দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌপথে যুক্ত হবে নতুন ফেরি

পদ্মা নদীসহ দেশের বিভিন্ন নৌপথে চলাচলকারী ৫৩টি ফেরির মধ্যে বেশির ভাগেরই চলৎশক্তি প্রায় শেষের পথে। কয়েকটি ফেরি নতুন রয়েছে। যেগুলো বেশি পুরনো সেগুলোর মেয়াদও শেষ হয়েছে।

তবু জোড়াতালি দিয়ে এগুলো চালানো হচ্ছে। অনেক ফেরির বয়স ৪০ বছরের বেশি হয়ে গেছে।

সরকার এই দুরবস্থা থেকে উত্তরণে জরুরি ভিত্তিতে ১২টি শক্তিশালী ফেরি নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে। আর এই নির্মাণ প্রক্রিয়া শেষে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে সংযোজন হবে ৬ থেকে ৮টি নতুন ফেরি।

দেশের ব্যস্ততম ও গুরুত্বপূর্ণ ফেরি ঘাটের মধ্যে একটি এই দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুট। যা দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল ও ঢাকাসহ অন্যান্য জেলাগুলোকে সংযুক্ত করেছে।

ব্যস্ততম এই নৌরুট দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ ও যানবাহন পার হয়। যানবাহন পারাপারের সংখ্যার হিসেব করলে দৌলতদিয়া প্রান্ত ব্যবহার করে প্রতিদিন প্রায় ২ থেকে ৩ হাজার বিভিন্ন যানবাহন পারাপার হয় এই ঘাট দিয়ে।

ব্যস্ততম এই নৌরুটে মোট ফেরি সংখ্যা ২০টি হলেও চলাচল উপযোগী ১৫/১৬টি। বাকি যেসব ফেরি আছে তা বেশির ভাগই বিকল অবস্থায় পাটুরিয়া ঘাটের ডকইয়ার্ড এ মেরামতের জন্য পড়ে থাকে, এ ছাড়াও সচল যেসব ফেরি আছে তা বেশির ভাগই পুরোনো ও মেয়াদ উত্তীর্ণ।

এ সকল ফেরিগুলো অনেক সময় যানবাহন ও যাত্রী নিয়ে বিকল হয়ে পড়ছে মাঝ নদীতে অথবা কোনো যন্ত্রাংশ নষ্ট হলে পাঠিয়ে দেয়া হচ্ছে ডকইয়ার্ডে।

বর্ষা মৌসুমে নদীতে পানি বৃদ্ধি ও তীব্র স্রোত এবং শীত মৌসুমে ঘনকুয়াশায় ফেরিগুলো চলাচলে অনেক বেগ পেতে হয়। ফলাফলস্বরূপ নদীর দুইপারে সৃষ্টি হয় তীব্র যানজট।

বিআইডাব্লিউটিসি সূত্রে জানা যায়, দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটসহ দেশের বেশির ভাগ নৌরুটের ফেরি অনেক বয়স নেই ফিটনেস, ফেরিগুলো বেশির ভাগ নির্মাণ হয়েছে ১৯২৫, ১৯৩৮, ১৯৪৭, ১৯৮৩ ও ১৯৮৬ সালে। এরপরও সেবা কার্যক্রম ঠিক রাখার জন্য এ সব জরাজীর্ণ ফেরি দিয়েই যানবাহন পারাপার করানো হচ্ছে।

১২টি নতুন ফেরি তৈরির কাজ শুরু হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বিআইডাব্লিউটিসির পরিচালক (বাণিজ্য) এস এম আশিকুজ্জামান সাংবাদিকদের বলেন, ‘পর্যায়ক্রমে আগামী বছরের জুনের মধ্যেই সব কটি ফেরি আমরা চালু করতে পারব।

জানা গেছে, নতুন যেসব ফেরি তৈরি করা হচ্ছে সেগুলো বড় ১২টি ট্রাক বা বাস পরিবহন ক্ষমতার।

দেশের তিনটি নৌযান নির্মাণ প্রতিষ্ঠানকে গত জুলাই মাসে এই ফেরি নির্মাণ কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকার কাছেই গজারিয়ায় থ্রি অ্যাঙ্গেল মেরিন লিমিটেডের ডকইয়ার্ডে।

বাকিগুলো তৈরি হবে চট্টগ্রামের কর্ণফুলী ও আনন্দ শিপইয়ার্ডে। কার্যাদেশ পাওয়ার পর এরই মধ্যে প্রাথমিক কাজ শুরু করেছে নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলো।