পার্লামেন্টের আলোচনা পার্লামেন্টের ভেতরেই থাকে: আইজিপি

জাতীয় সংসদের আলোচনার সূত্রে এক সাংবাদিকের করা প্রশ্নের জবাবে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ বলেছেন, যেগুলো পার্লামেন্টে আলোচনা হয় সেগুলো পার্লামেন্টের ভেতরেই থাকে।

রবিবার বিকেলে পুলিশ সদর দপ্তরে আয়োজিত এক অনুষ্ঠান শেষে আইজিপি সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন। এর আগে তিনি পুলিশ সদস্যদের প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন।

উল্লেখ্য, গত শুক্রবার সংসদের অধিবেশনে বিএনপির সাংসদ হারুনুর রশীদ জানতে চান, আলোচিত বোট ক্লাব সরকারের অনুমোদন নিয়ে গড়ে উঠেছে কি না এবং পুলিশের মহাপরিদর্শক সরকারের অনুমতি নিয়ে এই ক্লাবের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন কি না।

সংসদে বোট ক্লাবের সভাপতিত্ব নিয়ে আলোচনার বিষয়টি তুলে ধরে রবিবার আইজিপি বেনজীর আহমেদকে এক সাংবাদিক প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, ‘আমি তো পার্লামেন্ট মেম্বার না, পার্লামেন্টের আলোচনা নিয়ে কি আমার কথা বলা ঠিক হবে? যেগুলো পার্লামেন্টে আলোচনা হয় সেগুলো পার্লামেন্টের ভেতরেই থাকে।

প্রশ্ন করা সাংবাদিককে উদ্দেশ করে আইজিপি বলেন, আপনার ব্যক্তিগত কৌতূহল থাকলে ব্যক্তিগত কৌতূহল মেটানোর জন্য আমরা ব্যবস্থা নেব। কিন্তু পার্লামেন্টের সংসদ সদস্য যে বক্তব্য দিয়েছেন তার পাল্টা উত্তর আইজিপি দেবে না এই কারণে, পার্লামেন্টের কোনো কথার বিষয়ে বক্তব্য বাইরে দেওয়া যায় না, সেটা শোভন নয়, যৌক্তিক নয়।

পুলিশের সব সদস্যের জন্য পদমর্যাদাভিত্তিক প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আইজিপি বেনজীর আহমেদ বলেন, পুলিশের প্রত্যেক সদস্যের জন্য বছরে একবার প্রশিক্ষণের আয়োজন করতে প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দিয়েছেন। নির্দেশনা অনুযায়ী কনস্টেবল থেকে অতিরিক্ত আইজি পর্যন্ত প্রত্যেক পুলিশ সদস্যকে বছরে ন্যূনতম একবার প্রশিক্ষণ নিতে হবে।

আইজিপি বলেন, ‘এ বছর ৬০ হাজার পুলিশ সদস্যের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। আগামী বছর ২ লাখ ১২ হাজার পুলিশ সদস্যের প্রত্যেকের জন্য প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা থাকবে।

কনস্টেবল থেকে অতিরিক্ত আইজি পদমর্যাদার প্রত্যেক পুলিশ সদস্যের বছরে এক সপ্তাহ প্রশিক্ষণের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে প্রশিক্ষণ কোর্স প্রস্তুত করা হয়েছে। এএসপি এবং তদূর্ধ্ব কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ হবে রাজশাহীর সারদায় বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমিতে।

পুলিশ সদর দপ্তরে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন অতিরিক্ত আইজি (এইচআরএম) মো. মাজহারুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত আইজিপি, ঢাকার পুলিশের বিভিন্ন ইউনিট প্রধান এবং ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সকল পুলিশ ইউনিট প্রধানেরা ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠানে যুক্ত ছিলেন।

জানা গেছে, এএসপি এবং তদূর্ধ্ব কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমি (বিপিএ), সারদা, রাজশাহীতে, সাব-ইন্সপেক্টর হতে ইন্সপেক্টর পদমর্যাদার কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ বিপিএ, টিডিএস, টিটিএস, এসটিএস, পিএসটিএসসহ সকল পিটিসি ও ডিএমপি ট্রেনিং একাডেমিতে অনুষ্ঠিত হবে। কনস্টেবল, নায়েক এবং এএসআই পর্যায়ের প্রশিক্ষণ ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারের তত্ত্বাবধানে ৫৫ ভেন্যুতে অনুষ্ঠিত হবে। বিপিএ, পিটিসি, সকল ইনসার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারসহ দেশের ১০৫টি পুলিশ ইউনিটের সকল পদমর্যাদার প্রশিক্ষণ একযোগে শুরু হবে, যা পর্যায়ক্রমে সারা বছর চলমান থাকবে ।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে আইজিপি বলেন, পুলিশ সদস্যদের মধ্যে কেউ কোনো অপরাধ করলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ইচ্ছা করলে তাদের বিরুদ্ধে আমরা বিভাগীয় ব্যবস্থা নিতে পারতাম, ইচ্ছা করলে ঘায়ে ব্যান্ডেজ করতে পারতাম। কিন্তু আমরা এর মধ্যে নেই, এসব একেবারে ক্লিন করতে চাচ্ছি। তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি ফৌজদারি মামলা দেওয়া হচ্ছে। ই-অরেঞ্জের কথিত পৃষ্ঠপোষক বনানী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সোহেল রানার দেশত্যাগে কারওর গাফিলতি আছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

তিনি বলেন, পরিদর্শক সোহেল রানা কীভাবে দেশত্যাগ করল, তার দেশত্যাগে কারও গাফিলতি ছিল কিনা সেসব বিষয়ে আজ সকালে ডিএমপি কমিশনারের সঙ্গে কথা বলেছি। এসব বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ভারতের সঙ্গে আমাদের বন্দী বিনিময় চুক্তি রয়েছে। তাই সোহেল রানাকে ফিরিয়ে আনা সমস্যা হবে না। যেহেতু সোহেল ভারতে একটি মামলার আসামি, সেই প্রক্রিয়া শেষ হলে অবশ্যই বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনা হবে। এটি স্পষ্ট যে সে অবৈধভাবে দেশ ত্যাগ করেছে। তার দেশত্যাগের ঘটনায় কেউ সহায়তা কলে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়া হবে।