মানসিক ভারসাম্যহীন নারীকে ধর্ষণ ও হত্যা মামলার আসামি গ্রেপ্তার

গাজীপুরে মানসিক ভারসাম্যহীন নারীকে ধর্ষণের পর হত্যা মামলার আসামি মো. সোলায়মান আলীকে (২২) গ্রেপ্তার করেছে গাজীপুর পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

শনিবার পিবিআইয়ের এসআই মোশারফ হোসেন এই তথ্য নিশ্চিত করেন। গত বৃহস্পতিবার তার শ্বশুর বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

আটক মো. সোলায়মান আলী (২২) নীলফামারী জেলার ডিমলা থানার পূর্ব খড়িবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা।

এসআই মোশারফ হোসেন জানান, গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলার মধ্য পানজোরা এলাকা থেকে গত বছর ২৩ জুন সকালে মানসিক ভারসাম্যহীন নারী তাহমিনা (২৫) নিখোঁজ হন। পরে গত ২৫ জুন নগরভেলা এলাকায় সাহুরঘাট নামক স্থানে বালু নদী হতে অজ্ঞাতনামা হিসেবে ওই নারীর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে নিহতের বোন জাহানারা ওই দিন তার বোন তাহমিনার লাশ শনাক্ত করে।

এ ঘটনায় পানিতে ডুবে তার মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করে কালিগঞ্জ থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়। পরবর্তীতে ময়নাতদন্তের রিপোর্টে পুলিশ জানতে পারে ওই মানসিক ভারসাম্যহীন নারীকে জোরপূর্বক ধর্ষণের পর পানিতে ডুবিয়ে হত্যা করা হয়েছে। পরে এই ঘটনায় কালীগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়।

মামলাটি পিবিআই তদন্ত করে ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে গত বৃহস্পতিবার নীলফামারী থেকে মো. সোলায়মান আলীকে গ্রেপ্তার করে। শুক্রবার গাজীপুর আদালতে তাকে পাঠানো হলে, সে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করে।

আসামির বরাত দিয়ে ওই পুলিশ কর্মকর্তা আরও জানায়, আসামি মো. সোলায়মান এবং তার সহযোগী আসামিরা উলুখোলা কেটুন ইউনিলিভার ফ্যাক্টরিতে সিকিউরিটি গার্ড হিসেবে চাকরি করত। ওই নারী সেখানে চাকরির জন্য যায়। আসামিরা তাকে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে ফ্যাক্টরির পাশে তাদের মেসে নিয়ে যায়। পরে সোলায়মান ও তার সহযোগীরা ওই নারীকে পালাক্রমে ধর্ষণ করে। পরবর্তীতে ধর্ষণের শিকার নারীকে বাসায় পৌঁছে দেয়ার কথা বলে সিএনজিতে করে উলুখোলা ব্রিজে নিয়ে যায়। সেখানে ব্রিজের রেলিংয়ের ওপর থেকে বালু নদীতে ফেলে দিয়ে তাকে হত্যা করে আসামিরা।

মামলার অন্য আসামিদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে বলে জানান ওই পুলিশ কর্মকর্তা।