দীর্ঘ ২২ বছর ধরে নিখোঁজ আমেনা খাতুন। এ কারণে পরিবারের সদস্যরা ভেবেছিলেন মারা গেছেন তিনি। ফলে তার তিন ছেলে ও এক মেয়ে তাদের ভোটার আইডি কার্ডে মায়ের নামের জায়গায় মৃত আমেনা লিখিয়েছেন। হঠাৎ ২২ বছর পর নেপাল থেকে তাদের জানানো হলো বেঁচে আছেন আমেনা। বয়সের ভারে তিনি তেমন তথ্য দিতে না পারলেও জানিয়েছেন তার গ্রামের ঠিকানা।
সেই সূত্র ধরে প্রায় ৮০ বছরের বৃদ্ধা আমেনা সোমবার ফিরলেন নিজের সন্তানদের কাছে। আর এই ফেরার কাজে সরকারের সহায়তায় সার্বিক তত্ত্বাবধান করে নেপালের বাংলাদেশ অ্যাম্বাসি।
আমেনার নাতি আদিলুর রহমান আদিল জানান, বগুড়ার ধুনট উপজেলার চিকাশী ইউনিয়নের ছোট চাপড়া গ্রামে তাদের বাড়ি। তার বাবারা তিন ভাই, এক বোন। আমজাদ হোসেন, ফটিক মিয়া ও ফরিদ মিয়া নামে তিন ছেলের জন্মের পর আম্বিয়া নামে ছোট মেয়ের জন্মের আগে মানসিক ভারসাম্য হারান আমেনা। তার মেজো ছেলে ফটিক ১৯৯৮ সালে সৌদি আরবে যান। এর কিছুদিন পরই আমেনা বাড়ি থেকে বের হয়ে যান। এরপর আর তার কোনো খোঁজ মেলেনি। দীর্ঘদিন নিখোঁজ থাকায় পরিবারের সবাই ধরে নেয় আর বেঁচে নেই তিনি। এ কারণে আদিলের বাবা-চাচা ও ফুফুর ভোটার আইডি কার্ডেও মায়ের নাম লেখা হয় মৃত হিসেবে। এরপর হঠাৎ তারা জানতে পারেন বেঁচে আছেন তার দাদি।
সোমবার দুপুরে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নেপালের বাংলাদেশ দূতাবাসের কাউন্সিলর মাসুদ আলম আমেনা খাতুনকে তিন ছেলেসহ নাতিদের কাছে হস্তান্তর করেন।
এ সময় বাংলাদেশ দূতাবাসের কাউন্সিলর মাসুদ আলম জানান, গত ৩০ মে নেপালে সুনসারি জেলার সুনসারির মুকেশ মেহতা তার ফেসবুকে ইনারোয়া পৌরসভার ডেপুটি মেয়র যমুনা গৌতম পোখলের তত্ত্বাবধানে উদ্ধার একজন বাংলাদেশি নারী রয়েছেন উল্লেখ করে একটি পোস্ট করেন। নেপাল-বাংলাদেশ ইয়ুথ কনক্লেভের চেয়ারম্যান ওই পোস্টের কমেন্টে দূতাবাসের কাউন্সেলর মাসুদ আলমকে মেনশন করেন। এরপর দূতাবাস থেকে ফোনে আমিনা খাতুনের সঙ্গে কথা বলে ঠিকানা উদ্ধার করা যায়নি। পরবর্তীতে রাষ্ট্রদূত সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরীর পরামর্শে কাউন্সিলর মাসুদ আলম ১ জুন কাঠমান্ডু থেকে প্রায় ৪৫০ কিলোমিটার দূরে সুনসারিতে যান। সেখানে সুনসারি বাঙালি সমাজের সভাপতি বিপ্লব ঘোষের সহায়তায় দীর্ঘসময় আমেনা খাতুনের সঙ্গে কথা বলে তার ঠিকানা উদ্ধার করেন তিনি। এরপর বগুড়া জেলা এনএসআই কর্মকর্তাদের প্রচেষ্টায় আমেনার ঠিকানা ও পরিবারের পরিচয় নিশ্চিত করা হয়। পরে সরকারি খরচে ওই বৃদ্ধাকে দেশে এনে পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
তার বড় ছেলে আমজাদ হোসেন মাকে ফিরে পেয়ে আবেগাপ্লুত।
তিনি মোবাইলে জানান, বিমানবন্দর থেকে তারা বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন।
তিনি বলেন, বলার ভাষা নাই, মা যে এত দিন বাঁচে আছে প্রথমে তা-ই বিশ্বাস হয়নি। ‘ফিরে যায়া কথা বলমো, এখন হামরা খুবই খুশি’।