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা সম্পর্কে মূল্যায়ন করছে”।

তিনি বলেন, “যেহেতু আমরা আফগান জনগণের প্রতি আমাদের অঙ্গীকার বজায় রেখেছি, আমরা তালেবান নেতাদের উপর নিষেধাজ্ঞা, চাপ বা আন্তর্জাতিক আর্থিক ব্যবস্থায় তাদের প্রবেশে বিধিনিষেধ কমাইনি”।

মেরিল্যান্ডের অর্থনীতির অধ্যাপক এবং আফগান কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বোর্ডের দীর্ঘদিনের সদস্য শাহ মেহরাবি, রাশিয়ার একজন উর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং মানবিক সহায়তাদানকারী বিভিন্ন সংস্থা মার্কিন ট্রেজারির কাছে আফগানিস্তানের সম্পদ ফেরত দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেছে যে, দেশটির মানুষদের জীবন ঝুঁকিতে রয়েছে।

মেহরাবি বলেন, “পরিস্থিতি খুবই গুরুতর। অভাবের কারণে দিনদিন ভোগান্তি আরো বাড়বে এবং আরও বেশি মানুষ দেশত্যাগ করবে”।

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলও গত মাসে আফগানিস্তানকে বৈশ্বিক ঋণদাতাদের দেওয়া নতুন জরুরি তহবিল বা বিশেষ অধিকারের ৪৪০ মিলিয়ন ডলার তালেবানকে ব্যবহার করতে বাধা দিচ্ছে।

আইএমএফ-এর প্রাক্তন উপ-পরিচালক এবং বর্তমানে পিটারসন ইনস্টিটিউট ফর ইন্টারন্যাশনাল ইকোনমিক্স-এর ফেলো আদনান মাজারেই বলেছেন, তালেবানরা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার না হওয়া পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র আইনগতভাবে আফগানিস্তানের সম্পদ তালেবানদের হাতে ফেরত দিতে পারে না এবং এর জন্য কয়েক মাস সময় লেগে যেতে পারে। আর তালেবান সরকার স্বীকৃতি পাওয়ার পর বোর্ড ভোট না দেওয়া পর্যন্ত আইএমএফও কাজ করতে পারবে না।

তিনি বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভ সাধারণত নিরুপায় হওয়া ছাড়া কেউ স্পর্শ করে না। এমনকি ইরানও তীব্র আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার মধ্যে সংগ্রাম করা সত্ত্বেও আইএমএফ-এ থাকা তাদের জরুরি রিজার্ভ ব্যবহার করেনি।

আটলান্টিক কাউন্সিলের ট্রেজারি বিভাগের প্রাক্তন কর্মকর্তা ব্রায়ান ও’টুল বলেন, সম্পদ ও অর্থ ফেরত পেলেই আফগানিস্তানের সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে না।

তিনি বলেন, “শুধু এই অর্থ পেলেই আফগান অর্থনীতি স্থিতিশীল হবে না। এতে শুধু তালেবানদের হাতেই বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার যাবে। আমি মনে করি না যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এমনটা করার কোনো আগ্রহ আছে, বা থাকা উচিতও নয়”।